ছোটগল্প: কল্পনা

প্রকাশিত: ৩:০৩ পূর্বাহ্ণ, এপ্রিল ২৯, ২০২০

ছোটগল্প: কল্পনা

আছর নামাজ শেষে বাজার থেকে বাড়ি ফিরছেন রহিস উদ্দিন। রৌদটা এসে পরছে গাছের ডগায়, তেজ নেই। অসংখ্য পাখি দলবেঁধে আকাশে ঘুরে বেড়াচ্ছে। শান্ত মনে মিষ্টি বাতাস ভেসে ভেসে যেন হৃদয়কে আরও সজীব করে তুলে। নবীন প্রবীন সর্ব হৃদয়ে এমন বাতাস সুর তুলে দেয়, এটা অবাস্তব কিছুনা। পাঠকগন হয়তো ভাবছেন এমন অনুভূতি নিয়ে বাড়ি ফিরছেন রহিস উদ্দিন। আসলে তা নয়, উনি ভাবছেন সত্য, তবে অন্যকিছু, অন্য ধারার, অন্য জগৎএর।

একটি মিষ্টি কুমড়া, ১০০গ্রাম সিদল, কিছু ঔষধ আর এক প্যাক মিঠাই নিয়ে অদ্ভুত চিন্তায় হাঁটছেন রহিস উদ্দিন।
সারাদিন পরের বাড়িতে কাজ করে এমন অনুভূতি, এমনভাবে প্রকৃতির কাছাকাছি পৌঁছে নিজেকে সুখি ভাবাটা কোনোদিন হয়নি তাঁর। টাকার অভাব যে হৃদয়কে চেপে ধরে, সে হৃদয় থেকে প্রকৃতিপ্রেম কীভাবে আসবে?
রহিস উদ্দিন ভাবছেন: মেয়েটার অসুখ, খেতেও পারে না, ঔষুধে কতটুকু কাজ হবে, আবার সুস্থ হবে তো। টাকার জন্য মেয়েটাকে নিতে পারছি না ডাক্তারের কাছে। সিকদার সাহেবের কাছ থেকে কিছু টাকা ধার নিতে হবে,কাজ করে পুষিয়ে দিব।
বাড়িতে পৌঁছাতেই মুয়াজ্জিন কন্ঠে মাগরিবের আজানের ধ্বনি ভেসে উঠলো। রহিস উদ্দিন ঝটপট বাজার রেখে। মসজীদের উদ্দেশ্যে রওনা দিলেন।

আকাশ মেঘলা হচ্ছে ধীরে ধীরে। এ যেন ক্লান্তি দিনের ফসল। বৃষ্টি হবে কি হবে না এ নিয়ে চলছে কৃষক সমাজে তুমুল আলোচনা। কথা হচ্ছে,সময় যাচ্ছে, মেঘ গভীর হচ্ছে।

নামাজ আদায় করেই অসুস্থ মেয়েটির কাছে ছুটে আসলেন রহিস উদ্দিন। অনেক দিন ধরে মেয়েটি অসুস্থ। বাজারের ফার্মেসি থেকে কিছু অষুধ বৈকালে আনা হয়েছিল। সেটা সেবনের চেষ্টা চলছে।
বাহিরে শুরু হল বৃষ্টি। তুমুল বৃষ্টি। ঘন অন্ধকার রাত।শীতল বাতাস নিয়ে বৃষ্টি ঝরছে। ক্লান্ত পৃথিবী ভিজে শান্ত হওয়ার চেষ্টা। মধ্যখানে পানের বাটা নিয়ে আড্ডা,গীত ছড়া নিয়ে আসর জমেছে। একি উত্তেজনা! সর্ব হৃদয়ে বইছে যৌবনে আনাগোনা কেও গাচ্ছে, কেও নাচ্ছে।
পাঠকগন হয়তো ভাবছেন: এমনটাই যৌবনে উতলা হয়ে রহিস উদ্দিন মেতেছে। আসলে তা নয়। সে মেতেছে সত্য। তবে ভিন্ন চরিত্রে। চালের ফুটোর বরাবর নিচে পাত্র রাখায় মেতেছে। বৃষ্টির জল আটাকানোর চেষ্টায় মেতেছে।

✍ইয়াসির আহমেদ
ছাত্র:-বাংলা অনার্স, শায়েস্তাগঞ্জ ডিগ্রি কলেজ, হবিগঞ্জ।

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন।
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ