টাইফুন গনির আঘাতে ফিলিপাইনে ১৬ জনের প্রাণহানি

প্রকাশিত:মঙ্গলবার, ০৩ নভে ২০২০ ০৭:১১

টাইফুন গনির আঘাতে ফিলিপাইনে ১৬ জনের প্রাণহানি

ফিলিপাইনে বছরের সবচেয়ে শক্তিশালী টাইফুনের আঘাতে অন্তত ১৬ জনের প্রাণহানি ঘটেছে। এতে কয়েক হাজার ঘরবাড়ি ধ্বংস হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত এলাকার সঙ্গে যোগাযোগব্যবস্থা বিচ্ছিন্ন রয়েছে।

রোববার টাইফুনের আঘাতে কাটানডুয়ানেস দ্বীপ ও সর্বাধিক জনবহুল লুজন দ্বীপের আলবে প্রদেশে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। টাইফুনটি পূর্ব উপকূলে আঘাত হানার সময় বাতাসের সর্বোচ্চ গতিবেগ ছিল ঘণ্টায় ২২৫ কিলোমিটার। খবর এএফপির।

 

লুজনের দক্ষিণ অংশে আঘাত হানার সময় ক্ষিপ্র বাতাস ও মুষলধারে বৃষ্টিতে বিদুৎ লাইন উপড়ে যায়, ঘরবাড়ি প্লাবিত হয় এবং ভূমিধস ঘটে।
এটির তীব্রতা হ্রাস পেলে রাজধানী ম্যানিলার বিস্তৃত এলাকা ছাড়িয়ে দক্ষিণ চীন সাগরের দিকে অগ্রসর হয়।

ফিলিপাইন রেড ক্রসের প্রধান রিচার্ড গর্ডন এক বিবৃতিতে বলেন, আমরা কাটানডুয়ানেস দ্বীপ ও আলবেসহ এই অঞ্চলের বেশ কটি এলাকায় তীব্র বিপর্যয়ে হতবিহ্বল হয়ে পড়েছি।

তিনি বলেন, কোনো কোনো এলাকায় ৯০ শতাংশ বাড়িঘর মারাত্মকভাব ক্ষতিগ্রস্ত বা ধ্বংসপ্রাপ্ত হয়েছে। কোভিড ১৯-এর কারণে শারীরিক, মানসিক ও অর্থনৈতিকভাবে বিপর্যস্ত মানুষের জীবন ও জীবিকা এই টাইফুনে পুরোপুরি নষ্ট হয়ে গেছে।

 

প্রায় চার লাখ মানুষ টাইফুনের আগে তাদের ঘরবাড়ি ছেড়ে যায়। তাদের অধিকাংশই আশ্রয়কেন্দ্রে ঠাঁই নেয়। এদিকে কর্তৃপক্ষ ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাসমূহে বিদ্যুৎ ও টেলিযোগাযোগ পরিষেবা পুনঃস্থাপনের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।

প্রাদেশিক দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা প্রধান সেড্রিক দায়েপ বলেন, আলবে প্রদেশে ১০ জনের প্রাণহানি ঘটেছে। দুর্যোগের পূর্বে লোকজনকে সরিয়ে না নেয়া হলে হাজার হাজার মানুষের মৃত্যু ঘটত।

পুলিশ জানায়, সক্রিয় আগ্নেয়গিরি মেয়নসংলগ্ন দুটি গ্রামের বেশ কিছু ঘরবাড়ি লাভার কারণে ভূমিধসে চাপা পড়ে এবং তিনজন মারা যান। আরও তিনজন এখনও নিখোঁজ রয়েছেন।

সুপার টাইফুন গনির আঘাতে কাটানডুয়ানেসে কমপক্ষে ছয়জনের মৃত্যু হয়। কর্তৃপক্ষের অনুমান সেখানে বেশিরভাগ বাড়িঘর ও অবকাঠামো ধ্বংস হয়ে গেছে।

সিভিল ডিফেন্স এক বিবৃতিতে বলেছে, গনির আঘাতে প্রায় ২০ হাজারের বেশি বাড়িঘর পুরোপুরি ধ্বংস, ৫৫ হাজার ৫০০ ঘরবাড়ি আংশিক ও কৃষিজমি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

ফিলিপাইন প্রতি বছর গড়ে প্রায় ২০টি ঝড় ও টাইফুনের কবলে পড়ে, যা ফসল, ঘর ও অবকাঠামো ধ্বংস করে এবং লাখ লাখ মানুষ দীর্ঘস্থায়ী দারিদ্র্যের শিকার হন।

 

 

এই সংবাদটি 1,229 বার পড়া হয়েছে

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন।
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ