জঙ্গী আতংক : মন্দিরে মঙ্গল আরতি করার বিধান ভেঙ্গে গেছে

প্রকাশিত:রবিবার, ১৪ আগ ২০১৬ ০৬:০৮

জঙ্গী আতংক : মন্দিরে মঙ্গল আরতি করার বিধান ভেঙ্গে গেছে

তোজাম্মেল আযম, মেহেরপুর প্রতিনিধি:
প্রতি সূর্যদ্বয়ের ৯৬ মিনিট আগে মন্দিরে মঙ্গল আরতি করার বিধান আছে। কিন্তু জঙ্গি ভয়ে নির্ধারিত সময়ে আরতি করতে পারিনা। মন্দিরের বাইরে বিভিন্ন বাড়িতে ধর্মীয় অনুষ্ঠানের ডাকেও আর আগের মতো যায়না। কেউ পারিবারিকভাবেও কোন অনুষ্ঠান করছে না। রবিবার মেহেরপুর জেলা শহরের নায়েব বাড়ি মন্দিরের সেবায়েৎ শ্রী সঞ্জয় কুমার মূখার্জি (জিৎ মুখ্যার্জি) একথা বলেন।
মেহেরপুর জেলা শহরের নায়েব বাড়ি মন্দিরে দির্ঘদিন থেকে সেবায়েতের দায়ীত্ব পালন করছিল ঝিনাইদহ জেলার শ্রী সঞ্জয় কুমার মূখার্জি (জিৎ মুখ্যার্জি)। নিজ জেলার মন্দিরের এক পুরোহিত খুনের পর পরিবারের লোকজনের চাপে পুরোহিতের দায়ীত্বে ছেড়ে সম্প্রতি রাতের আঁধারে নিজ জেলায় পালিয়ে যায়। শনিবার তিনি আবার ফিরে আসেন।
তিনি জানান ঝিনাইদহে জঙ্গিদের হাতে এক পুরোহিত খুনের পর পরিবারের চাপে মেহেরপুরের নায়েববাড়ি মন্দির কমিটিকে না জানিয়ে তিনি চলে যান। পরে বোধদয় হয় ভয় পেয়ে ভগবানের সেবা বন্ধ হতে পারেনা ভেবেই ফিরে এসেছি। তবে পুলিশ প্রশাসন তাকে কোন ঘটনা ঘটলে মোবাইল ফোনে পুলিশকে জানাতে বলেছে।
শহরের শত বছরের ঐতিহ্যবাহী কালি মন্দিরের ঠাকুর তপন বন্দোপ্যাধ্যায় ভোরের আলো ফোটার আগে মন্দিরে নিয়মিত পূজা অর্চনা করতেন। বিভিন্ন জেলায় টার্গেট কিলিং খবরে সে আর কাকডাকা ভোরে মন্দিরে পূজায় বসে আতংকর মধ্যে। সদর উপজেলার কুতুবপুরে শিবাশ্রম আশ্রমের সেবায়েত মহারাজ সহ দেশের ২য় বৃহৎ খৃষ্টান পল্লী বল্লভপুর, চিৎলা ও ভবের পাড়া গির্জার বিশপরাও চরম আতংকে আছে। এমন পরিস্থিতিতে সনাতন ধর্মালম্বীদের মন্দির গির্জায় ভক্তদের উপস্থিতি অনেকটা কমে গেছে। তাদের নিরাপত্তার দাবী জানিয়েছেন হিন্দু বোদ্ধ খ্রিষ্টান ঐক্য পরিষদের সভাপতি ডা. রমেশ চন্দ্র।
জেলা শহরের শত বছরের ঐতিহ্যবাহি কালি মন্দিরের ঠাকুর তপন বন্দোপ্যাধ্যায় বলেন‘ আতংক, ভয় নিয়ে মন্দিরে পূজা অর্চণা করতে হচ্ছে। প্রতি শনিবার সন্ধ্যার পর ধর্মীয় সংঘতে আর আগের মতো ভক্তরা আসেনা। ভোরের আলো ফোটার আগে মন্দিরে কাসার ঘন্টা বাজিয়ে দেবীর পায়ে অঞ্জলি দেবার সময় বাইরের যেকোন শব্দ পূজায় ব্যাঘাত ঘটায়। তবে পুলিশ প্রশাসন তাকে আতংকিত না হবার জন্য বললেও মরণের ভয় তো সবার মতো তারও আছে বলে জানিয়েছেন। তিনি জানিয়েছেন পুলিশ সার্বক্ষনিক নিরাপত্তা দিতে চেয়েছে। কিন্তু পুলিশ প্রহরাতে আতংক নিয়ে দেবির আরাধনা করা যায় না।
জেলা শহরের হরিসভার ঠাকুর শ্রী শ্যামল ভট্টাচার্য জানান এখন আর মন্দিরে নামযজ্ঞ অনুষ্ঠান করা যায় না। প্রতিবছর এই শ্রাবণ মাসে চারদিন ধরে হরিসভাতে চারদিন ধরে ‘৩২ প্রহর নামযজ্ঞ’ অনুষ্ঠান হতো। এই চারদিন হরিসভা মাঠে মেলা বসতো। এবার নিরাপত্তার কারণে প্রশাসন থেকে অনুষ্ঠানের অনুমোদন পাওয়া যায়নি।
মেহেরপুর জেলা শহর থেকে সাত কিলো দুরে হিন্দু সম্প্রদায়ের তীর্থস্থান স্বামী নিগমানন্দের আশ্রম। এই আশ্রমের সেবায়েৎ মহারাজ অখ-ানন্দ। যোগাযোগ করা হলে জানানÑ পুলিশ নিশ্চিত করেছে আতংকিত না হবার। তারপরেও উৎকণ্ঠা পিছু ছাড়ছে না। আতংক নিয়ে কী আর ঠাকুরের পূজা করা যায়? জেলা শহর থেকে ভক্তরা সহ আইন শৃঙ্খলার লোকজন এসে সাহস দিচ্ছে। তারপরেও মন থেকে ভয় যাচ্ছে না।
উল্লেখ করা যেতে পারেÑ বাংলাদেশের ২য় বৃহৎ খৃষ্টান পল্লী মেহেরপুর। জেলার ভবেরপাড়া, বল্লভপুর ও চিৎলা গ্রামের খ্রিষ্টান সম্প্রদায়ের বসবাস। এলাকার গির্জাতেও ভক্তদের উপস্থিতি কমেগেছে বলে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একটি র্গির্জার বিশপ জানান।
মেহেরপুর জেলা জজ কোর্টের পাবলিক প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট পল্লভ ভট্টাচার্য নিজেকে চরম আতংকিত দাবী করে বলেন মেয়ে ঢাকাতে থাকে। খুব চিন্তায় থাকি দু:সংবাদের। তিনি বলেছেন মৌলবাদি চক্র সাম্প্রদায়িক সহিংসতা সৃষ্টির চেষ্টা করছে। যা এখনই মোকাবেলা না করলে ভয়ঙ্কর পরিনতির স্বীকার হতে হবে। যা কারোরই কাম্য নয়।
মেহেরপুরের পুলিশ সুপার হামিদুল আলমের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান পুলিশের পক্ষ থেকে সর্বাত্মক নিরাপত্তা দেয়া হচ্ছে। তবে গ্রাম এবং শহরের সনাতন ধর্মালম্বীদের ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের আশপাশে অপরিচিত সন্দেহজনক লোকজন দেখলে আটক করে পুলিশকে জানাতে বলা হয়েছে। বর্তমান পরিস্থিতিতে পুলিশের টহল জোরদার করা হয়েছে। অনাকাংক্ষিত যে কোন ঘটনা পুলিশ মোকাবেলা করবে। তবে সাধারণ মানুষের সহযোগিতা থাকতে হবে।

এই সংবাদটি 1,231 বার পড়া হয়েছে

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন।
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ