জাতিসংঘে দাফতরিক ভাষা বাংলা করার দাবি যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসীদের

জাতিসংঘ সদর দফতরে যথাযোগ্য মর্যাদায় আন্তর্জাতিক আবহে উদযাপন করা হয়েছে ‘আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস’। জাতিসংঘ সদর দফতর, ইউনেস্কোর নিউইয়র্কস্থ কার্যালয়, নিউইয়র্ক সিটি মেয়র অফিস এবং জাতিসংঘে বাংলাদেশ স্থায়ী মিশনসহ কলম্বিয়া, ফিজি ও তানজানিয়া মিশনের সম্মিলিত উদ্যোগে এ দাবি জানানো হয়।

 

স্থানীয় সময় বুধবার জাতিসংঘ সদর দফতরের কনফারেন্স রুমে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। নিউইয়র্ক সফররত বেসামরিক বিমান চলাচল ও পর্যটন মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি মুহাম্মদ ফারুক খান এমপি বাংলাদেশ ডেলিগেশনের পক্ষে এ সভায় বক্তব্য প্রদানের সময় বাংলাকে জাতিসংঘের দাফতরিক ভাষা করার দাবি জানান।

 

ফারুক খান বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ইতোমধ্যে বাংলাকে জাতিসংঘের অন্যতম দাফতরিক ভাষা হিসেবে স্বীকৃতি প্রদানের জন্য প্রস্তাবনা পেশ করেছেন। বাংলাকে জাতিসংঘের দাফতরিক ভাষা হিসেবে স্বীকৃতি দেয়ার জন্য প্রধানমন্ত্রীর এ প্রস্তাবনা বিবেচনায় আনতে জাতিসংঘের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন।

 

 

 

তিনি বলেন, বিশ্বসভায় বাংলা ভাষার মর্যাদা সমুন্নত রাখতে জাতির পিতা ১৯৭৪ সালের ২৫ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে প্রথমবারের মতো বাংলায় ভাষণ দেন, যা অনুসরণ করে প্রতিবছর সাধারণ পরিষদে বাংলায় ভাষণ দিয়ে যাচ্ছেন তারই কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

 

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রথমবারের সরকারের সময় ২০০০ সালে ইউনেস্কো ২১শে ফেব্রুয়ারিকে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে ঘোষণা করে এবং তারই প্রত্যক্ষ তত্ত্বাবধানে ২০০১ সালে রাজধানী ঢাকায় প্রতিষ্ঠিত হয় আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউট-যা বিশ্বের সব ভাষা সংক্রান্ত গবেষণা এবং ভাষা সংরক্ষণের জন্য কাজ করে যাচ্ছে মর্মে এমপি ফারুক খান উল্লেখ করেন।

 

রাষ্ট্রদূত উদ্বেগের সঙ্গে বলেন, ভাষা বিজ্ঞানীদের মতে ২০৫০ সাল নাগাদ বিশ্বের প্রায় অর্ধেক ভাষা বিলুপ্ত হয়ে যাবে যা এজেন্ডা ২০৩০ এর সঙ্গে বৈসাদৃশ্যপূর্ণ। এ বিষয়ে বিশেষ গুরুত্ব দেয়া সময়ের দাবি, আর তা হলেই হয়তো আমরা টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যের ‘কেউ পিছনে পড়ে থাকবে না’ এই অন্যতম প্রতিপাদ্য অর্জন করতে পারবো।

 

Leave a Reply

Your email address will not be published.