‘দেখিয়ে দিলাম!’

অনূর্ধ্ব–১৮ সাফ শিরোপা জয়ের মধ্যে দিয়ে বয়সভিত্তিক ফুটবলে পাঁচটি শিরোপা জয় করল বাংলাদেশের মেয়েরা

‘চিন্তিত?’

গতকাল রাতে প্রশ্নটা করা হয়েছিল গোলাম রব্বানি ছোটনকে। কঠোর কণ্ঠে পাল্টা জবাব, ‘কিসের চিন্তা। আমাদের মেয়েরা নেপালের চেয়ে সবক্ষেত্রেই এগিয়ে।’ ফাইনাল ম্যাচ, শিরোপার লড়াই বলে কথা। যত সহজে বলা যায় চিন্তা নেই, আসলেই কি তাই! পরক্ষণেই তাই সুর নরম হলো বাংলাদেশের কোচের, ‘আসলে খেলা দিয়েই দেখিয়ে দিতে হবে আমরা চ্যাম্পিয়ন দল।’

আজ ডাগআউটে দাঁড়ানো অবস্থায় গোলাম রব্বানির মুখটা ফ্লাডলাইটের আলোতে চিকচিক করছিল। টাচ লাইনে দাঁড়িয়ে কখনো ‘গো সানজিদা’, কখনো ‘স্বপ্না প্রেস’ বলে চিৎকার করছিলেন যখন, তখনো তাঁর মুখে দেখা যাচ্ছিল প্রতিজ্ঞার ছাপ। শেষ বাঁশি বাজতে হাত মুঠো করে হাঁটু গেড়ে বসে পড়লেন। ওই মুষ্টিবদ্ধ হাত আর দেহভঙ্গিমাই বলে দিচ্ছিল, ‘দেখিয়ে দিলাম!’

কোচের দেখিয়ে দেওয়া বাংলাদেশ এক কথায় অপরাজেয়। তারা শুধু চার ম্যাচে অপরাজিতই ছিল না, প্রতিপক্ষের জালে চার ম্যাচে দিয়েছে ২৪ গোল। অর্থাৎ ম্যাচপ্রতি গড়ে ৬টি করে। আজ ফাইনালে নেপালের বিপক্ষেই যা একটু হলো প্রতিদ্বন্দ্বিতা।

শিরোপা জয়টা নেপালকে হারিয়ে হলেও, আড়ালে আরও একটা প্রতিপক্ষ ছিল—ভুটানের চাংলিমিথাং স্টেডিয়াম। গত আগস্টে থিম্পুর এই স্টেডিয়ামেই অনূর্ধ্ব–১৫ সাফের ফাইনালে ভারতের বিপক্ষে ১-০ গোলে হেরে কেঁদেছিল বাংলাদেশের মেয়েরা। কষ্টটা বুকে আরও শেল হয়ে বেঁধেছিল শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত স্বাগতিক দর্শকের ভারতের পক্ষে গলা ফাটানোতে। ভারতের শিরোপা জয়ে দর্শকেরা এমনভাবে উল্লাস করেছিল, যেন চ্যাম্পিয়ন ভারত নয়, হয়েছে ভুটান। বাংলাদেশের অপরাধ? সেমিফাইনালে ভুটানকে ৫-০ গোলে হারিয়ে ফাইনাল নিশ্চিত করা।

ভুটানকে এক হালি গোল উপহার দিয়ে আজ ফাইনাল খেলতে নেমেছে বাংলাদেশ। আজও একই অপরাধে দুষ্ট হয়ে মাঠে নেমেছিল বাংলাদেশ। পার্থক্য বলতে বাংলাদেশের সামনে ভারতের জায়গায় নেপাল। ভুটানকে হারানোর অপরাধে আজও স্বাগতিকেরা গলা ফাটাল বাংলাদেশের বিপক্ষেই। কিন্তু আজ তো পণ করেই নেমেছিলেন বাংলার মেয়েরা, ‘নেপালকে হারাবই। জয় করব ভুটানও।’ এ নিয়ে বয়সভিত্তিক ফুটবলে বাংলাদেশ পাঁচটি ট্রফি জয় করল, সেটাও আবার তিন বছরে।

বাংলাদেশের শিরোপা জয় শুরু হয়েছিল ২০১৫ সালে নেপাল থেকে। সেবার কাঠমান্ডুতে অনুষ্ঠিত এএফসি অনূর্ধ্ব–১৪ বালিকা আঞ্চলিক (সাউথ অ্যান্ড সেন্ট্রাল) চ্যাম্পিয়নশিপে চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল বাংলাদেশ। পরের বছর তাজিকিস্তানে অনুষ্ঠিত একই আসরে শিরোপা জয় করে লাল-সবুজ দল। ২০১৭ সালে বাংলাদেশে অনুষ্ঠিত সাফ অনূর্ধ্ব–১৫ মহিলা চ্যাম্পিয়নশিপে এবং ২০১৮ সালে হংকংয়ে অনুষ্ঠিত জকি ক্লাব গার্লস ইন্টারন্যাশনাল টুর্নামেন্টে অপরাজিত চ্যাম্পিয়নের নাম বাংলাদেশ। এ ছাড়া ২০১৬ সালে এএফসি অনূর্ধ্ব–১৬–এর বাছাইপর্ব পেরিয়ে সেরা আটে নাম লেখানোর কীর্তি তো গড়েছেই বাংলাদেশ। সবই এসেছে গোলাম রব্বানির অধীনে।

একের পর এক বাধা ডিঙিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে বাংলাদেশের মেয়েরা।