চকরিয়া রুপচাঁদার পরিচয়ে মানুষখেকো পিরানহা

প্রকাশিত:বৃহস্পতিবার, ০৯ জুলা ২০২০ ০৭:০৭

চকরিয়া রুপচাঁদার পরিচয়ে মানুষখেকো পিরানহা

এম জাহেদ চৌধুরী, চকরিয়া(কক্সবাজার):
বিক্রয় নিষিদ্ধ মাংসাশী রাক্ষুসে মাছ পিরানহা প্রকাশ্যে বিকিকিনি হচ্ছে কক্সবাজারের চকরিয়ায়। থাই রুপচাঁদা নাম দিয়েই বিক্রি হচ্ছে অবাধে।
মাছ ব্যবসায়ীরা জানায়, চকরিয়ার উপকূলীয় এলাকার দু’একটি পুকুরে গোপনে স্বল্প পরিসরে পিরানহা চাষ হতে পারে। তবে ময়মনসিংহ সহ উত্তরবঙ্গের কয়েকটি জেলায় প্রশাসনের অগোচরে নিজেদের অজ্ঞতায় এই মাছের চাষ করে কতিপয় মৎস্য চাষি। সেখানে উৎপাদিত পিরানহা দেশব্যাপী ছড়িয়ে পড়ছিল একযুগ পূর্বে।
রাক্ষুসে মাছ পিরানহা ২০০৮ সালের ফেব্রুয়ারী থেকে বিক্রয় নিষিদ্ধের তালিকাভুক্ত হয়। বিদেশী এই পিরানহা মাছ দেশীয় মাছ ও অন্যান্য জলজ জীবকূলের জন্য বিপদজনক ও এটি জলজ পরিবেশের সবকিছুকে উজাড় করতে সক্ষম হওয়ায় সংসদে উত্তাপন পূর্বক এই মাছ নিষিদ্ধ করা হয়।
এই নিষিদ্ধ পিরানহা’ই কয়েকমাস ধরে চকরিয়ার চোঁয়ারফাড়ী,কোণাখালী, চকরিয়া পৌরসভা সহ উপজেলার বিভিন্ন ছোট-বড় বাজার ছাড়াও অলিগলি এবং পাড়া-মহল্লায় বিক্রি হচ্ছে। দামে সস্তা ও রুপচাঁদার জাত মনে করে মানুষও কিনছে এই মাছ।
মৎস্য বিশেষজ্ঞদের সূত্রমতে, পিরানহা হলো ঈযধৎধপরফধব গোত্রের এক প্রকার মিষ্টি পানির মাছের সাধারণ নাম। এদের আদি নিবাস দক্ষিণ আমেরিকা। ভেনিজুয়েলাতে এদেরকে বলা হয় কারিবেস (পধৎরনবং)। তীক্ষ্ণ দাঁত যুক্ত রাক্ষুসে মাছ হিসাবে এদের কুখ্যাতি আছে।
সাধারণত পিরানহা পাওয়া যায় দক্ষিণ আমেরিকার ওরিনকো, আমাজান সাও ফ্রান্সিসকো নদীর অববাহিকায় এদের সবচেয়ে বেশি পাওয়া যায়। যদিও শীতল পানিতে এরা বাঁচে না, তারপরেও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের উইনেবাগো এবং উইসকোনসিন হ্রদেও এই মাছ দেখা পাওয়া যায়
এদের কিছু প্রজাতি এ্যাকুইরিয়ামে পালা হয়। বিভিন্ন সৌখিন মৎস্য প্রেমিকের দ্বারা এই মাছ পৃথিবীর অন্যান্য অঞ্চলেও ছড়িয়ে পড়েছে। যেমন বাংলাদেশের কাপ্তাই হ্রদ এবং অন্যান্য জলাশয়ে এই মাছ কিছু কিছু ধরা পড়ছে। বাংলাদেশে অসৎ মৎস্য ব্যবসায়ী থাই রূপচাঁদা নামে এই মাছ বাজারে বিক্রয় করে থাকে। বাংলাদেশে এই মাছের চাষ বা বিক্রয় নিষিদ্ধ।
সাধারণত ঝবৎৎধংধষসরহধব উপগোত্রের পাঁচটি গণের মাছকে পিরানহা নামে অভিহিত করা হয়। এই গণগুলো হলো- ঈধঃড়ঢ়ৎরড়হ, চৎরংঃড়নৎুপড়হ, চুমড়পবহঃৎঁং, চুমড়ঢ়ৎরংঃরং, ঝবৎৎধংধষসঁং।
এর অপর গণ গবমধঢ়রৎধহযধ-এর প্রজাতিগুলো— ৮০ লক্ষ বৎসর থেকে ১ কোটি বৎসর আগে বিলুপ্ত হয়ে গেছে। এই মাছগুলো বসবাস করতো সেই সময়ের আর্জেন্টিনা অঞ্চলে। এই প্রজাতিগুলো লম্বায় প্রায় ১ মিটার হতো। এই বিচারে এরা ছিল আধুনিক পিরানহার প্রায় ৪গুণ। এর প্রিম্যাক্সিলা এবং দাঁতের জীবাশ্ম থেকে বিজ্ঞানীরা এরূপ ধারণ করেছেন। ধারণা করা হয়, বিলুপ্ত এই প্রজাতিগুলো আধুনিক পিরানহার একটি মধ্যবর্তী দশার মাছ ছিল।
সূত্রমতে, প্রজাতিভেদে পিরানহার দৈহিক আকার নানা রকমের হয়ে থাকে। সাধারণত লম্বায় ১৪-২৬ সেন্টিমিটার হয়ে থাকে। তবে সর্বোচ্চ ৪৩ সেন্টিমিটার দৈর্ঘ্যের পিরানহাও দেখা গেছে। এই পিরানহার দাঁত থাকে দুই সারিতে। এছাড়া উপরের চোয়ালের গঠন ও অন্যান্য চারটি গণের পিরাহানর মতো নয়। এরা এককভাবে বা দলবদ্ধভাবে আক্রমণ করে। অন্যান্য মাংসাশী প্রাণীদের মতো এরা শিকারকে হত্যা করে খায় না। বরং খেতে খেতে শিকারকে হত্যা করে।
বাংলাদেশে কিছু অসৎ মৎস ব্যবসায়ী থাই রূপচাঁদা নামে এই মাছ বাজারে বিক্রয় করে। কিন্তু ক্রেতারা একটু পরখ করে নিলেই এই জাতীয় প্রতারণা থেকে রক্ষা পেতে পারেন।
চকরিয়ায় নিষিদ্ধ পিরানহা মাছ বিক্রয় নিয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সৈয়দ শামসুল তাবরীজ বলেন, বিষয়টি আজ ( মঙ্গলবার) আমাদের দৃষ্টিগোচর হয়েছে। বুধবার ৮ জুলাই ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান চালিয়ে পিরানহা বিকিকিনি বন্ধ করা ছাড়াও সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।

এই সংবাদটি 1,228 বার পড়া হয়েছে

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন।
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •