চুয়াডাঙ্গায় শহীদ দিবস ৫ আগস্ট

প্রকাশিত:বৃহস্পতিবার, ০৪ আগ ২০১৬ ১১:০৮

চুয়াডাঙ্গায় শহীদ দিবস ৫ আগস্ট

 

প্রতিনিধি চুয়াডাঙ্গা:

চুয়াডাঙ্গায় ৫ আগস্ট  শহীদ দিবস। চুয়াডাঙ্গা জেলার মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসে এই দিনটি মর্মান্তিক ও অন্যতম স্মরণীয় দিন। ১৯৭১ সালের এ দিনে জেলার দামুড়হুদা উপজেলার জগন্নাখপুর গ্রামে পাক হানাদার বাহিনীর সাথে সম্মুখ সমরে শহীদ হন ৮ জন বীর মুক্তিযোদ্ধা । এ সকল শহীদদের স্মরণে জগন্নাখপুর গ্রামে তৈরী করা হয়েছে স্মৃতি সৌধ ও কমপ্লেক্্র। প্রতিবছর নানা আয়োজনে দিনটি পালিত হয়ে থাকে। এবারও দিনটি পালন উপলক্ষে জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদ,জেলা আওয়ামীলীগ ও বিভিন্ন সামাজিক সাংস্কৃতিক সংগঠন দিনব্যাপী কর্মসূচী গ্রহন করেছে। কর্মসূচীর মধ্যে রয়েছে জাতীয় ও কালো পতাকা উত্তোলন, শহীদ বেদীতে পুস্পমাল্য অর্পন,ফাতেয়া পাঠ, মিলাদ মহাফিল ও আলোচনা সভা।

১৯৭১ সালের ৫ আগষ্ট ছিল বৃহস্পতিবার। এই দিন সকালে মুক্তিযোদ্ধারা খবর পান পাক-হানাদারদের একটি দল নাটুদহ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের দিকে যাবে। এ সংবাদ পেয়ে মুক্তিযোদ্ধরা পাক- হানাদারদের আক্রমনের প্রস্তুতি নিচ্ছিল। এ সময় বাগুয়ান গ্রামের শান্তি কমিটির সেক্রেটারি কুবাদ খাঁন সাধারণ মানুষের ছদ্মবেশে মুক্তিযোদ্ধাদের খবর দেয় রাজাকাররা গ্রামের পাকা ধান কেটে নিয়ে যাচ্ছে। খবর পেয়ে মুক্তিযোদ্ধারা ঘটনাস্থলে পৌছে দেখেন সেখানে কেউ নেই। দ্বিধাগ্রস্ত হয়ে মুক্তিযোদ্ধা আফাজ উদ্দিন ফাঁকা গুলি ছোড়ে। জবাবে পাক-হানাদাররা বৃষ্টির মত গুলি ছুড়তে থাকে। নিরুপায় হয়ে মুক্তিযোদ্ধারা তখন পিছু হাটতে বাধ্য হয়। দুই ঘন্টারও বেশী সময় ধরে চলা যুদ্ধে ৮ জন বীর মুক্তিযোদ্ধা শহীদ হন। শহীদ বীর মুক্তিযোদ্ধারা হলেন- হাসানুজ্জামান, কিয়ামুদ্দিন,আলাউল ইসলাম খোকন, আবুল কাশেম,রবিউল ইসলাম, রওশন আলম,আফাজ উদ্দিন ও খালেদ সাইফুদ্দিন আহমেদ তারিক। পরে পাক বাহিনীর ক্যাপ্টেনের নির্দেশে জগন্নাথপুর গ্রামের মানুষ দুটি গর্ত খুড়ে পাশাপাশি মুক্তিযোদ্ধাদের কবর দেয়। ৮ শহীদের মধ্যে একমাত্র তারিককে দেয়া হয় বীর বিক্রম খেতাব।
দেশমাতৃকার জন্য যারা জীবন দিয়ে শহীদ হয়েছেন তাদেরকে বিশেষ এই দিন (৫ আগষ্ট) ছাড়া স্মরণ করা হয় না। স্বাধীনতার পর এই ৮ শহীদ মুক্তিযোদ্ধার নামে একটি হল ও কিছু সড়কের নাম করণ করা হলেও তা হারিয়ে যেতে বসেছে। স্বাধীনতার ৪৫ বছরেও মুক্তিযোদ্ধা বিরোধী শক্তি পাক হানাদারদের দোষর রাজাকাররা মুক্তিযোদ্ধাদের হত্যা করলেও তাদের পরিবার আজও হত্যার বিচার পাইনি।
দেশ স্বাধীনের ২৭ বছর পর এই ৮শহীদ বীর মুক্তিযোদ্ধার আত্মত্যাগকে স্মরণ করে ১৯৯৮ সালে এলজিইডি ৫০ লাখ টাকা ব্যায়ে এক একর জমির ওপর নির্মান করে স্মৃতিসৌধ। এছাড়া চুয়াডাঙ্গা-১ আসনের সাংসদ বীর মুক্তিযোদ্ধা সোলায়মান হক জোয়ার্দ্দার ছেলুন স্মৃতিসৌধের পাশে শহীদদের স্মরণে ব্যক্তিগত উদ্যোগে নির্মাণ করেছে দ্বিতলা রেস্ট হাউজ কমপ্লেক্্র। কমপ্লেক এর নিচ তলায় ৫২-৭১ পর্যন্ত বাঙ্গালী জাতির গৌরবময় সংগ্রামের কথা ছবির মাধ্যমে তুলে ধরা হয়েছে। এছাড়া সামনের অংশে মনোরম ফুলের বাগান ও দর্শনাাথীদের রয়েছে বসার জায়গা। প্রতিদিন দুর-দুরান্ত থেকে দর্শনাাথীরা আসেন এখানে।
শুধু আনুষ্ঠানিকতা নয়, দেশের জন্য যারা লড়াই করে,এই লাল সবুজ মানচিত্র এনে দিয়েছে। সেই সব বীর মুক্তিযোদ্ধার স্মৃতি সব সময় ইতিহাস হয়ে থাকুক এমন টায় প্রত্যাশা নতুন প্রজন্মের ।

এই সংবাদটি 1,225 বার পড়া হয়েছে

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন।
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •