Fri. Dec 13th, 2019

BANGLANEWSUS.COM

-ONLINE PORTAL

জেলা আওয়ামী লীগের সম্মেলন আলোচনায় নেতাকর্মীদের ‘দুঃসময়ের বন্ধু’ এডভোকেট নিজাম উদ্দিন

1 min read

মকসুদ আহমেদ মকসুদঃ

মো. নিজাম উদ্দিন এডভোকেট। বঙ্গবন্ধুর আদর্শের একজন সৈনিক। যিনি সময়ে, দুঃসময়ে আওয়ামী আদর্শের নেতাকর্মীদের আশ্রয়ের অন্যতম ঠিকানা। এ কারণে ‘ক্লিন ইমেজধারী’ এই নেতা সকলের কাছে সমানভাবে জনপ্রিয়।

 

বর্তমানে জেলা আওয়ামী লীগের ১ম যুগ্ম সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করছেন তিনি। সক্রিয় রাজনীতির পাশাপাশি সিলেট জেলা বারে আইনপেশায় অনুশীলন করছেন। জেলা জজ কোর্টের অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিকিউটরের (এপিপি) দায়িত্বে রয়েছেন। ক্ষমতাসীন দলের একজন পদধারী নেতা হয়েও নেই অহংকার, বিলাসিতা; একেবারে সাদামাঠা জীবনযাপনে তিনি অভ্যস্ত।

 

আসন্ন সিলেট জেলা আওয়ামী লীগের কাউন্সিলে এডভোকেট নিজাম উদ্দিন সাধারণ সম্পাদক হওয়ার দৌঁড়ে এগিয়ে রয়েছেন। নেতাকর্মীরা মনে করছেন, বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনার দুর্নীতিবিরোধী অভিযান চলাকালে আওয়ামী লীগের এই কাউন্সিল হচ্ছে। তাই, একজন পরিচ্ছন্ন রাজনীতিবিদ হিসেবে সাধারণ সম্পাদক হওয়ার যোগ্য প্রতিদ্বন্দ্বী নিজাম উদ্দিন। যিনি আশির দশকে দলের দুঃসময়ে বাংলাদেশ ছাত্রলীগের হাল ধরেছেন।

 

তৃণমূল নেতাকর্মীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ১৯৯১ ও ২০০১ পরবর্তী দুঃসময়ে আওয়ামী আদর্শের নেতাকর্মীরা যখন বিএনপি-জামায়াত সরকারের জেল জুলুম নির্যাতনের শিকার, তখন আদালত প্রাঙ্গনে তাদের অন্যতম আশ্রয়স্থল ছিলেন এডভোকেট নিজাম উদ্দিন। বিনা পয়সায় তাদের পক্ষে আদালতে লড়েছেন বঙ্গবন্ধুর আদর্শের এই নেতা।

 

এখনও সেই আদর্শ থেকে বিচ্যুত হননি তিনি। আওয়ামী আদর্শের কোন নেতাকর্মী টাকা পয়সার অভাবে মামলা পরিচালনায় অসহায় হলে নিজাম উদ্দিনের কাছে ছুটে যান।

 

দীর্ঘ রাজনীতির ক্যারিয়ারে তার সুনির্দিষ্ট কোন বলয় নেই। দলের সভাপতি বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনা তাকে সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব দিলে সবার আগে জেলা আওয়ামী লীগে ঐক্য গড়ে তোলার স্বপ্ন দেখেন সবার নেতা নিজাম উদ্দিন এডভোকেট।

 

আদর্শিকভাবে আওয়ামী পরিবারের সন্তান এডভোকেট নিজাম উদ্দিনের রাজনীতি শুরু পঁচাত্তর পরবর্তী দুঃসময়ে। তখন বাবা মো. আপ্তাব উদ্দিন সিলেট জেলা আওয়ামী লীগের একজন কার্যকরি সদস্য। মরহুম আপ্তাব উদ্দিন দক্ষিণ সুরমার তেতলী ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ছিলেন।

 

১৯৮০-৮৩ সালে নিজাম উদ্দিন সিলেট জেলা ছাত্রলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন। পরবর্তীতে ১৯৮৩-৮৬ সালে তিনি জেলার সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন। সাধারণ সম্পাদক থাকাকালে এরশাদ বিরোধী আন্দোলনে সর্বদলীয় ছাত্র সংগ্রাম পরিষদের কর্মী হিসেবে কারাবরণও করতে হয় তাকে।

 

 

ছাত্রজীবন শেষে তিনি আইনপেশায় যুক্ত হন। ১৯৯৬-২০০১ সাথে সরকারের সহকারী পিপির দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৯৯-২০০৩ সালে সিলেট জেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের আহ্বায়কের দায়িত্ব পালন করেন। ২০০২-২০০৫ সালে জেলা আওয়ামী লীগের আইন বিষয়ক সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন। পরবর্তীতে সিলেট জেলা আওয়ামী লীগের প্রথম যুগ্ম সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পান।

 

রাজনীতির পাশাপাশি বিভিন্ন শিক্ষা ও সামাজিক কাজে সম্পৃক্ত রয়েছেন এডভোকেট নিজাম। সিলেট ডায়াবেটিক সমিতির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক, দক্ষিণ সুরমা কলেজের গভর্ণিং বডির সদস্য, সিলেট জেলা ক্রীড়া সংস্থার কার্যকরি কমিটির সদস্য, জালালাবাদ অন্ধকল্যাণ সমিতি, জাতীয় যক্ষ্মা নিরোধ কমিটি, রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি, কেন্দ্রীয় মুসলিম সাহিত্য সংসদ ও বাংলাদেশ পরিবার পরিকল্পনা সমিতি সিলেটের জীবন সদস্য এবং সিলেট কেন্দ্রীয় কারাগারের বেসরকারী কারা পরিদর্শক তিনি।

 

আসন্ন কাউন্সিল নিয়ে নিজাম উদ্দিনের সঙ্গে আলাপ হলে এ প্রতিবেদককে তিনি বলেন, ‘আমি বঙ্গবন্ধুর আদর্শের রাজনীতি করি। আজীবন এই আদর্শকে মনেপ্রাণে লালন করে বাঁচতে চাই।’

 

নিজাম উদ্দিন বলেন, ‘১৯৮৩ সালে যখন আমাকে জেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব দেয়া হয় তখন মেধা ও শ্রম ব্যয় করে একটি শক্তিশালী ছাত্রসংগঠন হিসেবে গড়ে তোলার চেষ্টা করেছি। আগামী কাউন্সিলে নেত্রী আমাকে জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব দিলে নিজের সর্বশক্তি নিয়োগ করে ‘গ্রুপিংয়ের উর্ধ্বে’ শক্তিশালী জেলা আওয়ামী লীগ গড়ে তোলার চেষ্টা করবো।’

 

সাধারণ সম্পাদক প্রার্থী হিসেবে নিজেকে কেন যোগ্য মনে করেন- এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘আমি যেহেতু আওয়ামী পরিবারের সন্তান। ছাত্ররাজনীতি থেকে আজ পর্যন্ত কেবল বঙ্গবন্ধুর রাজনীতি করেছি। বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনা যোগ্য মনে করলে দায়িত্ব দেবেন, দায়িত্ব না দিলে এই আদর্শ থেকে এক চুলও বিচ্যুত হবো না।’

 

দলের সভাপতি বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনার দুর্নীতিবিরোধি অভিযানকে স্বাগত জানিয়ে এডভোকেট নিজাম উদ্দিন বলেন, সংবাদপত্রের মাধ্যমে আমরা বিভিন্ন অঞ্চলে দুর্নীতির যে চিত্র জেনেছি সিলেটে সেরকম দুর্নীতির খবর পাওয়া যায়নি। তবে, এধরণের কোন অভিযোগ পাওয়া গেলে আমরা নেত্রীর এ পরিচ্ছন্নতা অভিযানকে সিলেটেও স্বাগত জানাবো।’

 

আওয়ামী লীগ সরকারের উন্নয়ন কর্মকান্ড জনগণের দ্বোরগোড়ায় পৌঁছে দেওয়া ও জনকল্যাণে নেতাকর্মীদের সম্পৃক্ত করার ক্ষেত্রে নিজে কী ভূমিকা পালন করবেন- এমন প্রশ্নের জবাবে নিজাম উদ্দিন বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন সরকার তৃতীয় মেয়াদে ক্ষমতায় রয়েছে। সরকার শিক্ষা, স্বাস্থ্য, খাদ্য, বিদ্যুৎ ও যোগাযোগ ব্যবস্থার ক্ষেত্রে ব্যাপক উন্নয়ন হয়েছে। এসব উন্নয়নের সুফল জনগণ ভোগ করছে। গ্রুপিংয়ের উর্ধ্বে তৃণমূল থেকে ঐক্যবদ্ধ আওয়ামী লীগ গড়ে তোলা গেলে স্বাভাবিকভাবেই জনগণের সঙ্গে দলের সম্পৃক্ততা বেড়ে যাবে।’ দায়িত্ব পেলে সবার আগে সেদিকেই নজর দেবেন এডভোকেট নিজাম উদ্দিন।

Copyright © Banglanewsus.com All rights reserved. | Newsphere by AF themes.