দৌলতদিয়ায় ঝুঁকি নিয়ে পদ্মা পারাপার

প্রকাশিত:মঙ্গলবার, ০৯ আগ ২০১৬ ১২:০৮

Manikganj -1

শহিদুল ইসলাম সুজন, মানিকগঞ্জ প্রতিনিধি:পদ্মা নদীর তীব্র স্রোত ও দৌলতদিয়ার চারটি ঘাট ভাঙনের কবলে পড়ে দুই দিন ধরে বন্ধ রয়েছে বড় ফেরি চলাচল। ছোট ফেরি দিয়ে সীমিতভাবে শুধু জরুরি প্রাইভেটকার পারাপার করা হচ্ছে। এমতবস্থায় বাস-ট্রাকসহ মাঝারি সব ধরনের যানবাহন একেবারেই ফেরি পারাপার বন্ধ রয়েছে।
এতে রাজধানীসহ আশপাশের জেলার সঙ্গে দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের ২১ জেলার মানুষের প্রবেশদ্বার এই নৌপথের কারণে সরাসরি সড়ক যোগযোগ কার্যত বন্ধ হয়ে গেছে।ভোগাšিত এড়াতে বিকল্পপথে চলাচল করায় উভয় পাড়ে কোন বাস না থাকলেও কয়েক দিন আগে আসা প্রায় পাঁচ শতাধিক ট্রাক মঙ্গলবার দুপুরেও আটকে রয়েছে।
তবে, জীবনের ঝুকি নিয়ে এসব জেলার হাজারো মানুষ এখন লঞ্চে পদ্মা নদী পার হয়ে অভ্যšতরীণ বাসে চলাচল করছেন। এ কারণে দুই দিন ধরে পাটুরিয়া-দৌলতদিয়া লঞ্চ ঘাটে বাড়তি চাপ পড়েছে যাত্রীদের। বিআইডব্লিউটিসি’র আরিচা কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, বর্তমানে এই নৌপথে চলাচল করার জন্য সচল ও বিকল মিলে নয়টি রো রো (বড়), ছয়টি ইউটিলিটি (মাঝারি) ও তিনটি (কে-টাইপ) ফেরি রয়েছে।
সপ্তাহ খানেক আগে নদীতে পানি বেড়ে গিয়ে দৌলতদিয়া ঘাটের কাছে তীব্র স্রোতের সৃষ্টি হয়। এতে ভাঙনের মুখে পড়ে ঘাট এলাকা।কয়েক দিন আগেও এই স্রোতে মাত্রাতিরিক্ত গতিতে ফেরি চলতে হয়েছে। অনেক ফেরিই স্রোতের প্রতিকূলে চলাচল করতে না পেরে বসিয়ে রাখা হয়।আবার কয়েকটি ফেরির যান্ত্রিক ত্রুটি দেখা হয়।
এই অবস্থায় কিছু দিন ধরেই তীব্র স্রোতে সচল ফেরিগুলো দিয়ে যানবাহন পারাপার ব্যাহত হচ্ছিল। এ কারণে উভয় পাড়ের ঘাট এলাকায় যানবাহনের চাপ পড়ে। গত রবিবার সকালে দৌলতদিয়ার সবক’টি ঘাট নদী ভাঙনের শিকার হয়। এ কারণে এই নৌপথে সকল ফেরি চলাচল বন্ধ করে দেয়া হয়। ওই দিন দুপুর দেড়টার দিকে দৌলতদিয়ার তিন নম্বর ঘাট কিছুটা মেরামত করে শুধু ছোট ফেরি চলাচল শুরু করা হয়েছে।
বিআইডব্লিউটিসি’র আরিচা কার্যালয় উপ-মহাব্যবস্থাপক শেখ মোহাম্মদ নাসিম সাংবাদিকদের জানান, নৌপথ ও ঘাট তদারকি সংস্থা বিআইডব্লিউটিএ ঘাট ভাঙনরোধের চেষ্টা করছেন। ঘাট মেরামত না করা পর্যšত ফেরি চালু করা সম্ভব নয়।ছোট ফেরি দিয়ে রোগী ও লাশ বহনকারী অ্যাম্বুলেন্সসহ জরুরি দু’চারটি প্রাইভেকটার পারাপার করা হচ্ছে। এই অবস্থায় ভোগান্তি এড়াতে যানবাহন চালকদের বিকল্পপথ হিসেবে বঙ্গবন্ধু সেতু ও মাওয়া সড়ক নৌপথ ব্যবহার করার অনুরোধ করা হয়েছে।মঙ্গলবার দুপুর একটার দিকেও উভয় পাড়ের ঘাটে কোন বাস না থাকলেও আগে আসা ওই সংখ্যক ট্রাক আটকে রয়েছে বলেও জানান তিনি।
কয়েকজন লঞ্চ ঘাট সুপারভাইজার জানান, ফেরি চলাচল বন্ধ থাকায় যাত্রীরা সরাসরি নিজ নিজ গšতব্যে যেতে পারছেন না। এ কারণে অভ্যন্তরীণ বাসে চলাচল করছেন তারা।লঞ্চে এই নদীর পার হয়ে ওইসব বাসে ছুটছেন নিজ নিজ গšতব্যে। এতে দুই দিন ধরে লঞ্চে যাত্রীদের বাড়তি চাপ পড়েছে।
পাটুরিয়া ফেরিঘাটের ট্রাফিক পুলিশ পরিদর্শক আনোয়ার হোসেন জানান, লঞ্চে পার হতে ঘাটে কাটা বাসে (পাটুরিয়া পর্যšত চলাচলকারী বাস) আসছেন যাত্রীরা। এ কারণে এসব বাসের চাপ রয়েছে ঘাটে।যানজট নিরসনে এসব বাস সারিবদ্ধ করে স্ব স্ব কাউন্টারে পাশে যাত্রী উঠা-নামা করানো হচ্ছে বলেও জানান তিনি।

এই সংবাদটি 1,225 বার পড়া হয়েছে

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন।
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •