দলীয় সাফল্য ও ‘অধিনায়ক’ সাকিবের পারফরম্যান্সে খুশি নান্নু

মাসদুয়েক আগে বাংলাদেশ যখন আফগানিস্তানের বিপক্ষে ৩ ম্যাচের সিরিজে হোয়াইটওয়াশ হয়, তখনো চারদিকে বলাবলি হয়েছে এই ফরম্যাটটা না খেলাই উচিৎ বাংলাদেশ। টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটে পারে না বাংলাদেশ- এমনটাও শোনা গিয়েছে প্রতিনিয়ত।

 

অথচ দুই মাসের ব্যবধানেই টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটের বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন ওয়েস্ট ইন্ডিজকে ২-১ ব্যবধানে সিরিজে হারিয়ে দিয়েছে টাইগাররা। সুদক্ষ পারফরম্যান্সে দেখিয়েছে বাংলাদেশ দলও পারে ক্রিকেটের এই ফরম্যাটটা খেলতে। দলের এই ঘুরে দাঁড়ানোয় বেজায় খুশি বিসিবির প্রধান নির্বাচক মিনহাজুল আবেদীন নান্নু।

 

 

 

জাতীয় দলের এ সাবেক অধিনায়কের মতে এই সিরিজ জয় অনেক বড় অর্জন। তার অনুভব, এ সিরিজ জয় ২০ ওভারের ফরম্যাটে ব্যর্থতার বৃত্ত থেকে বেড়িয়ে আসার পথে আলোকবর্তিকা ও পাথেয় হিসেবে কাজ করবে।

 

সোমবার বিকেলে মোহাম্মদপুরে নিজ বাসায় সাংবাদিকদের সাথে আলাপে এ সিরিজ নিয়ে নিজের মূল্যায়ন করতে গিয়ে অনেক কথার ভীড়ে নান্নু বলেন, ‘টি-টোয়েন্টি সিরিজ জেতা আমাদের জন্য বিশাল অর্জন। অনেক বড় পাওয়া।’

 

প্রধান নির্বাচক অকপটে স্বীকার এই ফরম্যাটে বাংলাদেশ পিছনেই পড়ে ছিল। তাইতো মুখে এমন কথা, ‘টি টোয়েন্টিতে আমরা সবসময় ব্যাকফুটে ছিলাম।’ তবে নান্নুর দাবি গত আফগানিস্তান সিরিজের পর থেকেই নাকি উন্নতির পথ খুঁজে বেড়াচ্ছিলেন তারা। তার বিশ্বাস ছিল সিনিয়রদের ওপর। কারো নাম উল্লেখ না করেও নান্নু বলেন, ‘এরপরও আমাদের অনেক আত্মবিশ্বাস ছিলো এই দলের ওপর। যারা খেলছে তাদের ওপর।’

 

নান্নু আরও যোগ করেন, ‘এই স্কোয়াডটির উপরের দিকে যারা খেলে, তাদের অভিজ্ঞতা আছে। তারা সে অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে কার্যকর অবদান রাখতে পারলে ক্যারিবিয়ানদের বিপক্ষে ভালো করতেও পারি।’

 

 

 

মাঝে বিশেষ করে ভারতের দেরাদুনে আফগানিস্তানের কাছে তিন ম্যাচের সিরিজে হোয়াইটওয়াশ হবার পর ক্যাপ্টেন্সি নিয়ে কথা উঠেছিল। অনেক সাকিব ভক্তের মুখেও শোনা গেছে, ‘পারফরমার সাকিব যত মেধাবী , দক্ষ ও কার্যকর , দলনায়ক সাকিব তত দক্ষ নন।’

 

তবে এ সিরিজে পারফরমার সাকিবের পাশাপাশি ক্যাপ্টেন সাকিবের প্রশংসাও চারিদিকে। সাকিবের নেতৃত্বের প্রশংসা প্রধান নির্বাচকের মুখেও। নান্নুর কথা শুনে মনে হচ্ছে, তার ধারণা, টেস্টে বেশি খারাপ করাটা ‘শাপে বর’ হয়েছে। তার অধিনায়কত্বে টেস্টে ওয়েস্ট ইন্ডিজের কাছে দল নাকাল হয়েছে। তাই টি টোয়েন্টি সিরিজে ভাল করার একটা অন্যরকম তাগিদ জন্মেছে সাকিবের ভিতরে।

 

 

 

প্রধান নির্বাচক বোঝাতে চেয়েছেন, ‘একটা অধিনায়ক যখন তার দল নিয়ে একটা ফরম্যাটে ভালো করতে না পারে, তখন আপনাআপনি তার ভেতরে অন্য ফরম্যাটে ভালো করার ইচ্ছাটা চলে আসে। সে উপায় খুঁজে বেড় করার চেষ্টায় থাকে, কিভাবে দলকে অনুপ্রাণিত, উজ্জীবিত ও উদ্দীপ্ত করা যায়। আমার মনে হয় সাকিবের ভিতরও সেই বিষয়টিই কাজ করেছে।’

 

নান্নুর কাছে মনে হয়েছে, এ সিরিজে সাকিব অনেক বেশি সজাগ ও তৎপর ছিলেন। তার ভাল করার তাগিদটাও বেশি ছিল। নান্নুর ভাষায় আগে কিন্তু এটা দেখা যায়নি।

 

‘অধিনায়কের পাশাপাশি দলের অবদানও অনেক। প্রত্যেকেই একে অপরকে চাঙ্গা রাখার চেষ্টা করছিল মাঠে। এক কথায় দলীয় প্রচেষ্টা এবং টোটাল পারফরমেন্স ছিল। এই জন্য এভাবে পারফর্ম করতে পেরেছে ওরা।’

 

নান্নুর শেষ কথা, ‘ওভারঅল টিম পারফর্ম করলে সবদিক দিয়ে সব পজিটিভ থাকে। সাকিব দলের ফ্রন্টলাইন বোলার, সে সামনে থেকে দলকে নেতৃত্ব দিয়েছে। দলকে দারুণভাবে পরিচালিতও করেছে।

 

Leave a Reply

Your email address will not be published.