খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে যুক্তরাষ্ট্রে বিএনপির বিক্ষোভ

বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে ওয়াশিংটনে হোয়াইট হাউস ও যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দফতরের সামনে বিক্ষোভ সমাবেশ করেছে যুক্তরাষ্ট্র বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা।

এসময় দলটির নেতারা বলেন, সরকার একতরফাভাবে নির্বাচনের মাধ্যমে ক্ষমতায় যাবার জন্যই নির্বাচনের বছরে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে কারাগারে পাঠিয়েছে।

তারা আরো বলেন, বেগম জিয়া আপসহীন নেত্রী। গণতন্ত্রের প্রশ্নে বেগম জিয়া কোনো ধরনের আপস করবেন না।

এসময় বক্তারা বাংলাদেশের গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারে আন্তর্জাতিক বিশ্বকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান।

যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন অঙ্গরাজ্য থেকে এসময় দলটি হাজারো নেতাকর্মী ওয়াশিংটনে সমবেত হয়ে মিছিল ও শ্লোগানে মাতিয়ে তুলে হোয়াইট হাউজ ও স্টেট ডিপার্টমেন্ট চত্বর।

সমাবেশে বক্তব্য রাখেন বিক্ষোভ সমাবেশে উপস্থিত ছিলেন যুক্তরাষ্ট্র বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক জিল্লুর রহমান, সাবেক সিনিয়র সহ-সভাপতি গিয়াস আহমেদ, সাবেক সহসভাপতি শরাফত হোসেন বাবু, সাবেক সিনিয়র যুগ্ম সম্পাদক মোস্তফা কামাল পাশা বাবুল, সাবেক কোষাধ্যক্ষ জসিম ভুইয়া,সাবেক যুগ্ম-আহবায়ক মিজানুর রহমান ভুঁইয়া মিল্টন, গিয়াস উদ্দিন, গোলাম ফারুক শাহীন, ফিরোজ আহমেদ, বিএনপি নেতা সেলিম রেজা, সাইদুল হক, কাজী আজম, আব্দুস সবুর, মার্শাল মুরাদ, পারভেজ সাজ্জাদ, মাওলানা ওয়ালিউল্লাহ আতিকুর রহমান, যুবদল সভাপতি জাকির এইচ চৌধুরী, সাধারণ সম্পাদক আবু সাইদ আহমদ প্রমুখ।

এদিকে বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তি ও বাংলাদেশে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার বিষয়ে জাতিসংঘের হস্তক্ষেপ চেয়ে জাতিসংঘের মহাসচিব ও সদস্য রাষ্ট্রসমূহের রাষ্ট্রদূতদের দৃষ্টি আকর্ষণ করে স্মারকলিপি দিয়েছে কানাডাভিত্তিক পিস অ্যান্ড জাস্টিস অ্যালায়েন্সে নামের একটি সংগঠন। স্মারকলিপিতে বাংলাদেশের মানবাধিকার ও গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া সমুন্নত রাখতে জাতিসংঘের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হয়।

এদিকে সোমবার দুপুরে জাতিসংঘের সদর দফতরের নিয়মিত প্রেস ব্রিফিংয়ে বাংলাদেশের এক সাংবাদিক জানতে চান, বেগম খালেদা জিয়ার গ্রেফতারের বাংলাদেশের প্রধান বিরোধী নেত্রী গত দুই সপ্তাহের বেশি সময় ধরে কারান্তরীণ আছেন। বাংলাদেশের ক্ষমতাসীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সম্প্রতি এক সংবাদ সম্মেলনে বলেছেন, ‘বিএনপি প্রধানের কারান্তরীণের বিষয়ে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় থেকে কিছু বলা হয়নি’। মূলত সরকার ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির মতো আরেকটি একতরফা নির্বাচনের পথে অগ্রসর হচ্ছে। এমন বাস্তবতায় চলতি বছরের শেষ দিকে অনুষ্ঠিতব্য নির্বাচনকে অবাধ, নিরপেক্ষ ও অংশগ্রহণমূলক করতে জাতিসংঘ মহাসচিব কি উদ্যোগ নিয়েছেন?

জবাবে মহাসচিবের জ্যেষ্ঠ মুখপাত্র স্টিফেন ডুজারিক বলেন, গ্রেফতারের বিষয়ে ইতোমধ্যে আমরা আমাদের উদ্বেগের কথা জানিয়েছি। এখানে আমাদের অবস্থান অত্যন্ত স্পষ্ট। আগামী নির্বাচনকে অবাধ, নিরপেক্ষ ও অংশগ্রহণমূলক নিশ্চিত করতে জাতিসংঘের অবস্থানের কোনো পরিবর্তন হয়নি।

Leave a Reply

Your email address will not be published.