গৌরবময় মুক্তিযুদ্ধ : ময়মনসিংহের তারাকান্দা

প্রকাশিত:সোমবার, ০৯ ডিসে ২০১৯ ০৩:১২

গৌরবময় মুক্তিযুদ্ধ : ময়মনসিংহের তারাকান্দা

এম.এ. কাশেম সরকার, প্রতিনিধি তারাকান্দা (ময়মনসিংহ) :
৯ ডিসেম্বর নানা কর্মসূচির মধ্য দিয়ে তারাকান্দা মুক্ত দিবস পালিত হয়েছে। ১৯৭১ সালের এই দিনে মুক্তিবাহিনী ও ভারতীয় বাহিনী যৌথ ভাবে পাকহানাদার বাহিনীর কবল থেকে তারাকান্দাকে মুক্ত করে। প্রতি বছর ৯ ডিসেম্বর তারাকান্দাবাসী যথাযথ মর্যাদায় দিবসটি পালন করে আসছেন।
বাংলাদেশ স্বাধীন করার দৃঢ়প্রত্যয় নিয়ে ১১ নং সেক্টরের এফজে মুক্তিবাহিনী এবং ভারতীয় মিত্র বাহিনীর ১৩ রাজপুত রেজিমেন্ট ও ৯৫ বিগ্রেডের ৫৭ মাউন্ট ডিভিশন যৌথভাবে ময়মনসিংহ অঞ্চলে অবস্থানরত পাকহানাদার বাহিনীর বিরুদ্ধে ১৯৭১ সালের ৩ ডিসেম্বর যুদ্ধের পরিকল্পনা গ্রহণ করে।

পরিকল্পনা বাস্তবায়নের লক্ষ্যে ওই দিনই ক্যাপ্টেন বালজিৎ সিং এর অধিনে মিত্র বাহিনী সিমান্তবর্তী হালুয়াঘাটে পাক বাহিনীর উপর আক্রমণ শুরু করে। মিত্র বাহিনীর বিমান থেকে শত্র“পক্ষের ব্যাংকার লক্ষ্য করে দিনব্যাপী একের পর এক রকেট হামলা চালানো হয়। এতে পাকহানাদার বাহিনী টিকতে না পেরে পিছু হটতে শুরু করে। পরদিন ৪ ডিসেম্বর বিগ্রেডিয়ার সামসিংহ বাবাজির নেতৃত্বে মিত্র বাহিনী ও মুক্তিযোদ্ধারা প্রথমে ভারতীয় সিমান্তবর্তী হালুয়াট শত্র“মুক্ত করে। পাকহানাদার বাহিনী পিছু হটে ফুলপুর, তারাকান্দা ছেড়ে ময়মনসিংহ সদরের উদ্দেশ্যে রওনা দেয়।

পাকহানাদার বাহিনী পালানো সময় ময়মনসিংহ হালুয়াঘাট সড়কের তারাকান্দার ব্রীজটি ধ্বংস করে দেয়। মুক্তিযোদ্ধা ও মিত্র বাহিনীর সদস্যরা অতি সাবধানতার সঙ্গে পাক বাহিনীর আস্তানার দিকে এগুতে শুরু করে। পরিস্থিতি সামাল দিতে না পেরে ৯ ডিসেম্বর পাক বাহিনী পর্যায়ক্রমে ফুলপুর-তারাকান্দা ছেড়ে ময়মনসিংহ অতপর ময়মনসিংহ ছেড়ে টাঙ্গাইল জেলার ভেতর দিয়ে ঢাকা পালিয়ে যায়। এখবর ছড়িয়ে পড়ার সাথে সাথে তারাকান্দায় বিজয় উৎল্লাস শুরু হয়। জনতা রাস্তার দু’পাশে দাড়িয়ে বীরমুক্তিযোদ্ধাদের অভিনন্দ জানায়।

দিবসটি পালনে উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে উপজেলা নির্বাহী অফিসার চিত্রা শিকারী, উপজেলা চেয়ারম্যান আলহাজ্ব এড. ফজলুল হক, আওয়ামীলীগ সভাপতি বাবু প্রদীপ কুমার চক্রবর্তী, সাধারণ সম্পদাক বাবুল মিয়া সরকার, সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শামছুল আলাম, উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম নয়ন প্রমূখের নেতৃত্বে থানা চত্তর থেকে এক বিশাল র‌্যালী প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে পরে এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয় এবং বিকালে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান করা হয়। উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের পক্ষেও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।

এই সংবাদটি 1,225 বার পড়া হয়েছে

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন।
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •