তিন দশক পর অর্থ মন্ত্রীর পদ হারালো সিলেট বাসি

এমদাদুর রহমান চৌধুরী জিয়াঃ অর্থমন্ত্রণালয় নিয়ে সব জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটলো এবার ব্যতিক্রম ভাবে। টানা প্রায় তিন দশক অর্থমন্ত্রী ছিলেন সিলেটি। এবারই প্রথম সিলেট থেকে হাতছাড়া হলো অর্থমন্ত্রীর পদটি। অথচ পূণ্যভূমি খ্যাত মর্যদাপূর্ন সিলেট-১ আসনে নির্বাচিত সংসদ সদস্যই সরকারের অর্থমন্ত্রীর দায়িত্ব পান, এমন ‘সৃষ্টাচার’ এর প্রচলন রয়েছে রাজনৈতিক নির্বাচনী ও সংসদিয় এ তিন স্থরেই।
এ আসন থেকে বর্তমানে নির্বাচিত সংসদ সদস্য অর্থমন্ত্রীর সহোদর ড. এ কে আব্দুল মোমেনকে দেয়া হয়েছে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। আর টেকনোক্র্যাটে অর্থমন্ত্রী হওয়ার আলোচনায় ছিলেন বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর হবিগঞ্জের কৃতী সন্তান ফরাসউদ্দিন আহমদ। গুরুত্ব¡পূর্ণ এই মন্ত্রণালয় পাওয়া নিয়ে আলোচনায় ছিলেন অর্থ ও পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী এমএ মান্নানও। কিন্তু সব আলোচনা ডিঙিয়ে অর্থ মন্ত্রী পদটি এখন কুমিল্লা বাসির হাতে।
গত ২৮ বছর বিভিন্ন সরকারের আমলেই সিলেটিরা অর্থমন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পালন করেছেন। অর্থমন্ত্রণালয় মানেই সিলেটিদের দখলে, রাজনীতিতে এই ধারণা এবার পালা বদল হলো ।
স্বাধীনতা পরবর্তী সময়ে ১৯৮০ সালের ২৫ এপ্রিল প্রেসিডিন্স জিয়াউর রহমান সরকারের আমলে এম সাইফুর রহমানের হাত ধরে অর্থমন্ত্রণালয়ে আসেন হন সিলেটিরা। তিনি দায়িত্ব পালন করেন ২৯৮২ সালের ১১ জানুয়ারি পর্যন্ত।
এরপর ১৯৮২ সালের ৩১ মার্চ এরশাদ সরকারের আমলে অর্থমন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পান আরেক সিলেটি আবুল মাল আবদুল মুহিত। ১৯৮৪ সাল পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করেন তিনি।
এরপর বিরতি টেনে ১৯৯১ সালের ২০ মার্চ থেকে ১৯৯৬ সালের ৩০ মার্চ পর্যন্ত ফের অর্থমন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পান এম সাইফুর রহমান।
১৯৯৬ সালের ২৩ জুন থেকে অর্থমন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে আসেন আরেক সিলেটি শাহ এ এম এস কিবরিয়া। তিনি ২০০১ সালের ১৬ জুলাই পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করেন।
এরপর ২০০১ সালের ১০ অক্টোবর থেকে ২০০৬ সালের ২৮ অক্টোবর পর্যন্ত ফের দায়িত্বে আসেন এম সাইফুর রহমান।
২০০৯ সালের ৬ জুন থেকে অর্থমন্ত্রণালয়ের চলতি দায়িত্বে রয়েছেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আব্দুল মুহিত।
সোমবার (৭ জানুয়ারি) শপথ নিলেন অর্থ মন্ত্রী হিসাবে দায়িত্ব নিলেন কুমিল্লার থেকে নির্বাচিত সংসদ সদস্য আ হ ম মোস্তফা কামাল। ফলে সিলেটিরা হারালো আর্থ মন্ত্রনালয়ের গুরো দায়িত্ব। মন্ত্রী সভায় শপথের পর অর্থ মন্ত্রী নিয়ে আলোচনা চলছে সিলেটের সর্বত্র। গুনের কথা মুখে মুখে আসছে অতিতের অর্থ মন্ত্রনালয়ের দায়িত্বশীলদের। বিশেষ করে গেল সংসদের অর্থ মন্ত্রী আবুল মাল আব্দুল মহিতের চেয়ে বেশী গুন কৃর্তন করছে সাধারণ মানুষ অর্থ মন্ত্রী এম. সাইফুর রহমান ও শাহ এস.এম কিবরিয়া কথা বলে।