চুয়াডাঙ্গায় মোটরযান লাইন্সেসের টাকা জমা নেয়া বন্ধ ॥ বিপাকে গাড়ী মালিক ॥ কর্তৃপক্ষ উদাসিন

প্রকাশিত:বৃহস্পতিবার, ১১ আগ ২০১৬ ০৮:০৮

Chuadanga pic brta 11-08-16 (1)
চুয়াডাঙ্গা প্রতিনিধি (১১-০৮-১৬) ৯ মাস ধরে চুয়াডাঙ্গায় বিভিন্ন যানবাহনের নিবন্ধন ফি, রুট পারমিট ও লাইসেন্স ফিসের টাকা জমা নেয়া বন্ধ রয়েছে। বিআরটিএর সাথে চুয়াডাঙ্গার কোন ব্যাংকের চুক্তি না থাকায় গ্রহকরা টাকা জমা দিতে পারছে না । ফলে জেলার হাজার হাজার গাড়ীর মালিকেরা চরম ভোগান্তির মধ্যে পড়েছেন। তাদের টাকা জমা দেওয়ার জন্য ছুটতে হচ্ছে কুষ্টিয়া, ঝিনাইদাহ, মাগুড়া, যশোর ও খুলনায় । সেখানে গিয়ে দিনের দিন টাকা জমা দিতে পারছে না । তার উপর যোগ হয়েছে পুলিশের গাড়ী ধর পাকড়ের অভিযান। রেজিষ্ট্রেশন বিহীন গাড়ি পেলেই আটক করা হচ্ছে। গত ২/৩ মাসে ৫ শতাধিক গাড়ি পুলিশ লাইন, থানা ও ফাঁড়িতে আটক করা হয়েছে। এ ব্যাপারে বাংলাদেশ রোড ট্রান্সপোর্ট অথরিটি (বিআরটিএ) কর্তৃপক্ষের উদাসিনতাকেই দায়ী করেছেন ভূক্তভোগীরা।

চুয়াডাঙ্গায় বিআরটিএ অফিসের কার্যক্রম স্বাভাবিক গতিতেই চলছিল। গাড়ীর মালিকরা মোটরযান নিবন্ধনের টাকা স্থানীয় ইউনাইটেড কমার্সিয়াল ব্যাংকে জমা দিয়ে আসছিল। কিন্তু গতবছরের ১৫ নভেম্বর ব্যাংকটির সাথে বিআরটিএ চুক্তি শেষ হয়। তা আর নবায়ন না হওয়ায় টাকা জমা নেয়া বন্ধ করে দেয় ব্যাংকটি। তারপর থেকে আজ পর্যন্ত বিআরটিএ নতুন কোন ব্যাংকের সাথে চুক্তিবন্ধ হয়নি। ফলে জেলার ৪ উপজেলার কয়েক হাজার গাড়ীর মালিকরা চরম দূর্ভোগের মধ্যে পড়েছে। তাদের টাকা দেওয়ার জন্য ছুটতে হচ্ছে বিভিন্ন জেলায়। সম্প্রতি বিআরটিএ অফিসের সামনে গিয়ে দেখা যায়, ভুক্তভোগী গাড়ীর মালিকেরা পুলিশের হয়রানি বন্ধ ও টাকা জমা নেওয়ার দাবিতে বিক্ষোভ করছেন। বিক্ষোভকারী মিরাজুল ইসলাম কাবা বলেন, চুয়াডাঙ্গায় টাকা জমা নেওয়ার ব্যবস্থা না হওয়া পর্যন্ত তল্লাশী নামে গাড়ী আটক বন্ধ করা হোক।

এদিকে একাধিক গাড়ীর মালিক বলেন, পুলিশের হাতে গাড়ী আটক হওয়ার পর অন্য জেলায় গিয়ে রেজিষ্ট্রেশনের টাকা জমা দিয়ে আসতে হচ্ছে। এটাই শেষ নয়। গাড়ী ছড়ানোর জন্য থানা, এসপি অফিস ও পুলিশ লাইনে ৬-৭ বার দোড় ঝাপের পর মিলছে মোটরসাইকেল। এরপর গুনতে হচ্ছে জরিমানার ২ হাজার ৭শ টাকা। আবার আটককৃত এসব গাড়ী রাখা হচ্ছে খোলা আকাশের নিচে। রোদে পুরে বৃষ্টিতে ভিজে নষ্ট হচ্ছে গাড়ীর রং ও মূল্যবান যন্ত্রাংশ।

বিআরটিএ চুয়াডঙ্গা-মেহেরপুর সার্কেলের সহকারি পরিচালক শেখ আশরাকুর রহমান তাদের অসহায়ত্বের কথা স্বীকার করে বলেন, আমাদের করার কিছুই নেই । বিষয়টি উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষকে একাধিকবার জানিয়েও কোন লাভ হয়নি। আপরদিকে বিআরটিএ কর্তৃপক্ষের জুন মাস থেকে নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় টাকা জমা নেওয়ার কথা থাকলেও তা আজও বাস্তবায়ন হয়নি। এরই মধ্যে পেরিয়ে গেছে আরও ২ মাস। তবে চলতি সাপ্তাহের শুরুতে চুয়াডাঙ্গা জেলা প্রশাসকের দো‘তালার পোষ্ট অফিসের পশ্চিম পাশে এনআরবি ব্যাংকের সাইন বোর্ড ঝোলানো হয়েছে। কবে নাগাদ এটি চালু করা হবে তা জানতে বিআরটিএ অফিসে যোগাযোগ করা হলে বলেন, ঈদুল আযহা’র পর পুরোপুরি কার্যক্রম শুরু হবে হলে তারা আশা করছেন। এছাড়া জুনের প্রথম সপ্তাহ থেকে শাহজালাল ইসলামী ব্যাংকে টাকা জমা নেওয়ার বিষয়টিও ঝুলে আছে।

চুয়াডাঙ্গার অতিরিক্তি পুলিশ সুপার বেলায়েত হোসেন বলেন, সম্প্রতি দেশে হত্যাসহ নানা অপরাধমুলক কর্মকান্ডে মোটরসাইকেল ব্যবহার হচ্ছে। যার কারণে আমরা বিভিন্ন পয়েন্টে নিয়মিত তল্লাশী অভিযান চালাচ্ছি। এতে প্রতিদিনই আটক হচ্ছে রেজিষ্ট্রেশন বিহীন মোটরসাইকেল।

এই সংবাদটি 1,227 বার পড়া হয়েছে

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন।
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ