তিনগুন বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে বরফ

প্রকাশিত:বৃহস্পতিবার, ১০ সেপ্টে ২০২০ ১১:০৯

তিনগুন বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে বরফ

আনোয়ার হোসেন আনু, কুয়াকাটা (পটুয়াখালী) :
বঙ্গোপসাগরে জেলেদের জালে ধরা পড়ছে প্রচুর পরিমান রুপালী ইলিশ। গভীর সমুদ্র থেকে ট্রলার বোঝাই করে আলীপুর-মহিপুর বন্দর সহ উপকূলীয় এলাকার মৎস্য আড়ৎ গুলোতে নিয়ে আসছে জেলেরা। প্রতিটি ট্রলারে ৫০ থেকে দেড়’শ মন পর্যন্ত ইলিশ নিয়ে ঘাটে ফিরছে জেলেরা। প্রতিমন ইলিশ বিক্রি হচ্ছে প্রকারভেদে ১২ হাজার থেকে ২০ হাজার টাকা ধরে। দাম কম থাকলেও প্রচুর ইলিশ ধরা পড়ায় জেলেদের এনিয়ে কোন অভিযোগ নেই। প্রচুর সংখ্যক ইলিশ আসায় বরফের সংকট দেখা দিয়েছে। পটুয়াখালী,বরিশাল,বরগুনা ও খুলনা থেকে বরফ নিয়ে এসে হিমায়িত করা হচ্ছে ইলিশ। দেড়’শ-দুই’শ টাকার বরফ বিক্রি হচ্ছে ৫’শ থেকে ৬’শ টাকায়। বরফ সংকটেচর কারনে জেলেরা সঠিক সময়ে সাগরে ইলিশ শিকারে যেতে পারছে না।
চলতি বছরে সাগরে ৬৫দিন অবরোধের পর সমুদ্রে ইলিশ ধরা না পড়ায় মৎস্যজীবিরা হতাশায় ভূগছিলো। সেই হতাশা কাটিয়ে হাসি মূখে ইলিশ নিয়ে তীরে ফিরে আসছে জেলেরা। সমুদ্রে প্রচুর পরিমান ইলিশ ধরা পড়ায় জমজমাট হয়ে উঠেছে মৎস্য অবতরণ কেন্দ্র আলীপুর-মহিপুর। প্রতিদিন দেড় থেকে দুই’শ টন ইলিশ এ বন্দর থেকে দেশের বিভিন্ন স্থানে বাজারজাত হচ্ছে।
৬৫ দিনের নিষেধাজ্ঞা উঠে যাওয়ার পর জেলেদের জালে তেমন ইলিশ ধরা পড়ছিল না। তবে গত ১৫-২০ দিন ধরে এক নাগারে প্রচুর ইলিশ ধরা পড়ছে। এর ফলে পটুয়াখালীর মৎসবন্দর মহিপুর-আলীপুরে এখন উৎসব মূখর পরিবেশ বিরাজ করছে। এদিকে স্থানীয় বরফ কল গুলোও চাহিদা অনুযায়ী বরফ উৎপাদন ও সরবরাহ করতে পাড়ছেনা। কয়েকগুন বেশি দামে অন্য এলাকা থেকে বরফ কিনে আনতে হচ্ছে বলে স্থানীয় ব্যবসায়িরা জানিয়েছেন।
সরেজমিনে দেখা গেছে, ট্রলার থেকে ঝুড়ি ভর্তি করে শ্রমিকেরা ইলিশ এনে আড়তে ফেলছেন। একদিকে চলে মাপঝোপ। আর অন্যদিকে চলে দরদাম। পাইকারি ক্রেতারা দরদাম শেষে ইলিশ বরফ দিয়ে সারিসারি ককসেট রাখেন। আর সেই ককসেট বোঝাই ইলিশ ট্রাক ও অন্যান্য গণপরিবহনের ছাদে করে চলে যাচ্ছে দেশের বিভিন্ন এলাকায়। তবে দীর্ঘদিন পর সাগরে প্রচুর ইলিশ ধরা পড়লেও দাম পাচ্ছেনা জেলেরা এমটাই বলেছেন স্থানীয় ব্যবসায়িরা।
জেলেদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, করোনার প্রভাব ও সাগরে মাছ ধরার ওপর নিষেধাজ্ঞার পর জেলেদের জালে তেমন মাছ মিলছিলোনা। তবে এখন প্রচুর ইলিশ ধরা পড়ছে। মাছগুলো আকারেও বড়। তাই জেলেরা অনেক খুশি।
জেলে কুদ্দুস মাঝি জানান, এমনিতেই ধারদেনা ও মহাজনদের কাছ থেকে আগাম দাদন নিয়ে সাগরে নামতে হয়েছে। এত দিন তেমন ইলিশ ধরা না পড়ায় তারা দেনা পরিশোধ নিয়ে চিন্তায় ছিলেন। গত পূর্ণিমার পর গভীর সাগরে নির্দিষ্ট কিছু পয়েন্টে প্রচুর ইলিশ ধরা পড়ছে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে আরও ইলিশ ধরা পড়বে বলে আশা করছেন তিনি।
মহিপুর মৎস বন্দরের আল্লাহ ভরসা আড়দের মালিক তানভির আহম্মেদ লুনা বলেন, যে হারে সাগরে মাছ পড়ছে এ অনুপাতে বরফ সাপলাই দিতে পারছেনা এখানকার বরফ কলগুলো। তাই চড়া দামে বরফ আনতে হচ্ছে খুলনা বরিশাল, পটুয়াখালী ও বরগুনা থেকে। এছাড়া বেশ কয়েক দিন ধরে সাগরে ইলিশ পড়তে শুরু করেছে। তবে দীর্ঘদিন পর সাগরে প্রচুর ইলিশ ধরা পড়লেও দামও পাইকারী বাজারে অনেক কম।
আলীপুর ও কুয়াকাটা মৎস্য আড়ত ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি মো.আনসার উদ্দিন মোল্লা বলেন, হঠাৎ করে সাগরে জেলেদের জালে প্রচুর ইলিশ ধরা পড়ছে। করোনার কারণে রপ্তানি না থাকায় ইলিশের দাম একটু কম। এখন যে ইলিশ ১৭/১৮ হাজার টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এই মাছ গত বছর দাম ছিল মণ প্রতি ২৫ থেকে ৩০ হাজার টাকা। তবে সরকার যথাযথ পদক্ষেপ নিলেই মাছের সুরক্ষার পাশাপাশি উৎপাদন বৃদ্ধি পাবে। জেলেরা উপকৃত হবেন বলে তিনি জানিয়েছেন।

এই সংবাদটি 1,237 বার পড়া হয়েছে

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন।
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •