টাইব্রেকার জয় করে শেষ আটে ইংল্যান্ড

বিশ্বকাপে টাইব্রেকারে পৌঁছে তিন ম্যাচের তিনটিতেই হেরেছিল ইংল্যান্ড। অবশেষে টাইব্রেকার জয় করলো ইংলিশরা। কলম্বিয়াকে ভাগ্য পরীক্ষায় হারিয়ে রাশিয়া বিশ্বকাপের শেষ আটে উঠেছে সাউথগেটের শিষ্যরা।

 

দ্বিতীয়ার্ধে পেনাল্টি থেকে হ্যারি কেইনের গোলে এগিয়ে গিয়েছিল ইংল্যান্ড। যোগ করা সময়ে দুর্দান্ত হেডে সমতা ফেরান ইয়েরি মিনা। অতিরিক্ত সময়েও ম্যাচে ছিল ১-১ সমতা। অবশেষে টাইব্রেকারে ৪-৩ গোলে জিতে উচ্ছ্বাসে ভাসে ইংল্যান্ড।

 

আক্রমণ-পাল্টা আক্রমণ হয়েছে কিন্তু উল্লেখযোগ্য সুযোগ এসেছে কম। দুই দল মিলিয়ে মাত্র ছয়টি শট ছিল লক্ষ্যে; কলম্বিয়া ৪টি, ইংল্যান্ড ২টি। টাইব্রেকার রোমাঞ্চ ফিরিয়ে না আনলে এটি হতো শেষ ষোলোর সবচেয়ে ম্যাড়ম্যাড়ে লড়াই। ম্যাচে ফাউল হয়েছে ৩৬ বার। মোট ৮ জন খেলোয়াড় হলুদ কার্ড দেখেছেন, যার মধ্যে কলম্বিয়ার ছয়জন।

 

মস্কোর স্পার্তাক স্টেডিয়ামে ম্যাচের প্রথম সুযোগটা কাজে লাগাতে পারেনি ইংল্যান্ড। কিরান ট্রিপিয়ারের ক্রসে কঠিন কোণ থেকে হেড লক্ষ্যে রাখতে পারেননি অধিনায়ক কেইন।

 

আক্রমণে ইংল্যান্ড এগিয়ে থাকলেও প্রথমার্ধে গোল করার তেমন ভালো সুযোগ আসেনি। বরং মাঠে উত্তেজনা ছড়িয়েছে দুই দলের খেলোয়াড়দের মধ্যে রেষারেষি। এমনই এক ঘটনায় জর্ডান হেন্ডারসনকে মাথা দিয়ে হালকা গুঁতো মেরে হলুদ কার্ড দেখে পার পেয়ে যান উইলমার বাররিওস।

 

 

দ্বিতীয়ার্ধেও চলে দুই দলের খেলোয়াড়দের ধাক্কাধাক্কি আর জড়াজড়ি। কেইনের ওপর পেছন থেকে অযথা চড়াও হয়ে ইংল্যান্ডকে পেনাল্টি উপহার দেন কার্লোস সানচেস, দেখেন হলুদ কার্ড। ৫৭তম মিনিটে ওই স্পটকিক থেকে ঠাণ্ডা মাথায় টুর্নামেন্টে নিজের ষষ্ঠ গোলটি করেন এখন পর্যন্ত সর্বোচ্চ গোলদাতা কেইন।

পাল্টা আক্রমণে ৮১তম মিনিটে একটি সুযোগ পেয়েছিলেন হুয়ান কুয়াদ্রাদো। কিন্তু সতীর্থের বাড়ানো বল ডি-বক্সে ডান দিকে ফাঁকায় পেয়ে উড়িয়ে মারেন ইউভেন্তুসের এই মিডফিল্ডার।

 

শেষ পর্যন্ত যোগ করা সময়ের তৃতীয় মিনিটে আসে সমতা ফেরানো গোল। মাতেয়াস উরিবের জোরালো শট দারুণ নৈপুণ্যে কর্নারের বিনিময়ে সেভ করেছিলেন জর্ডান পিকফোর্ড। ওই কর্নার থেকেই লাফিয়ে ওঠা দীর্ঘদেহী ডিফেন্ডার মিনার হেডে বল মাটিতে এক ড্রপ থেয়ে জালে জড়ায়। গোললাইনে থাকা ট্রিপিয়ার বলে মাথা লাগিয়েও ফেরাতে পারেনি। ম্যাচ যায় অতিরিক্ত সময়ে।

 

 

বার্সেলোনায় যোগ দেওয়া মিনার রাশিয়ায় গোল হলো তিনটি, সবকটিই হেডে।

অতিরিক্ত সময়ে আক্রমণ-পাল্টা আক্রমণে ম্যাচে উত্তেজনা ফেরে, কিন্তু স্কোরলাইন বদলায়নি।

 

বিশ্বকাপে টাইব্রেকারে ইংল্যান্ড কখনও জয় পায়নি বলে শঙ্কা ছিল সমর্থকদের মনে। তবে এবার পেনাল্টি শুটআউটে আর তালগোল পাকায়নি সাবেক চ্যাম্পিয়নরা।

 

প্রথম শটে কলম্বিয়ার ফালকাও গোল করার পর ভুল করেননি কেইনও। দ্বিতীয় শট জালে জড়ান কুয়াদ্রাদো, জড়ান র‌্যাশফোর্ডও। লুইস মুরিয়েল তৃতীয় শটে পিকফোর্ডকে বোকা বানান। কিন্তু হেন্ডারসনের শট বাঁয়ে ঝাঁপিয়ে ঠেকিয়ে দেন অসপিনা।

 

কলম্বিয়ার উরিবের জোরালো শট লাগে পোস্টে। ট্রিপিয়ার গোল করে ফেরান সমতা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *