চাল চুরি ঠেকাতে কার্ডের রং বদল

প্রকাশিত: ১১:২০ অপরাহ্ণ, মে ১৮, ২০২০

চাল চুরি ঠেকাতে কার্ডের রং বদল

গৌরীপুর (ময়মনসিংহ) :
ময়মনসিংহের গৌরীপুরে খাদ্য বান্ধব কর্মসূচী ১০টাকা কেজির চাল চুরি ঠেকাতে কার্ডের রং বদর করা হয়েছে। সবুজ রং এর কার্ড বাতিল করে এবার দেয়া হচ্ছে গোলাপী রং এর কার্ড। সোমবার আনুষ্ঠানিকভাবে সুবিধাভোগীদের হাতে নতুন রং এর কার্ড তোলে দেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার সেঁজুতি ধর।
এ উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন গৌরীপুর মানবাধিকর কমিশনের সাধারণ সম্পাদক মোঃ রইছ উদ্দিন বলেন, চাল চুরি ঠেকাতে প্রশাসনের এটি একটি ভাল উদ্যোগ। তালিকা দিবে জনপ্রতিনিধি, কার্ড পৌঁছে দিবে প্রশাসন।
উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক বিপ্লব সরকার জানান, ১০টি ইউনিয়নের ২০হাজার ৮১৩জন কার্ডধারীকেই গোলাপী কার্ড প্রদান করা হবে। প্রত্যেক কার্ডধারীকে মাসে ৩০কেজি করে চাল দেয়া হচ্ছে। এ হিসেবে প্রতিমাসে মইলাকান্দা ইউনিয়নে ২০২৮ জন পাবে ৬০.৮ মে. টন চাল, ২নং গৌরীপুর ইউনিয়নে ১৯৪২ জন পাবে ৫৮.২৬মে. টন চাল, অচিন্তপুর ইউনিয়নে ২০৩৪ জন পাবে ৬১.০২মে. টন চাল, মাওহা ইউনিয়নে ১৯৪৭ জন পাবে ৫৮.৪১মে. টন চাল, সহনাটী ইউনিয়নে ২০৯৬ জন পাবে ৬২.৮৮মে. টন চাল, বোকাইনগর ইউনিয়নে ২২০৩ জন পাবে ৬৬.০৯মে. টন চাল, রামগোপালপুর ইউনিয়নে ২৩৮৮ জন পাবে ৭১.৬৪মে. টন চাল, ডৌহাখলা ইউনিয়নে ২২৪৫ জন পাবে ৬৭.৩৫মে. টন চাল, ভাংনামারী ইউনিয়নে ১৯০৯ জন পাবে ৫৭.২৭মে. টন চাল ও সিধলা ইউনিয়নে ১৯৫৬জন পাবে ৫৮.৬৮মে. টন চাল। সারা উপজেলায় প্রতিমাসে ৬২৪.৩ মে. টন করে বছরে ৩হাজার ১২১.৯৫মে. টন চাল বিতরণ করা হবে।
উপজেলা প্রশাসন, কার্ডধারী এবং ডিলারদের সূত্রে জানা যায়, ইতিপূর্বে সবুজ রঙের কার্ডে চাল বিতরণ করা হতো। তালিকায় নাম থাকলেও কার্ডধারীদের হাতে কার্ড ছিলো না, অনেক এলাকায় ছিলো ভুয়াকার্ডধারীও। এসব কার্ডের চাল চেয়ারম্যান, মেম্বার ও ডিলারদের যোগসাজশে কালোবাজারে বিক্রি করা হতো। এই অনিয়ম ঠেকাতে সবুজ রঙের কার্ড বাতিল করে গোলাপী রং এর কার্ড চালু করেছেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার সেঁজুতি ধর। তদারকি কর্মকর্তার মাধ্যমে সরাসরি কার্ডধারীর হাতে গোলাপী রঙের কার্ড পৌঁছে দেয়া হচ্ছে। যাদের হাতে সবুজ কার্ড নেই তারা ভোটার আইডি কার্ডের ফটোকপি জমা দিয়ে গোলাপী কার্ড নিয়ে যাচ্ছে। কার্ডধারী ব্যতিত একজনকেও কার্ড দেয়া হচ্ছেনা।
গৌরীপুর থানা সূত্রে জানা যায়, খাদ্য বান্ধব কর্মসূচীর চাল চুরির ঘটনায় ৩টি মামলা হয়েছে। মাওহা ইউনিয়নের ভূটিয়ারকোনা বাজারের চাল ব্যবসায়ী ফজলু মুনশীর দোকান থেকে ৩হাজার ৩৫০ কেজি এবং চাল ব্যবসায়ী আজাহারুল ইসলামের ঘর থেকে ১হাজার ২৫০ কেজি চাল উদ্ধার ও তাকে গ্রেফতার, কালোবাজারে চাল বিক্রির অভিযোগে বোকাইনগর ইউনিয়নের ডিলার মোঃ মাহবুবুর রহমান শাহিন, মহেষ রাজবর, রফিককে গ্রেফতার করে পুলিশ। মামলা ৩টি দায়ের করেন উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক বিপ্লব সরকার। এছাড়াও ২নং গৌরীপুর ইউনিয়নে কার্ডধারীরা চাল বঞ্চিত হওয়ার ঘটনায় ডিলার রুকনুজ্জামান পল্লবের ডিলারশীপ বাতিল করে উপজেলা প্রশাসন।
অপরদিকে উপজেলার মাওহা ইউনিয়ন ও অচিন্তপুর ইউনিয়নের চাল বঞ্চিত কার্ডধারীরা জেলা প্রশাসক বরাবরে ২৭এপ্রিল ৩টি অভিযোগ দায়ের করে। অভিযোগ তদন্তে উপজেলা যুব উন্নয়ন অফিসার নন্দন কুমার দেবনাথকে প্রধান ও উপজেলা পল্লী উন্নয়ন অফিসার মোহাম্মদ উল্লাহ পারভেজ, উপজেলা জনস্বাস্থ্য উপসহকারী প্রকৌশলী মোঃ আব্দুল মান্নানকে সদস্য করে তদন্ত কমিটি গঠন করে উপজেলা প্রশাসন।
কমিটির প্রধান নন্দন কুমার দেবনাথ জানান, অচিন্তপুর ইউনিয়নের তদন্ত প্রতিবেদন ১১মে উপজেলা নির্বাহী অফিসারের নিকট হস্তান্তর করা হয়েছে। মাওহা ইউনিয়নের তদন্ত কার্যক্রম চলছে।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার সেঁজুতি ধর জানান, গোলাপী কার্ড সরাসরি কার্ডধারীদের হাতে দেয়া হচ্ছে। গোলাপী কার্ড ছাড়া কেউ চাল তুলতে পারবে না। এবার শুধুমাত্র কার্ডধারীরাই সরাসরি চাল তুলতে পারবেন।

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন।
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •