জুরাছড়ি স্বেচ্ছায় পাঠদান দিচ্ছে তরুণ-তরুণী

প্রকাশিত:মঙ্গলবার, ০১ সেপ্টে ২০২০ ১২:০৯

জুরাছড়ি স্বেচ্ছায় পাঠদান দিচ্ছে তরুণ-তরুণী

সুপ্রিয় চাকমা শুভ, রাঙ্গামাটি :
রাঙ্গামাটির পাহাড়ি দুর্গম এলাকা জুরাছড়ি উপজেলার ১নং ইউনিয়নের ৭নং ওয়ার্ডের নন্দীছড়া গ্রাম। এ গ্রামে ৭০ পরিবারের বসতি সেই আদিকাল থেকে। গ্রামে এখনো পৌঁছায়নি উন্নত শিক্ষার ব্যবস্থা। বসতি পরিবারের বেশির ভাগই জুম চাষের উপর জীবিকা চলে। ৭০ পরিবারের অধিক বসতি হলেও সেখানে নেই কোনো বিদ্যালয়। নেই শিক্ষার আলো বিকশিত করার মত কোনো জনপ্রতিনিধি। কিন্তু সেই নন্দীছড়া গ্রামে ছোট্ট ছেলে-মেয়েদের শিক্ষার আগ্রহ আর উৎসাহ যেন পাহাড় বলে দেয় এদের শিক্ষায় শিক্ষিত করতে হবে। গ্রামের অভিভাবকদের স্বপ্ন তাদের গ্রামে একদিন স্কুল হবে। ছেলে-মেয়েরা শিক্ষার আলো দেখবে । শিক্ষার আলোর বিকশিত হবে পুরো গ্রাম। সেই লালিত স্বপ্ন বাস্তবায়নে স্বেচ্ছায় পাঠদান দিয়ে ব্রত নিয়েছেন নন্দীছড়া গ্রামের মিতু চাকমা ও মিতালী চাকমা। গ্রামের ছেলে-মেয়েরা যাহাতে শিক্ষার আলোয় আলোকিত হয় সে ব্রত নিয়েই এক বছরের অধিক স্বেচ্ছায় পাঠদান দিয়ে যাচ্ছেন দুই তরুণ-তরুণী।
কথা হয় সেই দুর্র্গম পাহাড়ি নন্দীছড়া গ্রামের বাসিন্দা বারত্যা চাকমা’র সঙ্গে। কথা বলে জানা যায়, ২০১২ সালে বেসরকারি এনজিও প্রতিষ্ঠান ব্র্যাক কর্তৃক একটি খন্ডকালিন প্রাক-প্রাথমিক বিদ্যালয় স্থাপন করা হয়। ব্রাকের সেই উদ্যোগটি ২০১৯ সাল পর্যন্ত চলমান থাকে। কিন্তু সেই প্রোগ্রাম চলমান রয়েছে কয়েক বছর মাত্র। বর্তমানে নন্দীছড়া গ্রামে দুইজন তরুণ-তরুণী স্বেচ্ছায় গ্রামের ছেলেমেয়েদের অপ্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন।
স্থানীয় বাসিন্দা জ্ঞানশ^র চাকমা জানান, নন্দীছড়া এবং গন্দীছড়া এলাকায় ৫০ জনের অধিক ছেলেমেয়ে রয়েছে। পাশর্^বর্তী গ্রামে প্রাথমিক বিদ্যালয় থাকলেও নন্দীছড়া গ্রাম থেকে প্রায় ৫ কিলোমিটার দূরে। যারকারণে ছেলেমেয়েদের পড়া-লেখার সুযোগ হয়ে উঠে না। ছেলে-মেয়েদের মানুষ গড়ার জন্য অচিরেই একটি প্রাথমিক বিদ্যালয় স্থাপনের জন্য সরকারের কাছে দাবী করেন।
ইউপি সদস্য কিরণ কুমার চাকমা প্রতিবেদককে জানান, দুই গ্রাম নিয়ে ৭০ পরিবারের অধিক এদের বসবাস। এই এলাকার অনেক ছেলেমেয়ে রয়েছে। ছেলেমেয়েদের কথা চিন্তা করে এলাকার দুইজন তরুণ তরুণী নিজেরা স্বেচ্ছায় এগিয়ে এসে নন্দীছড়া,গন্ধীছড়া গ্রামের শিশুদের শিক্ষার আলো দিয়ে যাচ্ছে। তিনি আরো জানান,এলাকাবাসী দাবীর প্রেক্ষিতে একটি প্রাথমিক বিদ্যালয় স্থাপনের জন্য চেয়ারম্যান উপজেলা পরিষদ বরাবর একটি দরখাস্ত করা হয়েছিল।
উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান সুরেশ কুমার চাকমা জানান, নন্দীছড়া ও গন্দীছড়া এলাকার একটি প্রাথমিক বিদ্যালয় স্থাপনের জন্য একটি দরখাস্ত পেয়েছি। নন্দীছড়া গ্রামসহ কয়েকটি বিদ্যালয়হীন গ্রাম চিহিৃত করে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদফতর (এলজিইডি)মাধ্যেমে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রনালয়ে তালিকা পাঠানো হয়েছে। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর ঘোষনা অনুযায়ী বিদ্যালয়হীন গ্রামে পিইডিপি ৪ প্রকল্পের আওতায় নতুন বিদ্যালয় পাওয়া গেলে উক্ত নন্দীছড়া গ্রামে বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করা হরে এমনটাই বলেন।
উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার কৌশিক চাকমা জানান, বিদ্যালয়হীন গ্রামে পিইডিপি ৪ প্রকল্পের আওতায় ১০০০ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় স্থাপনের লক্ষে জুরাছড়ি উপজেলার চারটি বিদ্যালয়হীন গ্রামের তালিকা প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রনালয়ে এলজিইডি মাধ্যেমে পাঠানো হয়েছে

এই সংবাদটি 1,231 বার পড়া হয়েছে

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন।
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •