Sun. Aug 25th, 2019

BANGLANEWSUS.COM

-ONLINE PORTAL

টার্গেট রবীন্দ্রনাথ না জাতীয় সংগীত?

1 min read

|| মোজাফ্‌ফর হোসেন ||

 

একটা শ্রেণি অনেক আগে থেকেই জাতীয় সংগীত হিসেবে ‘সোনার বাংলা’র বিরোধিতা করে আসছে। জাতীয় সংগীত প্রথম পরিবর্তনের উদ্যোগ নেয় মোশতাক সরকার। মন্ত্রীপরিষদের নথি থেকে জানা যায়, ৭৫-এর ২৫ আগস্ট রাষ্ট্রপতির অভিপ্রায় অনুযায়ী জাতীয় সংগীত পরিবর্তনের জন্য উচ্চপর্যায়ের একটি কমিটি গঠিত হয়। কমিটিকে ‘এক মাসের মধ্যে পরিবর্তিত জাতীয় সংগীত’ প্রস্তাব করতে বলা হয়। দ্বীন মুহাম্মদ-এর নেতৃত্বে কমিটি তিনটি বৈঠক করে কাজী নজরুল ইসলামের ‘চল চল চল’ এবং ফররুখ আহমেদের ‘পাঞ্জেরী’ থেকে যেকোনো একটি জাতীয় সংগীত করার প্রস্তাব করে। কিন্তু সেটি সফল হয়নি। পরে মেজর জিয়াও একই চেষ্টা করেন। ১৯৭৯ সালের ৩০ এপ্রিল মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে প্রধানমন্ত্রী শাহ আজিজুর রহমান এক গোপন চিঠিতে বলেন, ‘রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের লেখা একটি গান ভারতীয় জাতীয় সংগীত। তিনি বাংলাদেশের নাগরিকও নন। হিন্দু সম্প্রদায়ের একজন কবির লেখা গান জাতীয় সংগীত হওয়ায় মুসলিম উম্মাহ উদ্বিগ্ন। এই গান আমাদের সংস্কৃতির চেতনার পরিপন্থী বিধায় জাতীয় সংগীত পরিবর্তন আবশ্যক।’ প্রধানমন্ত্রীর এই চিঠিতে ‘আমার সোনার বাংলা’র পরিবর্তে ‘প্রথম বাংলাদেশ, আমার শেষ বাংলাদেশ’কে জাতীয় সংগীত করার প্রস্তাব করা হয়। প্রধানমন্ত্রীর এই চিঠি পেয়ে মন্ত্রিপরিষদ রেডিও, টেলিভিশন ও সব সরকারি অনুষ্ঠানে ‘প্রথম বাংলাদেশ’ গানটি প্রচারের নির্দেশনা জারি করে। এ সময় রাষ্ট্রপতির অনুষ্ঠানে জাতীয় সংগীতের পাশাপাশি প্রথম বাংলাদেশ গাওয়া শুরু হয়। কিন্তু ১৯৮১ সালে জিয়ার মৃত্যুর পর এই উদ্যোগ থেমে যায়। এরপর তৃতীয় দফায় ২০০১-২০০৬ সালে বিএনপি-জামাত জোট সরকারের সময় একই উদ্যোগ নেয়া হয়। ২০০২ সালে শিল্পমন্ত্রী মতিউর রহমান নিজামী এবং সমাজকল্যাণ মন্ত্রী আলী আহসান মুজাহিদ জাতীয় সংগীত পরিবর্তনের উদ্দেশ্যে একটি যৌথ ডিও প্রধানমন্ত্রী বরাবর জমা দেন। এরা দুজনই যুদ্ধাপরাধী এবং যুদ্ধাপরাধের দায়ে মৃত্যুদণ্ডে দণ্ডিত। ২০০২ সালের ১৯ মার্চ স্বাক্ষরিত এ চিঠিতে তারা বলেন, ‘সময়ের পরিবর্তনের সঙ্গে আমাদের ইসলামি মূল্যবোধ ও চেতনার আলোকে জাতীয় সংগীত সংশোধিত হওয়া প্রয়োজন।’ এই অনুরোধপত্রটি ‘অতি গুরুত্বপূর্ণ’ বলে সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের সচিবের কাছে প্রেরণ করা হয়। এরপর নথিতে আর কোনো তৎপরতা পাওয়া যায়নি। কিন্তু নথিপত্রের বাইরেও রবীন্দ্রবিরোধী নানা তৎপরতা ছিল। ছোটবেলা থেকে শুনে শুনে বড় হয়েছি, রবীন্দ্রনাথ নজরুলের লেখা চুরি করে নোবেল পুরস্কার পেয়েছেন। কাজী নজরুলের সঙ্গে মেয়ের বিয়ে দিয়ে গাছের শিকড় খাইয়ে পাগল করে দিয়েছেন যাতে তাঁকে ছাড়িয়ে যেতে না পারেন। তিনি লালনের গানের খাতা মেরে দিয়েছেন। রবীন্দ্রনাথ মুসলিমবিরোধী, অত্যাচারী জমিদার ছিলেন। শিক্ষিতরা ছড়িয়েছেন, রবীন্দ্রনাথ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার বিরোধিতা করেছেন। রবীন্দ্রবিদ্বেষের এরকম অনেক মিথ আমাদের জানা আছে।

 

বিএনপি শাসনামলের এই অপতৎপরতা এখনো থেমে নেই। যারা এসব বলছেন তারা দেশের স্বীকৃত বুদ্ধিজীবী নন বলে ইগনর করা শ্রেয় বলে মনে করেছি। কিন্তু এখন মনে হচ্ছে, ওদের পাত্তা না দিলেও একেবারে চুপ থাকা ঠিক হবে না। কারণ আজ মুক্তিযুদ্ধে নেতৃত্বদানকারী সরকার আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আছে। কাল যে অন্য কেউ ক্ষমতায় আসবে না, সেটি নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না। এখন চেপে গেলে, তখন এরা ফাল হয়ে দেখা দেবে।

 

লক্ষ্য করে দেখবেন, কেউ জাতীয় ফুল শাপলার পরিবর্তে কদম হোক, জাতীয় পাখি হিসেবে দোয়েলের চেয়ে ঘুঘু উপযুক্ত— এরকম কথা বলছে না। তাদের টার্গেট জাতীয় সংগীত। কারণ এটা রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের রচনা। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর তাদের কাছে ‘ভারতীয় লেখক’। তার চেয়ে বড় কথা ধর্মীয় পরিচয়ে তিনি হিন্দু। এটা অনেকে প্রকাশ্যে বলেন, অনেকে অন্যভাবে বলেন।

 

এই বাংলাকে সামগ্রিকভাবে ধারণ করে ‘আমার সোনার বাংলা’ গানটি। বাংলার নৈসর্গিক সৌন্দর্য ও বাংলার মানুষের আবেগ দ্বারা প্রাণিত হয়ে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর গানটি রচনা করেন। তিনি এর সুর হিসেবে গ্রহণ করেন বাংলার বাউল গানের সুর। গানটি ১৯০৫ খ্রিস্টাব্দে বঙ্গভঙ্গ আন্দোলনের পরিপ্রেক্ষিতে রচিত এবং ১৯৭২ সালের ১৩ জানুয়ারি মন্ত্রীসভার প্রথম বৈঠকে এ গানটির প্রথম দশ লাইন সদ্যগঠিত গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ রাষ্ট্রের জাতীয় সংগীত হিসেবে গৃহীত হয়। এর আগে ১৯৭১ সালের ১ মার্চ স্বাধীন বাংলার কেন্দ্রীয় সংগ্রাম পরিষদ গঠিত হওয়ার পর ৩ মার্চ পল্টন ময়দানে অনুষ্ঠিত জনসভা শেষে উপস্থাপিত ইশতেহারে এই গানকে জাতীয় সংগীত হিসাবে ঘোষণা করা হয়। আমরা মুক্তিযুদ্ধের এমন কিছু ভিডিও দেখেছি যেখানে মুক্তিযোদ্ধারা সমবেত কণ্ঠে ‘আমার সোনার বাংলা’

Copyright © Banglanewsus.com All rights reserved. | Developed By by Positive it USA.

Developed By Positive itUSA