চাঁদপুর সেচ প্রকল্পের কোয়ার্টার বহিরাগতদের দখলে !

প্রকাশিত:মঙ্গলবার, ০৭ জুলা ২০২০ ১২:০৭

তাবারক হোসেন আজাদ, রায়পুর (লক্ষ্মীপুর)
পানি উন্নয়ন বোর্ডের চাঁদপুর সেচ প্রকল্পের অধীনে লক্ষ্মীপুরের রায়পুরে স্থাপিত বিভিন্ন শ্রেণির বাসা-বাড়ি ও ওয়ার্কশপ বহিরাগতরা দখল করে রেখেছে। সংশ্লিষ্ট বিভাগের নিয়ন্ত্রণ না থাকায় পাউবোর এসব কোয়ার্টার এক শ্রেণির ব্যক্তি ভাড়া দিয়ে কিংবা অন্যত্র বিক্রি করে মোটা অংকের বাণিজ্য করে আসছে। এ অবস্থা দীর্ঘদিন ধরে চলে আসলেও সংশ্লিষ্ট কর্তা ব্যক্তিরা কোনো পদক্ষেপ নিচ্ছে না। উপরন্তু পাউবোর নির্লিপ্ততার সুযোগে বাসাবাড়ি নানা ব্যক্তিতে হাত বদল নিয়ে হচ্ছে ঝগড়া এমনকি মারামারিও।
লক্ষ্মীপুর, রায়পুর, রামগন্জ ও ফরিদগন্জ উপজেলার ১শ’ বর্গকিলোমিটার এলাকা নিয়ে গঠিত দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম সেচ প্রকল্প, যা চাঁদপুর সেচ প্রকল্প নামে পরিচিত। জনবল সংকটের পাশাপাশি অর্থাভাবে এ সেচ প্রকল্পের বিশাল এলাকা নিয়ন্ত্রণহীন হয়ে যাওয়ায় বেদখল হয়ে যাওয়ার ঘটনাটি ঘটছে। এই প্রকল্পের ভিতরে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য যেসব আবাসিক কোয়ার্টার ও রেস্ট হাউজ রয়েছে এর দুই তৃতীয়াংশ এখন সিএনজি ষ্টেশন ও বহিরাগতদের দখলে।
প্রকল্পের রায়পুর ও রামগঞ্জে স্থাপিত কোয়ার্টারগুলোতে বসবাসকারীরা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বাসা ভাড়া নেয়ার বরাদ্দ চেয়ে আবেদন করেই সেখানে বসবাস করে আসছেন। রহস্যজনক কারণে ২০১৫ সালের পর থেকে এসব বাসার নিবাসীদের কাছ থেকে ভাড়া আদায় বন্ধ রয়েছে। এর ফলে সরকার বিপুল অংকের রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হয়ে আসছে। পূর্বে বেড়িবাঁধের সাথে থাকা বিশাল বরোফিট খাল ও জলাশয় লীজ দেয়া হতো। তাও দীর্ঘদিন যাবৎ বন্ধ রয়েছে। রামগঞ্জ ও রায়পুরে পাউবোর রেস্ট হাউজ এখন সিএনজি অটোরিক্সা স্ট্যান্ডে পরিণত হয়েছে। রায়পুর ও, রামগঞ্জ স্থাপিত পাউবোর বিভিন্ন প্রকৃতির প্রায় ৪০টি কোয়ার্টারে বিভিন্ন শ্রেণি ও পেশার বহিরাগতরা বসবাস করে আসছে।
এদের একজন রং মিস্তরি মহিউদ্দিন রায়পুরের ডি টাইপের একটি কোয়ার্টারে দীর্ঘ এক যুগ ধরে দখল করে আছেন। কিভাবে থাকছেন জানতে চাইলে তিনি বলেন, গত ৫ বছর আগে কোন কর্মকর্তা ছিলেন না। বাড়ীর সামনে পাউবোর অফিস হওয়ায় দুটি কক্ষে রংয়ের কাজ করছি। । তারপরও যে সিদ্ধান্ত হয় আমি তা মেনে নেব। একইভাবে রায়পুরে বিএনপি নেতা ও মহিলা কলেজের অফিস সহকারি জাকির হোসেন তার স্ত্রী পৌরসভার কর্মচারির নামে আবেদন করা একটি বাসায় দীর্ঘদিন ধরে আছেন স্ব-পরিবারে। পাউবোর পূবের ভাড়া অনেক বকেয়া রয়েছে তার। তার মতো আরো একাধিক বহিরাগত পরিবারও রয়েছে।
এ বিষয়ে জাকির হোসেন জানান, ‘বাসা ভাড়া আমরা পর্যায়ক্রমে পরিশোধ করছি। আর ওয়ার্কশপটি পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়েছিল এবং অন্যরা দখল করে নিতে চেয়েছিল। আমি এটিকে সংস্কার করে ব্যবহার করছি। তারপরও পানি উন্নয়ন বোর্ড যে সিদ্ধান্ত নেয় তাতে কোনো আপত্তি থাকবে না।’
পাউবোর রায়পুর অফিসের এসও মোঃ সাকিল মোবাইল ফোনে জানান, আমি একজনই রায়পুর, হাজিমারা ও রামগন্জ অফিসের দায়িত্ব পালন করছি। রায়পুর অফিসের নিরাপত্তা ও ভবনের কক্ষ দখলে বহিরাগত ঠেকাতে গত কয়েকদিন ধরে গেইট ও নিরাপত্তা বেষ্টনি নির্মান করা হচ্ছে। বহিরাগত উচ্ছেদ ও দখল উচ্ছেদে নির্বাহী প্রকৌশলী স্যারের সাথে কথা বলে সহসাই অভিযান করা হবে।
চাঁদপুর সেচ প্রকল্পের নির্বাহী প্রকৌশলী বাবুল আক্তার মোবাইলে- জানান, লীজ বন্ধ থাকার ফলে নানা সমস্যার কথা স্বীকার করেন। তিনি জানান, চাঁদপুর সেচ প্রকল্পে বিভিন্ন কোয়ার্টার খালি পড়ে থাকলে কোয়ার্টারের জিনিসপত্র নষ্ট হয়ে যায়। আবার কোন প্রকার রাজস্ব আদায় ছাড়া কোয়ার্টারগুলো বেদখলে থাকা এটাও ঠিক নয়। কিভাবে একটি সুনির্দিষ্ট নীতিমালার আওতায় এনে সরকারের রাজস্ব আদায় করা যায় তার ব্যাপারে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে অবহিত করেছেন।

এই সংবাদটি 1,226 বার পড়া হয়েছে

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন।
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •