জামালগঞ্জ খুঁজারগাও প্রাইমারী স্কুলর টাকা আত্মসাতের অভিযোগ

প্রকাশিত:রবিবার, ০৭ আগ ২০১৬ ০৩:০৮

sdef-300x200

সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি :
সুনামগঞ্জের জামালগঞ্জ উপজেলার ফেনারবাাঁক ইউনিয়নের খুঁজারাগাও সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শংকর সমাজপতি স্কুল মেরামতের অনুদান ৭৫ হাজার টাকা আত্মসাতের অভিযোগ পাওয়া গেছে।
একই গ্রামের মৃত: প্রদীপ রঞ্জন পুরকায়স্থর ছেলে সমাজকর্মী সুব্রত পুরকায়স্থ লিখিত ভাবে এই অভিযোগ করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে। লিখিত অভিযোগ থেকে জানা যায়, খুজারগাঁও সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ২০১৫-’১৬ অর্থ বছরের স্লিপ, ক্ষুদ্র মেরামত ও প্রাক-প্রাথমিক খাতের ৭৫ হাজার টাকা অনুদান প্রদান করাহয় ওই স্কুলে। স্কুর প্রধান শিক্ষক শংকর সমাজপতি তার অনুগত মনগড়া ম্যানেজিং কমিটি দিয়ে টাকা উত্তোলন করে নামমাত্রে কালার করে বাকী টাকা আত্মসাত করেছেন। অভিযোগ থেকে আরো জানা যায়,ওই স্কুরে ৪জন শিক্ষক থাকলেও ক্লাশ উপস্থিত থাকেন দু’একজন। বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নিজেই রাতের বেলায় ওই বিদ্যালয়ে মদ ও জুয়া খেলার আড্ডা বসান। গোষ্টি ও পেশী শক্তির কারণে ওই প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে সাধারণ মানুষ ভয়ে কিছু বলতে পারেননা। তিনি প্রধান শিক্ষক হলেও সপ্তাহে ৩-৪ দিন স্কুল ফাঁকি দিয়ে উপজেলা সদরে বসে আড্ডা দেন শিক্ষা কর্মকর্তার চোখের সামনেই। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক ব্যাক্তি জানান, শংকর সমাজপতি প্রায় দিনই স্কুল চলাকালিন সময় উপজেলা সদরে চায়ের দোকান, হোটেল ও অফিস পাড়ায় ঘুরাফেরা করেন।
হাওর পাড়ের বিদ্যালয় গুলোর চিত্র খুবই করুন,কেউ কারো খবর রাখেননা,যে যার মতো করো চলছে। শিক্ষকরা ঠিক মতো বিদ্যালয়ে যাননা,গেলেও কখন উপজেলা সদরে ফিরে আসবেন সেই চিন্তাই থাকেন। শিক্ষকদের খেয়ালী পনাই,আর দায়সাড়া দায়িত্ব পালনের জন্য হাওর পাড়ের শিক্ষা ব্যবস্থা ভেস্তে যেতে বসেছে। বিদ্যালয় মেরামতের জন্য স্লিপের টাকা সহ অন্যান্য খাতের টাকা খরচের কোন কমিটি করেননা,দুই একটা করলেও নামমাত্র,কোন কাজ হয়না,অবশ্য সব গুলি বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা স্বীকার করেছেন টাকা জমা আছে। পরে কাজ করবো,আবার কোন কোন শিক্ষক বলেছেন কাজ অচিরেই শুরু করবো। আবার কোন কোন বিদ্যালয়ের কমিটির লোকজনই জানেননা স্লিপের টাকার কথা। অবশ্য জামালগঞ্জের শিক্ষা কর্মকর্তা শিক্ষা ক্ষেত্রের অনিয়ম গুলোকে কোন ছাড় দিবেননা বলে সাফ জানিয়েছেন। এব্যাপারে খুজারগাও সরকারী প্রাথমিক স্কুলের অভিযুক্ত প্রধান শিক্ষক শংকর সমাজপতি বলেন, যা লেখেন বুইজ্জা লেইখেন, কে আমার বিরুদ্ধে লিখিত দিছে বলেন, হে আমার গ্রামের কেউনা। আমার বিরুদ্ধে মিছা অভিযোগ দিছে।
জামালগঞ্জ উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো: নূরুল আলম ভুইয়া বলেন, প্রাথমিক শিক্ষাই শিক্ষার মুল স্তম্ভ। এক্ষেত্রে কোন আপোষ নয়, স্লীপের টাকা আত্মসাত হলে উদ্ধারের ব্যবস্থা হবে। প্রধান শিক্ষক শংকর সমাজপতি অনিয়মিত বিদ্যালয়ে যাওয়া সব গুলো বিষয়েই দ্রুত পদক্ষেপ ও ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে। স্কুল চলাকালিন সময়ে স্কুল’র কাজ ছাড়া উপজেলা সদরে আসলে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেয়া হবে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা টিটন খীসা বলেন, লিখিত অভিযোগ পেয়েছি তদন্ত সাপেক্ষে প্রযোজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।

এই সংবাদটি 1,225 বার পড়া হয়েছে

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন।
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ