গ্রামীণ-রবির পাওনা নিয়ে আদালতের সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত

প্রকাশিত:বৃহস্পতিবার, ৩১ অক্টো ২০১৯ ০২:১০

গ্রামীণ-রবির পাওনা নিয়ে আদালতের সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত

বেসরকারি মোবাইল অপারেটর গ্রামীণফোন ও রবির সঙ্গে সরকারের পাওনা অর্থ আদায়ের বিষয়টি আদালতেই নিস্পন্ন হবে। আমি আলোচনার মাধ্যমে সমস্যা সমাধানের চেষ্টা করেছি কিন্তু তাদের সহযোগিতা পাইনি। আদালত যে রায় দেবে, সেটাই সবার মানতে হবে’ বলে মন্তব্য করেছেন অর্থমন্ত্রী আহমা মুস্তফা কামাল।

 

বুধবার সচিবালয়ে সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি ও অর্থনৈতিক বিষয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠক শেষে অর্থমন্ত্রী এ কথা বলেন। সে সময় কৃষিমন্ত্রী ড. আব্দুর রাজ্জাক ও মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের অতিরিক্ত সচিব মোসাম্মৎ নাসিমা বেগম উপস্থিত ছিলেন।

 

গ্রামীণ ফোন ও রবির কাছে সরকারের পাওনা অর্থ আদায় প্রসঙ্গে অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘আমি আশা করেছিলাম যে, গ্রামীণ ফোন ও রবির কাছে সরকারের পাওনা টাকা আদায়ের বিষয়টি আদালতের বাইরে মীমাংশা করা সম্ভব হবে। এ নিয়ে মোবাইল অপারেটর দু’টির সঙ্গে বেশ কয়েক দফা আলোচনাও হয়েছে। বৈঠকগুলোতে দুই মোবাইল অপারেটরের প্রতিনিধি, এনবিআর চেয়ারম্যান, বিটিআরসি’র প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।’

 

তিনি আরো বলেন, ‘আদালতের বাইরে আলোচনার মাধ্যমে সমস্যা সমাধান করা হলে আইনের দীর্ঘসূত্র এড়ানো যেত। এ কারণে তাদের আমি বলেছিলাম পাওনা টাকার একটি অংশ পরিশোধ করতে। পাশাপাশি আলোচনা চালিয়ে যাওয়ার জন্য। কিন্তু মোবাইল অপারেটর দু’টি তাতে আগ্রহ দেখায়নি। পরবর্তীতে তারা আদালতের স্মরণাপন্ন হয়েছে। এখন বিষয়টি সম্পূর্ণভাবে আদালতের উপর নির্ভর করছে। এ নিয়ে আর কোনো মন্তব্য না করাই ভাল।’

 

এর আগে গত ১৮ সেপ্টেম্বর অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল জানিয়েছিলেন যে গ্রামীণফোন ও রবির সঙ্গে বিটিআরসির বকেয়া পাওনা নিয়ে যে বিরোধ চলছে তা আলোচনার মাধ্যমে দুই থেকে তিন সপ্তাহের মধ্যে সমাধান করা হবে।

 

উল্লেখ্য, বিটিআরসির নিরীক্ষা অনুযায়ী, গ্রামীণফোনের কাছে সরকারের পাওনা ১২ হাজার ৫৭৯ কোটি ৯৫ লাখ টাকা। যার মধ্যে চার হাজার ৮৫ কোটি ৯৫ লাখ টাকা পাবে এনবিআর। অন্যদিকে, রবির কাছে পাওনা রয়েছে ৮৬৭ কোটি ২৩ লাখ টাকা। এতে এনবিআরের অংশ ১৯৭ কোটি ২১ লাখ টাকা।

 

এর প্রেক্ষিতে নিরীক্ষা প্রতিবেদনকে ভুল দাবি করে বিটিআরসির বিরুদ্ধে গ্রামীণ ফোন ও রবি ঢাকার দেওয়ানি আদালতে যথাক্রমে ২৬ ও ২৫ আগস্ট মামলা করে। বকেয়া পাওনা পরিশোধ না করায় গ্রামীণ ফোন ও রবির টু-জি ও থ্রি-জি লাইসেন্স কেন বাতিল করা হবে না তা জানতে চেয়ে ৫ সেপ্টেম্বর কারণ দর্শানোর নোটিশ দেয় বিটিআরসি।

 

এর আগে সংস্থাটি অপারেটর দু’টিকে নতুন এনওসি (অনাপত্তিপত্র) দেয়া বন্ধ করে দেয়। তবে পরে সে সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসে তারা।

 

এদিকে, গ্রামীণ ফোনের কাছ থেকে পাওনা আদায়ের ওপর দুই মাসের নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে হাইকোর্ট। নিম্ন আদালতের আদেশের বিরুদ্ধে গ্রামীণ ফোনের করা এক আপিল শুনানির জন্য গ্রহণ করে বৃহস্পতিবার বিচারপতি এ কে এম আবদুল হাকিম ও বিচারপতি ফাতেমা নজীবের সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ অন্তবর্তীকালীন এ আদেশ দেয়। সেই সাথে আদালত আগামী ৫ নভেম্বর আপিল শুনানির জন্য দিন ধার্য করেন। সেই প্রেক্ষিতেই বিষয়টি এখন আদালত নির্ধারণ করবে বলে জানান অর্থমন্ত্রী।

এই সংবাদটি 1,225 বার পড়া হয়েছে

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন।
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •