দশমিনায় স্বজনহারাদের কান্না আজও থামেনি

প্রকাশিত:শনিবার, ০২ মে ২০২০ ১০:০৫

দশমিনায় স্বজনহারাদের কান্না আজও থামেনি

 

দশমিনা (পটুয়াখালী) :
সত্যি ভাবতে অবাক লাগে আজো বেচেঁ আছি। কিভাবে কেটে গেল ১৭টি বছর। ঠিক ২০০২সালের ২মে এই দিনে ঠিক রাত সাড়ে ৯টায় এমভি সালাউদ্দিন-২ চাঁদপুরের মতলব উপজেলার ষাটনলের মেঘনাবক্ষে স্মরনকালের ভয়াবহ কালবৈশাখী ঝড়ে লঞ্চ ডুবির ঘটনা ঘটে। আমি মেঘনা নদীর ভয়ংকরী হিং¯্র থাবার সাথে টানা ২ঘন্টা লড়াই করে বেচেঁ ছিলাম। ওই দূঘর্টনায় অনেক মানুষ মারা গিয়েছিল, কই কেউ তো একবারের জন্য স্মরণ করেনি। ঠিক এমনিভাবে আমিও তাদের মত হারিয়ে যেতাম, আমাকেও তো কেউ মনে রাখত না। গতকাল শনিবার লঞ্চ দূঘর্টনায় বেচেঁ থাকা পটুয়াখালীর দশমিনা উপজেলার দশমিনা গ্রামের মোঃ জাহাঙ্গীর হোসেন খাঁনের ছেলে আদমপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক মোঃ ফরহাদ খান এ প্রতিনিধির কাছে সেই দিনের ঘটনা এভাবেই স্মতিচারন করে বললেন। ফরহাদ আরো জানান, ওই লঞ্চে তার ভগ্নিপতি মোঃ হিরন খাঁন, মামা আবু জাফর মোঃ সালেহ আহম্মেদ, মামাতো ভাই মোঃ ফয়সাল আহম্মেদসহ ১০জন স্বজন ছিলো। ওই স্বজনদেও মধ্যে মাত্র তারা ৩জন বেচেঁ আছে। তিনি আরো জানান, দূর্গম এই রুটে ওই ভয়াবহ দূঘর্টনা যখন ঘটে তখন আমি ৮ম শ্রেনীর ছাত্র ছিলাম। ওই দুঘর্টনা ঘটার পরও আমাদেরকে যাত্রীর নিশ্চয়তা ও পল্টনের সুব্যবস্থাপনা এবং ছোট ছোট লঞ্চ বন্ধ করেন বড় লঞ্চ চালু করার জন্য আন্দোলন করতে হচ্ছে। যা খুবই দুঃখজনক।
লঞ্চডুবিতে বেচেঁ থাকা গছানী গ্রামের সিরাজুল ইসলাম খাঁনের ছেলে মোঃ হিরন খাঁন স্মুতিচারন করে বলেন, আমি ওই সময় বিকালে বাড়ি আসার জন্য এমভি সালাউদ্দিন-২ লঞ্চে উঠি। আমার সাথে আমার ছোট শ্যালক, মামাতো শ্যালক, আমার চাচাতো ভাই ও আমার মামা শশুর ঢাকা বিশ্ব বিদ্যালয়ের লাইব্রিয়ানের অফিস সহকারি আবু জাফর মোঃ সালেহ আহম্মেদ ছিলেন। লঞ্চটি যখন মতলবের ষাটনলে পৌঁছে তখন উত্তর ও পশ্চিমে ছোট মেঘ দেখা গেছে। এরপর ছোট্ট একটি ঝড়ে লঞ্চটি উল্টে গেলে আমি বারান্দায় আটকিয়ে পড়ি। অনেক কষ্ট করে ওই আটকে পড়া বারান্দা থেকে বের হই। পড়নের কাপড় খুলে উলঙ্গ অবস্থায় প্রায় দু’ঘন্টা সাতাঁর কেটে একটি ট্রলারে উঠি। সাতাঁর কাটা অবস্থায় এমভি পারাপাত-১ লঞ্চকে ইশারা দেই। তারা আমাদের কাছে এসেও ফিরে যায়। পরে আমি এমভি মুলাদি লঞ্চে উঠি। লঞ্চ ডোবার পর আমার মামা শশুরের হাত ধরা ছিল। তিনি তুফানের টানে হাত থেকে ছুটে গেলে নদীতেই তার মৃত্যু হয়। ওই ঘটনায় আমাদের পরিবারের ৭স্বজন মারা যায়। সেই ভয়ংকর ঘটনা মনে পড়লে আতংকিত হয়ে পরি।
ত্রান ও পূর্ণবাসন অফিস সূত্রে জানা যায়, ঢাকা- রাঙ্গাবালী রুটের এমভি সালাউদ্দিন-২ লঞ্চ দূঘর্টনা কবলিত যাত্রী ২০০২সালের ২মে ওই লঞ্চটি ঢাকা সদরঘাট থেকে ৫শতার্ধিক যাত্রী নিয়ে রাঙ্গাবালীর উদ্দ্যেশে ছেড়ে আসে। ওই দূর্ঘটনায় উপজেলার বিভিন্ন এলাকার ৩৬জনের নিহত ও শতার্ধিত ব্যক্তির নাম নিখোঁজের তালিকায় রয়েছে। দূর্ঘটনায় নিহতের লাশ সনাক্ত করতে না পারায় পটুয়াখালীর রাঙ্গাবালী উপজেলায় প্রায় আড়াই শত ও চাঁদপুর জেলার মতলব উপজেলার ষাটনলের পর্যটন কেন্দ্রের পাশে ৭৭জন ব্যক্তির লাশ গণকবর দেওয়া হয়েছিল।

এই সংবাদটি 1,226 বার পড়া হয়েছে

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন।
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •