জন্মদিনের প্রথম প্রহরে কেক কাটলেন না খালেদা জিয়া

প্রকাশিত:সোমবার, ১৫ আগ ২০১৬ ০৯:০৮

জন্মদিনের প্রথম প্রহরে কেক কাটলেন না খালেদা জিয়া

সিলেট প্রতিনিধি:
এবার জন্মদিনের প্রথম প্রহরে কেক কাটলেন না খালেদা জিয়া। বিগত বছরগুলোয় ১৫ আগস্টের প্রথম প্রহরে দু’দুটি কেক কেটে নেতাকর্মীদের ফুলেল শুভেচ্ছার মধ্য দিয়ে আড়ম্বরপূর্ণ পরিবেশে নিজের জন্মদিন পালন করলেও এবার সেই পরিবেশের কোনও ছোঁয়া নেই তার গুলশানের রাজনৈতিক কার্যালয়ে।বিএনপির কার্যালয়ের সামনে কথা হয় চেয়ারপারসনের মিডিয়া উইং সদস্য শায়রুল কবির খানের সঙ্গে। বাংলা ট্রিবিউনকে তিনি বলেন, দেশের চলমান সঙ্কট, বন্যা দুর্গত মানুষ এবং আহত–নিহত, গুম হওয়া নেতাকর্মীদের প্রতি সহমর্মিতা দেখিয়ে বিএনপি প্রধান আজ কেক কাটছেন না।
তিনি জানান, অন্যান্য দিনের মতো নেতারা তার সঙ্গে দেখা করেছেন। সালাম বিনিময় করেছেন। কেউ কেউ সাংগঠনিক কাজে এসেছেন, তাদের সঙ্গে আলোচনা করেছেন। কেউ কেউ জন্মদিনের মৌখিক শুভেচ্ছা জানিয়েছেন। তবে কোনও আনুষ্ঠানিকতা হয়নি।
এদিকে, বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া আজ পা দিলেন ৭১-এ। ১৯৪৫ সালের এ দিনে এস্কান্দার মজুমদার ও মা তৈয়বা মজুমদারের ঘরে জন্মগ্রহণ করেন তিনি।সরেজমিনে দেখা গেছে, অন্যান্য দিনের মতো রবিবার রাত ১০টা ১০ মিনিটে নিরাপত্তাবাহিনীর প্রহরায় কার্যালয়ে প্রবেশ করেন খালেদা জিয়া। স্বাভাবিকভাবেই উপস্থিত অর্ধশতাধিক নেতাকর্মী তাকে সালাম দিয়ে বিদায় নেন। রবিবার দুপুরেই বিএনপির তরফে খবর ছড়িয়ে পড়ে, ১৫ আগস্টে কেক কাটছেন না খালেদা জিয়া। ১৫ আগস্ট জন্মদিনের কর্মসূচি বাতিল করলেন খালেদা জিয়া এ নিয়ে বাংলা ট্রিবিউন একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করে। নেতাকর্মীদের ওপর নির্দেশ জারি হয়, রবিবার রাতে কেউ ফুল বা কেক হাতে চেয়ারপারসনের কার্যালয়মুখী না হতে।
এদিকে নিজের জন্মদিনে খালেদা জিয়া কেক না কাটলেও দলনেত্রীর জন্মদিন নিজ উদ্যোগে কেক কেটে পালন করছে ছাত্রদল। আবার কেউ দোয়া মাহফিল ও মিলাদের আয়োজনও করেছে।ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এফ রহমান হলের একজন দায়িত্বশীল নেতা খালেদা জিয়ার কার্যালয়ের সামনে দাঁড়িয়ে বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ছাত্রদল সেক্রেটারি আকরামুল হাসান সুপার ইউনিটগুলোকে নিজে থেকে ফোন করে কেক কাটতে বলেছেন। আমরাও প্রস্তুতি নিয়েছি নিজেদের উদ্যোগে কেক কাটবো বলে।সরেজমিনে দেখা গেছে, রাত নয়টা থেকে পৌনে দশটার মধ্যে বিএনপির সিনিয়র কয়েকজন নেতা খালেদা জিয়ার কার্যালয়ে আসেন। এর মধ্যে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য খন্দকার মোশাররফ হোসেন, ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আবদুল আউয়াল মিন্টু, নির্বাহী কমিটির সদস্য আমিনুল ইসলাম, সাবেক ছাত্রদলনেতা আবদুল কাদের ভুঁইয়া জুয়েল অন্যতম। এছাড়া ছাত্রদল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, তিতুমীর কলেজসহ কয়েকটি শাখার নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন কার্যালয়ে।
রাত ১২টার দিকে খালেদা জিয়ার নিরাপত্তা বাহিনী সিএসএফ এর একটি সূত্র জানায়, কার্যালয়ে কেউ ফুল নিয়ে আসেননি। কেক কাটার কোনও আয়োজন নেই। তবে খালেদা জিয়া কখন কার্যালয় ত্যাগ করবেন, সেটি সূত্র জানাতে পারেনি।
সূত্র জানায়, ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় নেতা এজমল হোসেন পাইলটের নেতৃত্বে নেতাকর্মীরা দোয়া মাহফিল ও মিলাদ দিয়েছে। এরপর তার নেতৃত্বে কেক কাটে ছাত্রদল নেতা-কর্মীরা।ছাত্রদল কেন্দ্রীয় সংসদের প্রথম যুগ্ম সম্পাদক আসাদুজ্জামান আসাদের নেতৃত্বে কেক কাটা হয় রাত ১২টার কিছু সময় পর। তারা একটি ব্যানারও করে।
রাত ১২টার সময় ঢাকা কলেজ শাখা কেক কেটে খালেদা জিয়ার জন্মদিন উদযাপন করেছে। শাখা সভাপতি মাসুদ করিম ও সাধারণ সম্পাদক মিজানুর রহমান সজিবের নেতৃত্বে রাজধানীর একটি বাসায় এই আয়োজন অনুষ্ঠিত হয়।
এছাড়াও ছাত্রদলের বেশ কয়েকটি শাখা খালেদা জিয়ার জন্মদিন কেক কেটে উদযাপন করে। এর মধ্যে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়, তিতুমীর কলেজ, ঢাকা মহানগর ছাত্রদলের কয়েকটি গ্রুপও নিজেদের মতো কেক কেটে খালেদা জিয়ার জন্মদিন পালন করে।
বিএনপির একটি নির্ভরযোগ্য সূত্র জানায়, গত ৪ আগস্ট খালেদা জিয়ার সঙ্গে দেখা করতে গিয়ে তাকে ১৫ আগস্ট জন্মদিনের কেক না কাটতে পরামর্শ দেন কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের সভাপতি বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী। সূত্রের ধারণা, কাদের সিদ্দিকীর আহ্বানে গুরুত্ব দিয়েছেন খালেদা জিয়া।এর বাইরে আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে বরাবরই আহ্বান ছিল, খালেদা জিয়া যেন ১৫ আগস্টে জন্মদিন উৎযাপন না করেন।
খালেদা জিয়া গত বছরে প্রথম প্রহরে নিজের জন্মদিনের কেক কাটেননি। যদিও শেষ প্রহরে ১৫ আগস্ট সন্ধ্যায় রাজনৈতিক কার্যালয়ে কেক কেটে শুভেচ্ছা গ্রহণ করেছিলেন বিএনপি প্রধান। এ বছরও প্রথম প্রহরে কেক কাটার পরিকল্পনা ছিল না তার। এ বিষয়ে বাংলা ট্রিবিউন গতকালই একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করে।

এই সংবাদটি 1,225 বার পড়া হয়েছে

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন।
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ