জাদুঘরের ছবিতে কমবে রোগবালাই

চিকিৎসকের ব্যবস্থাপত্রে ওষুধ থাকবে—এটাই স্বাভাবিক। কিন্তু ব্যবস্থাপত্রে যদি চিত্রকর্ম উপভোগ করতে বলা হয়, তাহলে একটু অবাকই হতে হয়। অবাক করা সেই ব্যতিক্রমী ঘটনা এবার বাস্তবে। রোগীরা জাদুঘরে গিয়ে ছবি দেখবেন। এতে মনে প্রশান্তি আসবে, শরীর-মন চাঙা হবে, দম ফেলার ফুরসত মিলবে। কমে যাবে রোগবালাই।

কানাডার মন্ট্রিলে চিকিৎসকদের ব্যবস্থাপত্রে রোগীদের জন্য থাকবে চারুশিল্পকর্ম—মানে শিল্পীদের আঁকা বিভিন্ন ধরনের ছবি। মন্ট্রিল মিউজিয়াম অব ফাইন আর্টস (এমএমএফএ) রোগীদের বিনা মূল্যে জাদুঘরে যাওয়ার ব্যবস্থা করে দিতে চিকিৎসকদের পরামর্শ দিয়েছে। বিশ্বে এ ধরনের পদক্ষেপ এই প্রথম বলে ধারণা করা হচ্ছে।

জাদুঘর কর্তৃপক্ষ বলছে, তাদের চারুশিল্পকর্ম দেখে রোগীরা স্বস্তি পাবেন। এটি তাঁদের একধরনের আরাম দেবে। আগামী ১ নভেম্বর থেকে এই প্রকল্প চালু হবে।

এম ডেকিন্স ফ্রান্সকোফোনস দ্য কানাডার সদস্য চিকিৎসকেরা প্রাথমিক এই প্রকল্পে নিবন্ধন করতে পারবেন। প্রকল্পের প্রাথমিক ধাপে এমএমএফএর জন্য ৫০টি ব্যবস্থাপত্র ইস্যু করা হয়েছে।

এই উদ্যোগের পেছনে জাদুঘরের মহাপরিচালক নাথালিয়ে বন্দিলের ভূমিকা রয়েছে। বিবিসি অনলাইনকে তিনি বলেন, জাদুঘরের সুন্দর পরিবেশ রোগীদের মানসিকতাকে উদ্বুদ্ধ করবে। এটি ভালো মানুষ হতে তাঁদের সাহায্য করবে। রোগীদের অসুখের কষ্টের বাইরে এটা তাঁদের অন্য রকম অভিজ্ঞতা দেবে।

বন্দিল আশা করেন, এই উদ্যোগ সফল হলে জাদুঘর নিয়ে মানুষ নতুনভাবে ভাবতে পারবে। তিনি আরও বলেন, ‘আমরা জাদুঘরের দরজা শুধু রোগীদের জন্য নয়, চিকিৎসকদের জন্যও উন্মুক্ত রাখব।’

চিকিৎসক এইচ ওয়ান নি বয়ার বিবৃতিতে বলেন, জরিপ ও গবেষণায় দেখা গেছে, এই গবেষণা মানুষের শরীরে ও মনে প্রভাব ফেলবে। তিনি আরও বলেন, ‘আমি বিশ্বাস করি, আমার রোগীরা জাদুঘর পরিদর্শন করে আনন্দ পাবেন। তাঁদের কষ্ট কমবে। কোনো পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া থাকবে না।’

জাদুঘরে বিভিন্ন থেরাপিরও বন্দোবস্ত করা হয়েছে। এ জন্য চিত্রকর্মবিষয়ক থেরাপিস্টকে ভাড়া করা হয়েছে। খাবারে অরুচি থেকে শুরু করে স্তন ক্যানসারের মতো অসুখেরও উপশম হতে পারে থেরাপিতে। মন্ট্রিল জাদুঘর বলছে, চারুশিল্প ভালো ওষুধ।