জয়া: যিনি ভূত তিনিই পরি

প্রকাশিত: ২:০১ পূর্বাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ১২, ২০১৯

জয়া: যিনি ভূত তিনিই পরি

জয়া আহসান যতটা প্রিয় তাঁর এই নিজের দেশে, ততটা পাশের দেশ ভারতেও। ভারতের পশ্চিমবঙ্গের একাধিক ছবি নিয়ে এখন ব্যস্ততায় ভরা জয়ার দিন-রাত। আমরা জয়ার তেমনি একটা ব্যস্ত দিনে হানা দিই। ভিনদেশের মাটিতেও দিব্যি নিজের জায়গা করে নেওয়া এই অভিনেত্রী ও তাঁর কাজ নিয়েই আমাদের এবারের প্রচ্ছদ। বোলপুর ঘুরে এসে লিখেছেন সাজ্জাদ শরিফ

 

মাথার ওপরে গনগনে রোদ। পায়ের তলায় তপ্ত মাটি। আমরা এসেছি বর্ধমানের এক গ্রামে, রুক্ষ লাল মাটির বীরভূম পেছনে ফেলে। দুপুরও বিকেলের দিকে খানিকটা কাত হয়ে পড়েছে। তবু গরমের হলকা পিছু ছাড়েনি। গায়ে ছেঁকা দিচ্ছে। দূর থেকেই চোখে পড়ল লোকেশনের ব্যস্ততা। প্রবল তাপে দৃশ্যপট আবছা, ধোঁয়া ধোঁয়া। ওই ঘোলাটে চাঞ্চল্যের মধ্যেও সব ছাপিয়ে চোখে পড়ে, লালপদ্মের মতো মস্ত কী একটা ফুটে আছে। কাছে গেলে বুঝি, ওই লালপদ্মটা আসলে জয়া, আমাদের জয়া আহসান। তপ্ত হাওয়ায় দূর থেকে যা লাল দেখাচ্ছিল, তা আসলে গোলাপি। এই নির্দয় গরমে জয়ার গায়ে সিনথেটিকের গোলাপি ফ্রক। তিনি কিনা এ ছবিতে ভূত। অথবা পরি। কিংবা, বলা যায়, দুটোই।

 

ভূতপরী ছবির এই সেট পড়েছে শ্মশানে। দাহ করার হলুদ চাতাল। তার সামনে অমসৃণ মাটির রাস্তা। রাস্তার এক পাশে কাশফুলের উঁকিঝুঁকি। অন্য পাশে ধনুকের মতো বেঁকে উঠে যাওয়া তালগাছ। তাতে হেলান দিয়ে নির্দেশনা দিচ্ছেন পরিচালক সৌকর্য ঘোষাল। এ দৃশ্যের পাত্রপাত্রী বাংলাদেশের জয়া আর কলকাতার কিশোর বিশান্তক মুখোপাধ্যায়।

 

সৌকর্য ঘোষালের স্ত্রী পূজা চট্টোপাধ্যায় এ ছবির একজন কুশলী। গরমের কথা তুলতেই বললেন, আজ আর কী! গরম ছিল কাল, ৪৫ ডিগ্রি। তার মধ্যে আবার দৃশ্য পড়েছিল চিতার। সেই গরমে লকলকে আগুন ঘেঁষটে চলেছে জয়ার অভিনয়। জয়া তবু অবিচল। জয়ার নিষ্ঠা আর একাগ্রতার কথা পূজা পাঁচমুখ করে বলতে থাকেন।

 

দূর থেকে জয়াকে দেখি। টেকের পরে টেক চলছে। টেকের ছোট ছোট ফাঁকেও অভিনেত্রী–সত্তা থেকে তিনি চকিতে ফিরে আসছেন আপন স্বভাবে। জয়া প্রকৃতিমুগ্ধ। মগ্ন হয়ে কাশফুল দেখছেন। এক হাতে কাশের ডাঁটা ধরে আরেক হাত সাদা কেশরে বোলাচ্ছেন আলতো করে। গ্রামের লোক এসেছে নায়িকা দেখতে। রোগাপটকা এক কুকুরও ভিড়ে গেছে জটলায়। ওরা কি টের পায়, কার কাছে গেলে প্রশ্রয় পাওয়া যাবে? সুযোগ পেলেই ছুটে যাচ্ছে জয়ার কাছে। আদর কেড়ে নিচ্ছে জয়ার।

 

টেক শেষ হলে জয়া এলেন। গলগল করে ঘামছেন। একজন দৌড়ে এসে মুখ মুছিয়ে দিলেন। আমাদের দেখেই জয়ার ক্লান্তি উধাও। মুখে সেই অমলিন স্নিগ্ধ হাসি, ‘কষ্ট হয়নি তো পথে?’ কণ্ঠে ঝরে পড়ল আতিথ্যের আন্তরিকতা। শান্তিনিকেতনে যাচ্ছি শুনে জয়াই গাড়ি পাঠিয়ে দিয়েছিলেন, শুটিংয়ের ফাঁকেফোকরে নিছকই নির্জলা আড্ডার লোভে।

 

শ্মশান মানেই পাশে কোনো নদী। এখানকারটা নদী নয়, নদ। ভিড় পেছনে রেখে আমরা সন্ধ্যাবেলার অজয় নদের তীরের দিকে হেঁটে যাই। এটা–সেটা কথার ফাঁকে শুনি জয়ার এবারের অভিজ্ঞতা। কাল চিতার পাশে দাঁড়িয়ে শুটিং করার সময় মনে হচ্ছিল, মাংস গলে পড়ে যাবে। আগুনে গরম মাটিতে সারা দিন ছোটাছুটিও করতে হয়েছে খালি পায়ে। পায়ে ফোসকা পড়ে যায় যায় অবস্থা। বেশ কিছু দিন ধরে এভাবেই শুটিং চলছে, ভোর থেকে রাত ১১টা–সাড়ে ১১টা পর্যন্ত। সত্যি, চলচ্চিত্রের পর্দায় যা ঝলমলে রঙিন দেখায়, তার পেছনে কতই না শারীরিক ক্লেশ! সে চিহ্ন থেকে যায় আড়ালে, সৃষ্টির হৃদয় নিংড়ে নেওয়া যন্ত্রণার কথা যদি বাদও দিই।

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন।
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •