Tue. Jan 28th, 2020

BANGLANEWSUS.COM

-ONLINE PORTAL

ছেলে গেল নামাজে, লাশ কেন নদে?

1 min read

ময়মনসিংহের ত্রিশালের ব্রহ্মপুত্র নদ থেকে উদ্ধার হওয়া কলেজছাত্র শামীম আফতাব বাপ্পীর দাফন সম্পন্ন হয়েছে। রোববার গৌরীপুর উপজেলার লামাপাড়ায় তার দাফন হয়।

 

বাপ্পীকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করেই মরদেহ ভাসিয়ে দেয়া হয় ব্রহ্মপুত্র নদে বলে দাবি নিহতের পরিবারের। এ ঘটনায় নিহতের মা শাম্মিয়ারা খানম বাদী হয়ে ত্রিশাল থানায় মামলা দায়ের করেন।

 

সোমবার হত্যাকারীদের খুঁজে বের করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান তার খালা রৌশন আরা খানম।

 

তিনি গৌরীপুর স্বজন মিডিয়া সেন্টারে সাংবাদিকদের বলেন, আমার বুকে নিঃসন্তানের কালিমা মুছে দিয়েছিল বাপ্পী। ২৯টি বছর ধরে বুকে জড়িয়ে ওরে বড় করেছিলাম। ওর কাঁধে আমি লাশ হয়ে কবরে যাবো। ওর লাশ আমার কাঁধে কেন?

 

সন্তানের স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে বারবার মূর্ছা যান তিনি। জিজ্ঞাসা করেন, আমার ছেলে গেল ময়মনসিংহের আকুয়া বড়বাড়ি মসজিদে নামাজ পড়তে। ত্রিশালের নদে ওর মরদেহ গেল কীভাবে? ওকে মেরে নদে ভাসিয়ে দেয়া হয়েছে।

 

 

 

বাপ্পী নেত্রকোনার পূর্বধলা উপজেলার আলমপুর গ্রামের আবদুর রাজ্জাকের ছেলে। শাম্মিয়ারা খানমের সঙ্গে বিবাহবিচ্ছেদ হওয়ায় এক বছর বয়স থেকেই বাপ্পী তার খালু মো. জয়নাল আবেদিন ওরফে জবান আলী ও রৌশন আরা খানমের কাছে থাকে।

 

ডৌহাখলা ইউপির সাবেক চেয়ারম্যান জবান আলী গৌরীপুর উপজেলার আওয়ামী লীগের সাবেক তথ্য ও গবেষণা সম্পাদকও ছিলেন। নিঃসন্তান হওয়ায় বাপ্পীই তাদের ছেলে হিসেবে বড় হন। তার পরীক্ষার সনদপত্রেও বাবা-মা হিসেবে তাদের নাম রয়েছে। তবে এখন থাকতো ময়মনসিংহের আকুয়া এলাকায়। নাসিরাবাদ কলেজের বাউবি শাখার বিএর শেষ বর্ষের ছাত্র ছিলেন বাপ্পী।

 

বৃহস্পতিবার দুপুরে ময়মনসিংহের আকুয়া হাজী বাড়ি মসজিদে জোহরের নামাজের কথা বলে বাসা থেকে বেরিয়ে যান বাপ্পী। ওই দিন ৩টায় মায়ের সঙ্গে শেষ কথা হয় মোবাইল ফোনে। তখন তিনি গাঙ্গীনারপাড়ে ওষুধ ক্রয় করছেন বলে জানান।

 

এরপর থেকে ফোন বন্ধ দেখায়। শনিবার তার মরদেহ ভেসে উঠে ব্রহ্মপুত্র নদের ত্রিশাল উপজেলার বালিপাড়া বিয়ারা এলাকায়।

Copyright © Banglanewsus.com All rights reserved. | Newsphere by AF themes.