গণসংযোগের মূল্যায়ন করে পরবর্তী কর্মসূচি দেবে আওয়ামী লীগ

রাজধানীর ঢাকায় সপ্তাহব্যাপী গণসংযোগের মূল্যায়ন করবে আওয়ামী লীগ। এর ভিত্তিতে একটি প্রতিবেদন তৈরি করা হবে। পরে সেটা দলীয় সভাপতি শেখ হাসিনার হাতে তুলে দেয়া হবে। প্রতিবেদনে গণসংযোগের সময় কেন্দ্রীয় নেতাদের কি ধরনের অভিজ্ঞতা হয়েছে তার বিস্তারিত তুলে ধরা হবে। পাশাপাশি তৃণমূলের নেতা-কর্মীরা নির্বাচন নিয়ে কি ভাবছেন, তারা কি ধরনের মতামত দিয়েছেন সেসবও উল্লেখ করা হবে মূল্যায়ন প্রতিবেদনে। অভিনব এ কর্মসূচির মূল্যায়ণ করে পরবর্তী কর্মসূচি ঠিক করা হবে বলে নেতারা জানিয়েছেন।

সপ্তাহব্যাপী গণসংযোগ কর্মসূচির সঙ্গে সম্পৃক্ত দলের কেন্দ্রীয় নেতারা মানবজমিনকে এসব তথ্য জানান। ওই কর্মসূচিতে ওয়ার্ডে ওয়ার্ডে প্রচারণা চালিয়েছেন দলটির নেতারা।

গতকাল ছিল কর্মসূচির শেষ দিন। কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদের নেতৃবৃন্দকে নিয়ে গঠিত ৪টি টিম কর্মসূচি পরিচালনা করেন। দলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব-উল আলম হানিফ, ডা. দীপু মনি, জাহাঙ্গীর কবির নানক ও আব্দুর রহমান টিমগুলোর নেতৃত্ব দেন। সপ্তাহব্যাপী এই কর্মসূচির সমন্বয় করেছেন দপ্তর সম্পাদক ড. আবদুস সোবহান গোলাপ ও প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ। গণসংযোগ প্রসঙ্গে আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আবদুর রহমান মানবজমিনকে বলেন, রাজধানীর অলিগলিতে ঘুরে আমরা দেখেছি, মানুষ নির্বাচন চায়।

উৎসবমুখর পরিবেশে নিজের ভোটটি দিতে চায়। আওয়ামী লীগ সরকারের উন্নয়নে তারা যে খুশি সেটাও আমাদের জানিয়েছে। বর্তমান সরকার আবার নির্বাচিত হয়ে আসুক সেটা আমাদের কর্মসূচিতে জানতে পেরেছি। তিনি বলেন, যে উদ্দেশ্য নিয়ে আওয়ামী লীগ কর্মসূচি পালন করেছে তা শতভাগ সফল বলে আমি মনে করি। বিষয়গুলো নিয়ে শিগগিরই মিটিং করবো। সেখানে নিজেদের অভিজ্ঞতা নিয়ে মূল্যায়ন প্রতিবেদন তৈরি করা হবে। পরে তা তুলে দেবো দলের সভাপতি শেখ হাসিনার হাতে।

একইসঙ্গে দলীয় সভাপতির পরামর্শ নিয়ে পরবর্তী কর্মসূচি কি হতে পারে সেটা র্নিধারণ করা হবে। কর্মসূচির সমন্বয়কের দায়িত্ব পালন করেছেন দলের প্রচার ও প্রকাশনা বিষয়ক সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ। এ প্রসঙ্গে তিনি মানবজমিনকে বলেন, এ ধরনের কর্মসূচির কারণে তৃণমূল নেতাকর্মী থেকে শুরু করে সর্বস্তরে ব্যাপক উদ্দীপনা ও উৎসাহ লক্ষ্য করা গেছে। মূলত নির্বাচনকে টার্গেট করে এ কর্মসূচি। রাজধানীর প্রায় প্রতিটি অঞ্চলের মানুষের কাছে আমরা আওয়ামী রীগের বার্তা পৌঁছে দিতে পেরেছি। সরকারের উন্নয়ন কর্মকাণ্ড তাদের মাঝে তুলে ধরতে পেরেছি। তিনি বলেন, এর আগে আমরা উত্তরাঞ্চলে ট্রেন যাত্রা করেছিলাম। সেখানে ব্যাপক সমর্থন পেয়েছি। পথসভা হয়ে গেছে জনসভা। এবারের কর্মসূচিতেও একই অবস্থা দেখতে পেয়েছি। দলীয় সভাপতির সঙ্গে আলোচনা করে পরবর্তী কর্মসূচি কয়েক দিনের মধ্যেই ঠিক করা হবে।

এদিকে সপ্তাহব্যাপী গণসংযোগ টিমের সদস্য হিসেবে কাজ করেছেন দলের উপ-দপ্তর সম্পাদক ব্যারিস্টার বিপ্লব বড়ুয়া। মানবজমিনকে তিনি বলেন, নির্বাচনকে কেন্দ্র করে এ ধররের বিশেষ গণসংযোগ পরিচালনা করা হয়েছে। দলের কেন্দ্রীয় নেতারা রাজধানীর অলিগলিতে প্রচারণায় অংশ নেয়ায় তৃণমূলের নেতাকর্মীরা ব্যাপক উদ্দীপনা পেয়েছে। সাধারণ মানুষ আওয়ামী লীগের সঙ্গে একাত্মতা দেখিয়েছে। তারা শেখ হাসিনার সরকারকে আবারও ক্ষমতায় দেখতে চায়। দেখতে চায় উন্নয়ন ও গণতন্ত্রের ধারা অব্যাহত থাকুক। তিনি বলেন, সবমিলিয়ে টানা সাতদিন আমরা একটি সফল কর্মসূচি সঠিকভাবে পালন করতে পেরেছি।

আওয়ামী লীগ গঠিত চারটি টিমের মধ্যে মাহবুব উল আলম হানিফের নেতৃত্বে গঠিত টিমে ছিলেন আ.ফ.ম বাহাউদ্দিন নাছিম, একেএম এনামুল হক শামীম, দেলোয়ার হোসেন, ইঞ্জিনিয়ার মো. আবদুস সবুর, অ্যাডভোকেট মৃণাল কান্তি দাস, আমিনুল ইসলাম, এস এম কামাল হোসেন, মির্জা আজম, গোলাম কবির রব্বানী চিনু। ডা. দীপু মনির টিমে ছিলেন, ব্যারিস্টার মহিবুল হাসান চৌধুরী (নওফেল), শামসুন নাহার চাঁপা, অসীম কুমার উকিল, অ্যাড. মো. আমিরুল আলম মিলন, পারভীন জামান কল্পনা, আনোয়ার হোসেন, প্রফেসর মেরিনা জাহান, অ্যাড. এবিএম রিয়াজুল কবীর কাওছার, অধ্যক্ষ রেমন্ড আরেং। জাহাঙ্গীর কবির নানকের টিমে ছিলেন আহমদ হোসেন, খালিদ মাহ্‌্‌মুদ চৌধুরী, ফরিদুন্নাহার লাইলী, সুজিত রায় নন্দী, ফজিলাতুন নেসা ইন্দিরা, মো. আব্দুছ ছাত্তার, ডা. রোকেয়া সুলতানা, নুরুল ইসলাম ঠান্ডু, ইকবাল হোসেন অপু।

আব্দুর রহমানের নেতৃত্বে কাজ করেছেন বি. এম মোজাম্মেল হক, আবু সাঈদ আল মাহমুদ স্বপন, অ্যাড. শ. ম রেজাউল করিম, অ্যাড. আফজাল হোসেন, হাবিবুর রহমান সিরাজ, ব্যারিস্টার বিপ্লব বড়ুয়া, আখতারুজ্জামান, মারুফা আক্তার পপি। এদিকে বিবৃতির মাধ্যমে গণসংযোগ কর্মসূচি পালনের আহ্বান জানান দলের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশের অগ্রযাত্রা অব্যাহত রাখতে দেশবিরোধী ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে সতর্ক থাকুন, উন্নত সমৃদ্ধ বাংলাদেশ বিনির্মাণে জননেত্রী শেখ হাসিনাকে সহযোগিতা করুন’-এই স্লোগানে সারা বাংলাদেশের প্রতিটি ঘরে ঘরে গিয়ে আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীরা এই গণসংযোগ কর্মসূচি পালন করবেন এবং স্থানীয় সংসদ সদস্য, জেলা ও উপজেলা আওয়ামী লীগের নেতৃবৃন্দ এই সকল কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ করবেন। বিবৃতিতে তিনি যেকোনো ধরনের হত্যা, সন্ত্রাস, নাশকতা, ষড়যন্ত্র ও নৈরাজ্যমূলক কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে দেশবাসীকে সচেতন ও সতর্ক থেকে সকল ধরনের ধ্বংসাত্মক তৎপরতা রুখে দাঁড়ানোর জন্য আহ্বান জানান।