জাতীয় অনলাইন প্রেসক্লাবের সভা অনুষ্ঠিত, মুক্তাদের আজাদ খান সাময়িক বহিষ্কার

প্রকাশিত:বুধবার, ১০ আগ ২০১৬ ১০:০৮

জাতীয় অনলাইন প্রেসক্লাবের সভা অনুষ্ঠিত, মুক্তাদের আজাদ খান সাময়িক বহিষ্কার

প্রেস বিজ্ঞপ্তি: জাতীয় অনলাইন প্রেসক্লাবের নীতিনির্ধারনী কমিটির এক জরুরী সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। আজ বুধবার সকাল ১১টায় অনলাইনে অনুষ্ঠিত এ সভায় সভাপতিত্ব করেন তরুন প্রযুক্তিবিদ, জাতীয় অনলাইন প্রেসক্লাবের সভাপতি ও নীতিনির্ধারনী কমিটির আহ্বায়ক ড. জানে আলম রাবিদ ।
জাতীয় অনলাইন প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক ও নীতিনির্ধারনী কমিটির সদস্য সচিব শামসুল আলম স্বপনের সঞ্চালনায় অনলাইনে বক্তব্য রাখেন নীতিনির্ধারনী কমিটির অন্যতম নেতা চ্ট্রগাম বিভাগীয় সদস্য অধ্যাপক আক্তার চৌধুরী । তিনি বলেন, জাতীয় অনলাইন প্রেসক্লাব অনলাইন পত্রিকার মালিক-সম্পাদক ও সাংবাদিকদের একটি জাতীয় সংগঠন । ২০১৩ সালে প্রতিষ্ঠার পর আমরা সম্মিলিত ভাবে এই সংগঠনটি সারা বাংলাদেশে বিস্তার ঘটিয়েছি। অনলাইন সাংবাদিকদের স্বার্থে এই সংগঠন নি:স্বার্থভাবে কাজ করে যাচ্ছে। এই সংগঠনের গঠনতন্ত্র পরিপন্থি কেউ কোন কাজ করলে তাকে এই সংগঠনে থাকার কোন অধিকার নেই । সে ক্ষেত্রে চট্টগ্রাম অনলাইন প্রেসক্লাব নির্বাচন নিয়ে মুক্তাদের আজাদ খান কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্ত অবজ্ঞা করায় তাকে এই সংগঠন থেকে বহিষ্কার করার এবং পূর্বের কমিটি বহাল রেখে দ্রুত সকল পদে নির্বাচন ঘোষণা করার জন্য সুপারিশ করছি।
নীতিনির্ধারণী কমিটির অন্যতম নেতা সিলেট বিভাগীয় সদস্য মুহিত চৌধুরী তাঁর বক্তব্যে বলেন, চট্টগ্রাম অনলাইন প্রেসক্লাব নিয়ে জটিলতা নিরসনে এবং ঐক্যের স্বার্থে এই মূহুর্তে কাউকে বহিষ্কার না করে নির্বাচন দিয়ে সমাধান করা যায় কিনা তা ভেবে দেখার জন্য সুপারিশ করছি।
নীতিনির্ধারণী কমিটির অন্যতম নেতা পার্বত্য চট্টগ্রাম বিভাগীয় সদস্য নির্মল বড়–য়া মিলন বলেন, ঐক্যের বিকল্প নেই । চট্টগ্রাম অনলাইন প্রেসক্লাবের ঐক্য ধরে রাখার জন্য এই মুর্হূতে মুক্তাদের আজাদ খানকে সরাসরি বহিষ্কার না করে তাকে ১ মাস সময় দিয়ে সাময়িক বহিষ্কার করা যেতে পারে ।
নীতিনির্ধারণী কমিটির অন্যতম নেতা রাজশাহী বিভাগীয় সদস্য অধ্যাপক জাকির সেলিম বলেন,চট্টগ্রাম অনলাইন প্রেসক্লাব নিয়ে মুক্তাদের আজাদ খান যে ষড়যন্ত্র করেছেন তাকে আর সংগঠনের সাথে রাখা যায় না । তাকে সংগঠন থেকে বহিষ্কার করায় শ্রেয় হবে।
নীতিনির্ধারণী কমিটির অন্যতম নেতা রংপুর বিভাগীয় কমিটির সদস্য রোকমুনুর জামান রনি বলেন, চট্টগ্রাম অনলাইন প্রেসক্লাব নির্বাচন পরিচালনা করার দায়িত্ব আমাকে দেয়াছিল কিন্তু মুক্তাদের আজাদ খানের অসহযোগিতার কারণে আমি সুষ্ঠু ভাবে নির্বাচন পরিচালনা করতে না পারায় পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নেই। আমার বলার কিছু নেই । মেজরিটি সদস্যে মতামতের সাথে আমি একমত ।
নীতিনির্ধারণী কমিটির অন্যতম নেতা ঢাকা বিভাগীয় কমিটির সদস্য মিজানুর রহমান হেলাল বলেন, সংগঠন চলবে সাংগঠনিক নিয়মানুযায়ী । সংগঠন বিরোধী কর্মকান্ডে কেউ জড়িত হলে তাকে সংগঠন থেকে বহিষ্কার করা প্রয়োজন বলে আমি মনে করি।
নীতিনির্ধারণী কমিটির অন্যতম নেতা বরিশাল বিভাগীয় কমিটির সদস্য মামুনুর রশীদ নোমানী বলেন, সংগঠনের সাথে কেউ ষড়যন্ত্র করলে তাকে সংগঠনে রাখা উচিৎ হবে না। মুক্তাদের আজাদ খান কেন্দ্রের সিদ্ধান্ত না মেনে যে অপরাধ করেছে তার শাস্তি একমাত্র বহিষ্কার।
নীতিনির্ধারণী কমিটির অন্যতম নেতা খুলনা বিভাগীয় কমিটির সদস্য ওয়ালি উল্লাহ খান বলেন, মেজরিটি সদস্যের সিদ্ধান্তের সাথে আমি একমত।
নীতিনির্ধারণী কমিটির অন্যতম নেতা ময়মনসিংহ বিভাগীয় কমিটির সদস্য তারেকুজ্জামান খানকে অনলাইনে পাওয়া না যাওয়ায় তার বক্তব্য নেয়া সম্ভব হয়নি।
নীতিনির্ধারণী কমিটির সদস্য সচিব শামসুল আলম স্বপন বলেন,আমরা চট্টগ্রাম অনলাইন প্রেসক্লাবের নির্বাচন নিয়ে অনেকটা এগিয়েছিলাম কিন্তু মুক্তাদের আজাদ খানের ষড়যন্ত্রমুলক বিরোধীতার কারণে কাংখিত লক্ষ্যে পৌছুতে পারিনি । মেজরিটি সদস্যদের সাথে এক মত হয়ে আমিও বলবো মুক্তাদের আজাদ খান সংগঠনের সাথে থাকলে সংগঠনটি ব্যক্তিমালিকানায় চলে যাবে।
তাই সকল সদস্যের সাথে একমত হয়ে বলবো সংগঠন থেকে তাকে বহিষ্কার করায় উত্তম হবে।
সভাপতি বক্তব্যে ড. জানে আলম রাবিদ বলেন, জাতীয় অনলাইন প্রেস আগামীতে অনলাইন সাংবাদিকদের বৃহত্তর মিলন মেলায় পরিনত করার জন্য আমরা সম্মিলিত ভাবে কাজ করে যাচ্ছি । তিনি বলেন, সংগঠনে বিশৃংখর সৃষ্টিকারীর সাথে কোন আপোষ নয় বরং কেন্দ্র কঠোর অবস্থান গ্রহন করবে । কেন্দ্রের সিদ্ধান্ত না মানায় মুক্তাদের আজাদ খানকে ১ মাসের সময় দিয়ে তাকে সাময়িক বহিষ্কার করারও সিদ্ধান্ত দেন তিনি।

যে সকল অভিযোগের কারণে মুক্তাদের আজাদ খানকে থেকে চট্টগ্রাম অনলাইন প্রেসক্লাব থেকে সাময়িক বহিষ্কার করা হলো:
১. গত ১জুলাই’১৬ কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দের উপস্থি’তিতে অনুষ্ঠিত চট্টগ্রাম অনলাইন প্রেস ক্লাবের সভার রেজুলেশন জালিয়াতি করে মুক্তাদের আজাদ খান বনপা চট্টগ্রামের সভা দেখিয়ে কেন্দ্রে প্রেরন করেন ।
২. চট্টগ্রাম অনলাইন প্রেসক্লাব নির্বাচনে নির্বাচন কমিশনারের দায়িত্বে রত অনলাইন প্রেসক্লাবের কেন্দ্রীয় নেতা রোকমুনুর জামান রনি বার বার অনুরোধ করা সত্বেও মুক্তাদের আজাদ খান নির্বাচন সংক্রান্ত রেজুলেশন কেন্দ্রে প্রেরণ করেননি। এমন কি জাতীয় অনলাইন প্রেসক্লাবের সম্মানিত সভাপতি ড. জানে আলম রাবিদের অনুরোধও তিনি অবজ্ঞা করেছেন।

২.জাতীয় অনলাইন প্রেসক্লাবের নাম বাদ দিয়ে নিজের ইচ্ছেমত
চট্টগ্রাম অনলাইন প্রেসক্লাবের নামে ফরম ছাপিয়ে বিলি করেন তিনিন।

সিদ্ধান্ত :

১. নীতিনির্ধারনী কমিটির সভায় সংখ্যা গরিষ্ঠ সদস্য মুক্তাদের আজাদ খানকে চট্টগ্রাম অনলাইন প্রেসক্লাব থেকে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত দিলেও সংগঠনের অন্যতম নেতা নির্মল বড়–য়া মিলনের অনুরোধে সংগঠনের সভাপতি ১ মাসের সময় বেধে দিয়ে মুক্তাদের আজাদ খানকে চট্টগ্রাম অনলাইন প্রেসক্লাব থেকে সাময়িক বহিষ্কার করেন। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নিজের কৃতকর্মের জন্য লিখিত ভাবে ক্ষমা প্রার্থনা করে আগামীতে এ ধরণের কোন অপরাধ করবেনা মর্মে মুচলিকা দিলে তার সাময়িক বহিষ্কার আদেশ প্রত্যাহার করা হবে।
২. নির্বাচন না হওয়া পর্যন্ত সুলাইমান মেহেদী হাসান ও মিলাদ উদ্দিন মুন্নার নেতৃত্বাধীন কমিটি চট্টগ্রাম অনলাইন প্রেসক্লাবের দায়িত্ব যথাযথ ভাবে পালন করে যাওয়ার অনুরোধ জানানো হয়।
৩. আগামী নভেম্বর মাসে সকল পদে চট্টগ্রাম অনলাইন প্রেসক্লাবের নির্বাচন করার সিদ্ধান্ত গ্রহন করা হয়।
৪. আগামী ১৫ অক্টোবরের মধ্যে সংগঠনের নিয়মানুযায়ী নতুন সদস্য গ্রহন করা যাবে।
৫. প্রত্যেক বিভাগে সকল জেলায় ও উপজেলায় (যে সকল জেলায় ও উপজেলায় কমিটি আছে সে গুলো বাদে) জাতীয় অনলাইন প্রেসক্লাবের শাখা সংগঠন গড়ে তোলার জন্য বিভাগীয় সদস্যদের প্রতি আহ্বান জানানো হয়।

সভায় আর কোন আলোচ্য বিষয় না থাকায় সভাপতি মহোদয় সকলকে ধন্যবাদ জ্ঞাপন করে সভার কাজ সমাপ্ত ঘোষনা করেন।

বার্তা প্রেরক:
শামসুল আলম স্বপন
সদস্য সচিব
নীতিনির্ধারনী কমিটি

সাধারণ সম্পাদক
জাতীয় অনলাইন প্রেসক্লাব
ঢাকা

এই সংবাদটি 1,225 বার পড়া হয়েছে

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন।
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •