ডাগ ফোর্ডকে সামলাতে বিল ব্লেয়ার মন্ত্রী!

বুধবার প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডো মন্ত্রীসভা সম্প্রসারন করে পাঁচজন নতুন মন্ত্রী নিয়োগ দেন। স্কারবোরো সাউথওয়েষ্টের এমপি বিল ব্লেয়ারকে মন্ত্রীসভায় অন্তর্ভূক্ত করে  সীমান্ত নিরাপত্তা, সংঘবদ্ধ অপরাধ নিয়ন্ত্রন মন্ত্রী হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়।

টরন্টোর পুলিশ প্রধান হিসেবে ক্যারিয়ার শেষ করেই রাজনীতিতে যোগ দেওয়া বিল ব্লেয়ার এমপি লিবারেল পার্টির মনোনয়ন নিয়ে এমপি হিসেবে নির্বাচিত হন। ‘মন্ত্রী করার প্রতিশ্রুতি দিয়েই বিল ব্লেয়ারকে লিবারেল পার্টিতে এনে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে- এমন গুঞ্জন থাকলেও তাঁকে মন্ত্রী সভায় অন্তর্ভূক্ত করা হয়নি। তবে প্রধানমন্ত্রীর হয়ে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ ইস্যূতে তিনি দায়িত্ব পালন করেছেন। ফেডারেল নির্বাচনের ১৫ মাস আগে নতুন মন্ত্রণালয় প্রতিষ্ঠা করে বিল ব্লেয়ারকে  মন্ত্রীসভায় অন্তর্ভূক্ত করা হয়েছে।

 

বুধবারের মন্ত্রীসভার সম্প্রসারন এবং পাঁচজন নতুন মন্ত্রী নিয়োগের চেয়েও বিল ব্লেয়ারের মন্ত্রী হওয়া নিয়ে কানাডার রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। বিশ্লেষকরা বলছেন, কানাডা এবং আমেরিকায়  কনজারভেটিভদের ‘আতংক ছড়ানোর’ রাজনীতি মোকাবেলায় ‘ লিবারেলের  ফায়ারফাইটার’ হিসেবে  বিল ব্লেয়ারকে মন্ত্রী করা হয়েছে।

বিল ব্লেয়ারকে মন্ত্রী হিসেবে নিয়োগ দেওয়ার পর  প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডো নিজেও বলেছেন, কয়েক বছর আগে বিল ব্লেয়ারের সঙ্গে যখন প্রথম কথা হয় তখন তিনি (ব্লেয়ার) বলেছিলেন- জননিরাপত্তার এক নম্বর শত্রু হচ্ছে- আতংক। সারা দেশে কনজারভেটিভরা যখন ‘ভীতি কার্ড’ খেলছে তখন তার বিপরীতে আশ্বাসের একটি কণ্ঠ থাকা জরুরী। কানাডীয়ানদের নিরাপত্তা কখনোই বিঘ্নিত হবে না- এমন একটি আশ্বাসের পরিস্থিতি তৈরি করাটা জরুরী। তিনি বলেন, বিল ব্লেয়ারকে মন্ত্রী সভায় তিনি খুবই উদ্বেলিত।

প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডো যাই বলুক না কেন- বিল ব্লেয়ারের কাজের পরিধি হবে মুলত: অন্টারিও কেন্দ্রিক। ‘ডাগ ফোর্ডকে ঠেকাতেই বিল ব্লেয়ারকে মন্ত্রী করা হয়েছে- এমন একটি গুহ্জনও রাজনৈতিক অঙ্গনে শোনা  যাচ্ছে।  বিল ব্লেয়ার যখন টরন্টোর পুলিশ প্রধান, ডাগ ফোর্ডের ভাই রব ফোর্ড ছিলেন- টরন্টোর মেয়র। সন্ত্রাস এবং মাদকের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানে থাকা বিল ব্লেয়ারের সাথে রব ফোর্ড এবং ফোর্ড ফ্যামিলির বরাবরই একটা দ্বন্ধ ছিলো।  প্রয়াত মেয়র রব ফোর্ডের কোকেন সেবনের যে ভিডিওডি রব ফোর্ডের পতনকে ত্বরান্বিত করেছিলো- পুলিশ প্রধান হিসেবে বিল ব্লেয়ারই সেটি প্রকাশ করে দিয়েছিলেন।

অন্টারিওতে কনজারভেটিভ পার্টির বিশেষ করে ডাগ ফোর্ডের বিজয় জাস্টিন ট্রুডোকেও বেশ অস্বস্থিতে ফেলেছে। স্বয়ং প্রধানমন্ত্রী ট্রুডোর সঙ্গেই বিরোধে জড়িয়েছেন অন্টারিওর প্রিমিয়ার ডাগ ফোর্ড। ফেডারেল ইমিগ্রেশন মন্ত্রী আহমদ হোসেনের সঙ্গে বিরোধে জড়িয়েছেন অন্টারিওর ইমিগ্রেশন মন্ত্রনালয়ের দায়িত্বে থাকা লিসা ম্যাকলিয়ডের সাথে।

বিল ব্লেয়ার নিজে প্রভিন্সগুলোর প্রিমিয়ারদের সাথে বৈঠকের আগ্রহের কথা জানিয়ে প্রভিন্সগুলোর সঙ্গে একসাথে কাজ

করার কথা জানিয়েছেন। বিশ্লেষকরা বলছেন, তার দায়িত্বের সিংহভাগ ইস্যূই অন্টারিও বিশেষ করে টরন্টো কেন্দ্রিক। সীমান্ত অতিক্রম করে আসা আশ্রয়প্রার্থীদের নিয়েই ডাগ ফোর্ডের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর তিক্ততা হয়েছে। কেন্দ্রে একজন ইমিগ্রেশন মন্ত্রী, জন নিরাপত্তা মন্ত্রী থাকা সত্ত্বেও এটি দেখভালের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে বিল ব্লেয়ারকে। ‘সংঘবদ্ধ অপরাধ নিয়ন্ত্রনের’ বিষয়টিও মূলত টরন্টো কেন্দ্রিক। চলতি বছরে টরন্টোয় বন্দুকযুদ্ধ অস্বাভাবিক বেড়েছে। গত ৬ মাসেই বন্দুকযুদ্ধে ২৭ জনের প্রাণহানি ঘটেছে। বন্দুক যুদ্ধ নিয়ে টরন্টোয়ই বেশি ব্যস্ত তাকতে হবে বিল ব্লেয়ারকে।

বিল ব্লেয়ার কি তা হলে কনজারভেটিভ পার্টিকে মোকাবেলায়ই ব্যস্ত থাকবেন সব সময়? লিবারেল পার্টির ভাবনা যাই থাক না কেন- কনজারভেটিভ পার্টি এমনি মনে করছে। ফেডারেল কনজারভেটিভ পার্টির ডেপুটি লিডার লিসা রেইট ইতিমধ্যে বলে ফেলেছেন,”আমার মনে হয় সরকার প্রভিন্সগুলোর সাথে লড়াই করার প্রস্তুতি নিয়েছে।‘

 

 

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *