Sun. Sep 15th, 2019

BANGLANEWSUS.COM

-ONLINE PORTAL

থামছে না বিদ্যুৎস্পৃষ্টে মানুষের মৃত্যু

1 min read

বরিশাল বিভাগ জুড়ে প্রতিদিনই বিদ্যুৎস্পৃষ্টে মারা যাচ্ছেন মানুষ। এ বিভাগে চলতি জুলাই মাসে পাঁচ শ্রমিক, দুই শিক্ষার্থী ও কৃষক দম্পতিসহ ১১ জনের মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে।

 

ওয়েস্ট জোন পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লি. ও পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির কর্মকর্তারা জানান, মানুষের অসাবধানতায় বিদ্যুৎস্পৃষ্টে মৃত্যুর ঘটনা বাড়ছে।

 

বরিশাল বিভাগের বিভিন্ন জেলা ও থানা থেকে প্রাপ্ত তথ্যমতে, চলতি জুলাই মাসে এ পর্যন্ত বিদ্যুৎস্পৃষ্টে ১১ জনের মৃত্যু হয়েছে।

 

বরিশাল জেলার গৌরনদী পৌরসভার চরগাধাতলী মহল্লার এইচএসসি পরীক্ষার্থী সুরাইয়া জান্নাত খাদিজা বিদ্যুৎপৃষ্ট হয়। চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১৬ দিন হাসপাতালে থাকার পর মৃত্যুবরণ করে সে।

 

পটুয়াখালীর মির্জাগঞ্জে বিদ্যুৎপৃষ্টে সাহেব আলী সিকদার নামে এক শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে। তার বাড়ি পার্শ্ববর্তী বরগুনা জেলার বেতাগী উপজেলার হোসনাবাদ গ্রামে।

 

 

 

ঝালকাঠির নলছিটি উপজেলায় বিদ্যুৎস্পৃষ্টে মিলন হোসেন নামে এক রাজমিস্ত্রির মৃত্যু হয়। মিলন উপজেলার সূর্য্যপাশা গ্রামের মো. আলমগীর হোসেনের ছেলে।

 

উপজেলার বাড়ির ছাদে পল্লী বিদ্যুতের তারে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে মারা যান মগড় ইউপি ছাত্রদলের সিনিয়র যুগ্ম-আহ্বায়ক রায়হান।

 

বরিশালের বাবুগঞ্জ উপজেলার কৃষক কামাল হোসেন ও তার স্ত্রী মমতাজ বেগম নিজ বসতবাড়ি সংলগ্ন পাট ক্ষেতে ছিঁড়ে পড়া তারে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে মারা যান।

 

বানারীপাড়া থানা কমপ্লেক্স সংলগ্ন নির্মাণাধীন একটি ভবনে রড তুলতে গিয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্টে নির্মাণ শ্রমিক শহিদুল ইসলাম খান, নগরীর রুপাতলীতে মাহাতাব হোসেন, পিরোজপুরের মঠবাড়িয়ায় জামাল হাওলাদারের মৃত্যু হয়।

 

চরফ্যাশন উপজেলার ওসমানগঞ্জ ইউপির ৩নং ওয়ার্ডে বিদ্যুৎস্পৃষ্টে এনামুল হক মিয়াজী নামে এক যুবকের মৃত্যু হয়। পটুয়াখালী মির্জাগঞ্জে বিদ্যুৎস্পৃষ্টে কাদের আকন নামে এক বৃদ্ধের মৃত্যু হয়।

 

এদিকে বিদ্যুৎস্পৃষ্টে অধিকাংশ দুর্ঘটনার জন্য বিদ্যুৎ বিভাগের উদাসীনতাকে দায়ী করেছেন নিহতের স্বজনরা। বিদ্যুৎতের তার ছিঁড়ে পড়ার পর সঠিক সময়ে মেরামত না করায় মানুষ দুর্ঘটনার শিকার হচ্ছে বলে তাদের দাবি।

 

 

অভিযোগ অস্বীকার করে বরিশাল পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-১ এর জিএম প্রকৌশলী সংকর বলেছেন, বিদ্যুৎ সম্পর্কে এ অঞ্চলবাসীর অধিক সচেতন হতে হবে। যে সব স্থান থেকে বিদ্যুতের তার টানা হয়েছে এখন সেই সব স্থানে গৃহ কিংবা ভবন নির্মাণ হচ্ছে। যার কারণে ভবনের বেলকুনি কিংবা ছাদের উপরে বিদ্যুতের তারের অবস্থান থাকছে। এতে ঘটছে দুর্ঘটনা।

 

তিনি বলেন, ঝড় কিংবা দুর্যোগে তার ছিঁড়ে পড়লে আমাদের কাছে তৎক্ষণিক কোনো অভিযোগ আসে না। যখন ওই ছিঁড়া তারে বিদ্যুতায়িত হয়ে কেউ একজন মারা যায়, তখনই কেবল আমরা জানতে পারি।

 

তিনি আরো বলেন, এরমধ্যে সারা দেশব্যাপী ইউআরআইডিএস প্রকল্পের মাধ্যমে পল্লী বিদ্যুতের ঝুঁকিপূর্ণ সংযোগ (ঘর-বাড়ীর ছাদ ও বেলকুনি ঘেঁষা সংযোগ তার) গ্রহকদের বিনা খরচে সরিয়ে দেয়া হচ্ছে। এতে করে দুর্ঘটনা রোধ সম্ভব হবে।

 

Copyright © Banglanewsus.com All rights reserved. | Developed By by Positive it USA.

Developed By Positive itUSA