ঘূর্ণিঝড় আম্পানে বন্দর কর্তৃপক্ষসহ প্রশাসনের প্রস্তুতি

প্রকাশিত: ১১:২৩ অপরাহ্ণ, মে ১৯, ২০২০

 

মোংলা (বাগেরহাট) :
ঘূণিঝড় আম্পান যতই মোংলা বন্দরের কাছাকাছি এগিয়ে আসছে ততোই উপকূলের আকাশ মেঘাচ্ছন্ন হচ্ছে। মঙ্গলবার সকালেও কড়া রৌদ্রজ্জল আবহাওয়া বিরাজ করে। এরপর বেলা বাড়ার সাথে সাথে আকাশ মেঘাচ্ছন্ন আসে। এরপর দুপুর দেড়টার দিকে শুরু হয় গুড়ি গুড়ি বৃষ্টি। গুড়ি গুড়ি বৃষ্টির পাশাপাশি মাঝে মাঝে হচ্ছে মাঝারি ধরণের বৃষ্টিপাতও। বৃষ্টির কারণে গুমট ভ্যাপসা গরম কমে পরিবেশ কিছুটা ঠান্ডা হয়েছে। আকাশ অন্ধকার হয়ে আসায় স্থানীয়দের মাঝে ঘূর্ণিঝড়ের কিছুটা ভীতি দেখা দিয়েছে। তবে রাস্তাঘাটে সাধারণ লোকজনের চলাফেরা এখন স্বাভাবিক রয়েছে। এেিদক আশ্রয় কেন্দ্র প্রস্তুত রাখা হলেও কেউ এখনও আশ্রয় কেন্দ্রে যাওয়া শুরু করেনি। স্থানীয়রা বলছেন, এখন যেয়ে কি করবো, ঝড়তো শুরু হয়নি, ঝড় আসুক দেখি কি হয়, তারপর যাবো আশ্রয় কেন্দ্রে। আবার কেউ কেউ বলছেন, এই মুহূর্তে আশ্রয় কেন্দ্রে যেতে ভয় লাগছে, কারণ করোনাভাইরাস ছড়াতে পারে। আশ্রয় কেন্দ্রে বিভিন্ন জায়গা থেকে লোকজন আসবে কার ভিতরে কি আছে তাতো কেউ জানেনা। ঝড়ে যা হয় হোক করোনা থেকে তো বাঁচা যাবে।
মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান রিয়ার এডমিরাল এম শাহজাহান ঘূর্ণিঝড় মোকাবেলার বিষয়ে বলেন, ৭ নম্বর বিপদ সংকেত জারির পর বন্দর কর্তৃপক্ষের নিজস্ব এলার্ট থ্রি জারি করা হয়েছে। এবং বন্দরে যে ১০টি বিদেশী জাহাজের অবস্থান রয়েছে সেগুলোর কাজ বন্ধ রেখে নিরাপদে সরিয়ে রাখা হয়েছে। বন্দরের নিজস্ব নৌযানগুলো নিরাপদে রাখার পাশাপাশি পশুর চ্যানেলের সকল নৌযানকে অন্যত্র নিরাপদে থাকার জন্য বলা হয়েছে। এছাড়া বন্দর জেটিতে নৌ বাহিনী ও কোস্ট গার্ডের ৮টি যুদ্ধ জাহাজ অবস্থান নিয়েছে। সব মিলিয়ে সকল প্রস্তুতি ও ঘূর্ণিঝড় পরবর্তী পরিস্থিতি মোকাবেলায় বন্দর কর্তৃপক্ষ প্রস্তুত রয়েছে বলেও জানান তিনি।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো: রাহাত মান্নান ও উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মো: নাহিদুজ্জামান বলেন, এখানকার ৮৪টি আশ্রয় কেন্দ্রসহ বহুতল বিশিষ্ট শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোকে আশ্রয় কেন্দ্র হিসেবে প্রস্তুত রাখা হয়েছে। সব মিলিয়ে মোট আশ্রয় কেন্দ্রের সংখ্যা ১০৩টি। এছাড়া জনসাধারণকে সচেতন ও আশ্রয় কেন্দ্রমুখী করতে ১১শ সে¦চ্ছাসেবক কাজ করছে।
পৌর কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে চালানো হচ্ছে ঘূর্ণিঝড়ের সর্তকবার্তার ব্যাপক প্রচারণা। বন্দর কর্তৃপক্ষ, পৌরসভা ও উপজেলা প্রশাসন পৃথম কন্ট্রোল রুমের মাধ্যমে ঘূর্ণিঝড়ের প্রস্তুতি ও প্রচারণা চালাচ্ছেন। পৌর মেয়র আলহাজ্ব মো: জুলফিকার আলী বলেন, পৌরসভার ডিজিটাল কেন্দ্র হতে প্রতিনিয়ত প্রচারণা চালানো হচ্ছে। এছাড়া পৌর এলাকার মধ্যকার আশ্রয় কেন্দ্রগুলো ধুুয়ে মুছে পরিস্কারের পাশাপাশি খোলা রাখা হয়েছে। আশ্রয় কেন্দ্রে আগতরা যাতে সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে অবস্থান করে সেদিকেও লক্ষ্য রাখা হচ্ছে।
পূর্ব সুন্দরবনের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা মো: বেলায়েত হোসেন বলেন, সুন্দরবনে অভ্যন্তরে থাকা প্রায় দুই হাজার জেলে ইতিমধ্যে বনের বিভিন্ন নদী খালে নিরাপদে আশ্রয় নিয়েছে। এছাড়া বনের দুর্গম এলাকায় যে সকল বন কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা তাদেরকে সুবিধাজনক পাশ্ববর্তী অফিস ভবনে আশ্রয় নেয়ার জন্য বলা হয়েছে।

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন।
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •