জাফলংয়ে একদিন

কুবাদ বখত চৌধুরী রুবেল :::
ঘটনাটি ঘটেছিল ঈদুল আযহার পরের শুক্রবার। ফজরের নামাজ পড়ে প্রতিদিনের মতো ঘুমিয়ে যাই। সকাল ৮টা থেকে ৯টার মধ্যে ঘুম থেকে উঠি। সেদিনও এর ব্যতিক্রম হয়নি। ৯টার সময় ঘুম ভাঙলে হাত-মুখ ধুয়ে ফ্রেশ হয়ে নাস্তা করতে বসি। এমন সময় মুঠোফোন বেজে ওঠে। ফোন ধরতেই ওপাশ থেকে কল্যাণপুরের আজাদ ভাই বললেন, রুবেল ভাই আপনি কোথায়?
বললাম, এই তো বাসায় নাস্তা করতে বসেছি।
আচ্ছা নাস্তা শেষ করে নিপবনের মেইনরোডে চলে আসুন। আপনাকে সাথে নিয়ে জাফলংয়ে বনভোজনে যাবো। এটা কী করে সম্ভব? কোনো প্রস্তুতি নেই। হঠাৎ করে এভাবে কি যাওয়া যায়?
তিনি বললেন, ভাই আপনার তো কিছুই লাগবে না। আপনি শুধু কাপড় পরে আসুন।
যাক, সবকিছুর পর আমারও তো খুবই শখ ছিল জাফলংয়ে বেড়াতে যাওয়ার। তাই নাস্তা শেষ করে চলে এলাম নিপবন সড়কের মুখে। আমি আসার আগেই গাড়ি চলে এসেছে। আজাদ ভাই গাড়ি থেকে নেমে আমাকে স্বাগত জানালেন। বললেন, ভাই গাড়িতে উঠুন। আমি উঠে বসলাম তাঁর পাশে। কথা বলতে বলতে চলে এলাম বটেশ্বর বাজারের পাশে। কথা বলতে বলতে টের পেলাম, এই বনভোজনটা তাদের একান্তই পারিবারিক। সকলেই তাদের আত্মীয়-স্বজন। তাই আমি একটু লজ্জাবোধ করছিলাম। এটা বুঝতে পেরে আজাদ ভাই আমাকে বাসযাত্রী সবার সাথে পরিচয় করিয়ে দিলেন। বললেন, শুধু আমার বউ, তোমার পরিচয়ের বাইরে থাক।
আমি অবাক হয়ে বললাম, এ কেমন কথা? ভাবীকে চিনবো না? বললেন, শোন রুবেল ভাই। আমি আসলেই সত্যকথা বলছি। কারণ আমার এত আদরের বউয়ের সাথে কেউ কথা বলুক এটা আমি চাই না। পরিচয় করে দিলেই তো কথা বলবেন।
বললাম, তাহলে তো একটা স্যুটকেসে বা আলমিরার ভেতরে রেখে দিলেই ভালো হতো। কেউ দেখতো না, কথাও বলতে পারতো না।
তিনি হেসে বললেন, রুবেল ভাই, প্রথমেই তো আমার বউকে পরিচয় করিয়ে দিয়েছি। কথা হলো বউ কথাটি বলিনি। বলেছি বোন। আমার আসলে অপরিচিত বা কম পরিচিত মহিলাদের সাথে কথা বলতে লজ্জা লাগে। এটা আমার ছোটবেলা থেকেই অভ্যাস।
আজাদ ভাইয়ের সাথে পরিচয়ের সময়কাল বেশি না হলেও সম্পর্কটা এত গভীরে চলে গেছে যা কল্পনা করাও কঠিন। যাক এটা হতে পারে দুটি কারণে। একটা হলো মনের মিল। আরেকটা হলো ভাবের মিল। কারণ তিনি একজন ভালো গীতিকার ও সুরকার। আমিও কিছুটা গানে সুর করার চেষ্টা করি। তবে তার মতো নয়। গল্প করতে করতে এসে গেলাম জাফলং পিকনিক স্পটে। দুটি স্থান ঘুরে শেষমেষ এসে দীর্ঘ সময় কাটালাম তামাবিল জিরো পয়েন্টে। ভারতের বিএসএফ আর বাংলাদেশের বিজিবি সদস্যদের সাথে কথা বললাম। দেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিজিবি সদস্যদের সাথে আলাপ করে বেশ ভালো লাগলো। জানতে পারলাম অনেক কিছু। এ সময় দেখতে পেলাম ভারতের মেঘালয় রাজ্যে অবস্থিত উঁচু উঁচু পাহাড়ের ঝরণাধারা যা শত শত ফুট উপর থেকে নিচের দিকে প্রবলবেগে প্রবাহিত হচ্ছে। জুমা’র নামাজ পড়ে খাওয়া-দাওয়া করে বিকাল ৫টার দিকে শ্রীপুরের নির্ধারিত পিকনিক স্পট থেকে রওয়ানা হই বাড়ির উদ্দেশ্যে। অর্থাৎ সিলেট শহরের দিকে।
আসার পথে আজাদ ভাই বলেন, রুবেল ভাই বাসায় গিয়ে কী করবেন? আমাদের সাথে টিলাগড়ে চলে আসেন। আরও কিছু সময় আনন্দ-ফূর্তি করে তারপর বাসায় চলে যাবেন। বললাম, ভাই আমি বড় অসহায় মানুষ। তোমার সকল আত্মীয়-স্বজন, বংশ-গোষ্ঠী সকলেই গাড়িতে। আর আমি একা। এখন যেটাই বলবে সেটা মেনে নেব। যাক সবকিছুর পর ২৪ আগস্ট সারাদিন আনন্দ উল্লাসের মধ্য দিয়ে কাটালাম। যা স্মরণীয় হয়ে থাকবে জীবনভর।