ঢাকায় কালের ভাবনা গ্রন্থের প্রকাশনা অনুষ্টানে ড.এমাজ উদ্দিনঃ মুক্তিযুদ্ধাদের স্বপ্ন পূরণ হয়নি।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন ভিসি এবং দেশের খ্যাতনামা রাষ্ট্রবিজ্ঞানী ও বুদ্ধিজীবী অধ্যাপক এমাজ উদ্দিন বলেছেন মুক্তিয়ুদ্ধারা যে স্বপ্ন নিয়ে একদিন এ দেশের জন্য যুদ্ধ করেছিলো তাদের স্বপ্ন পূরণ হয়নি । তিনি বলেন বর্তমানে দেশে এমন অব্থা বিরাজ করছে যে কোন সময় যে কেউ হারিয়ে যেতে পারেন ।আইনের শাসন নেই,গণতন্ত্র নেই ,মানবাধিকার নেই এমন অবস্থা দেখার জন্য কি আমরা দেশ স্বাধীণ করেছিলাম । জনাব এমাজ উদ্দীন গত ১০ আগষ্ট ঢাকাস্থ জাতীয় প্রেসক্লাব মিলনায়তনে নিউইয়র্ক প্রবাসী লেখক ও কলামিষ্ট আহবাব চৌধুরী খোকনের প্রথম বই কালের ভাবনার মোড়ক উন্মোচন অনুষ্টান প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখছিলেন ।জনাব এমাজ উদ্দিন আহবাবের বই এবং লেখার প্রশংসা করে বলেন, ভঙ্গুর এই  সমাজ ব্যবস্থার পরিবর্তনে তোমাদের লেখনি হতে পারে পরিবর্তনের হাতিয়ার ।আহবাব যে দেশে বসবাস করে সেখানে নেই কোন অশান্তি,নেই কোন শংকা সেই প্রবাসে বসে দেশের জন্য অনেক ভালো ভালো লেখা সম্ভব যেটা বাংলাদেশ থেকে

সম্ভব নয় ।তিনি আহবাবকে এভাবে লিখে যাওয়ার আহবান জানান ।

 

 

কালের ভাবনা গ্রন্থের প্রকাশক ও বিশিষ্ট রাজনীতিবিদ ও সমাজকর্মী জনাব কাইয়ুম চৌধুরীর সভাপতিত্বে ও ড. জিয়াউল ইসলাম মুন্নার সঞ্চালনায় অনুষ্টিত বর্ণাঢ্য এই প্রকাশনা অনুষ্টানে বিশেষ অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন বিশিষ্ট রাজনীতিবিদ, প্রাক্তন জাতীয় সংসদ সদস্য ও ডাকসু ভিপি সুলতান মোহাম্মদ মনসুর আহমেদ ও বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল ।মঞ্চে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন বইয়ের লেখক বিশিষ্ট কলামিষ্ট ও সংগঠক আহবাব চৌধুরী খোকন

বিশিষ্ট লেখক ও গবেষক ইফতেখার মাবমুদ হেলিম ও বিশিষ্ট ব্যবসায়ী হুমায়ুন হোসেন চৌধুরী ডালিম। অনুষ্টামের শুরুতে কোরআন তেলোয়াত করেন ফখরুল ইসলাম চৌধুরী ।

 

সভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্যে প্রাক্তন ডাকসু ভিপি বলেন,আহবাব কে আমি চিনতাম আমার  এক সময়ের হারিয়ে যাওয়া সহপাঠী।যে ১৯৭৫ সালে সড়ক দূর্ঘটনায় নিহত হয়েছিলো সেই নজরুল চৌধুরীর ছোট ভাই হিসাবে । এবার আবিস্কার করলাম একজন লেখক ও সমালোচক হিসাবে ।তার প্রকাশিত এই বইয়ের অনেক গুলো লেখা আমি পড়েছি ।সে সমাজের প্রচলিত খুটিনাঠি ভূল ভ্রান্তি যেভাবে তার লেখায় তোলে ধরেছে নিসন্দহে প্রশংসনীয় ।আমি  কালের ভাবনার বহুল প্রচার আশা করি ।

 

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে বিএনপি নেতা মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল

বলেন,আহবাবকে আমি অনেক দিন থেকে চিনি ।আমরা একই ধারার রাজনীতি করি বলে এক সময় তার সাথে আমার একটি চমৎকার সম্পর্ক গড়ে উঠেছিলো কিন্তু তার মধ্যে যে এতো প্রতিভা আছে,তা আমার জানা ছিলো না । তার লিখিত বইয়ের সব লেখাই আমি পড়েছি ।সে এই লেখায় যেমনি তার স্কুল জীবনের স্মৃতিচারণ করেছে তেমনি জ্ঞান তাপস দেওয়ান আজরফ,মুক্তিযুদ্ধের সেনাপতি ওসমানীকে তোলে ধরেছে,পহেলা বৈশাখ নিয়ে যেমন আলোচনা করেছে তেমনি ঈদ উদযাপনের কথাও বলেছে ,তুলে ধরেছে মুক্তিযুদ্ধ ,শাহ আব্দুল করিম এবং কবি দেলওয়ারকে ।বাংলাদেশের সম্ভাবনাময় কুঠির  শিল্প ও পর্যটন

শিল্পের কথা যেমন লিখেছে বাংলাদেশের একমাত্র জলপ্রপাত মাধবকুন্ডের কথা ।তার বইয়ে প্রকাশিত প্রতিটি লেখাই আমার খুব ভালো লেগেছে ।

 

লেখক জনাব আহবাব চৌধুরী বলেন

আমরা প্রবাসীরা জীবন ও জীবিকার তাগিদে দেশের বাহিরে অবস্থান করলেও আমাদের মন এবং প্রতিদিনকার চিন্তা চেতনা আবর্তিত হয় এদেশের মাটি,মানুষ ও ফেলে যাওয়া স্মৃতি দুলোকে ঘিরে ।তাই দেশের আনন্দে যেমনি আমরা আনন্দিত হই তেমনি দুঃখে হই ব্যথিত।আমার এই বইয়ের প্রতিটি লেখা তাই দেশ নিয়ে আমার চিন্তা ও  চেতনা থেকে সৃষ্টি ।আমার এই লেখা গুলোতে ভুল ক্রুটি থাকা স্বাভাবিক ।যদি কারো দৃষ্টিতে কোন ভুলক্রুটি ধরা পড়ে আমাকে জানাবেন আমি পরবর্তী সংস্করণে সংশোধন করার চেষ্টা করবো ।

সভাপতির বক্তব্যে কাইয়ুম চৌধুরী বলেন, আহবাবকে আমি ছোট বেলা থেকেই চিনি যে যেমনি ভালো বক্তা তেমনি ভালো লেখকও ।৯০ সালের ছাত্র গণআন্দোলনে সে একজন ত্যাগী ছাত্রনেতা ছিলো । প্রবাসে গিয়েও যে থেমে নেই। সে বাংলাদেশের সাহিত্য ও সংস্কৃতি বহিবিশ্বে ছড়িয়ে দিতে প্রশংসনীয় ভুমিকা পালন করে আসছে।আমি এই বইটির প্রকাশক হতে পেরে গর্বিত  ও আনন্দিত ।

 

সভায় মঞ্চে উপবিষ্ট অতিথি বৃদ্ধ বইটির মোড়ক উন্মোচন করে বহুল প্রচার ও বিপনন প্রত্যাশা করেন ।অনুষ্টানে নূরবিডি ডটকম এর সম্পাদক  সৈয়দ শামছুল হুদা,সাপ্তাহিক সবার খবরের সম্পাদক মাওলানা আবদুল গাফফার, ইনসাফ টুয়ান্টিফোর ডটকম এর সম্পাদক  সাইয়েদ খন্দকার মাহফুজ, সিলেট রিপোর্ট ডটকম এর সম্পাদক রুহুল আমীন নগরী সহ ঢাকাস্থ জালালাবাদ এসোসিয়েশন এর নেতৃবৃন্দ সহ বিভিন্ন সংগঠনের বিপুল সংখ্যক নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন ।

 

বার্তা প্রেরকঃ রুহুল আমীন নগরী প্রতিনিধি, ইয়র্ক বাংলা।

 

Leave a Reply

Your email address will not be published.