দয়া নয়, ঈদ বোনাস শ্রমিকের অধিকার

ঈদের মতো উৎসবের বোনাস কারো দয়া নয়, এটা শ্রমিকের অধিকার। দুই ঈদে বেসিকের সমপরিমাণ বোনাস দেয়ার রেওয়াজ থাকলেও সরকার শ্রম আইনে বোনাসের বিষয়টি উল্লেখ না করে শ্রমিকদের বঞ্চিত করার সুযোগ তৈরি করে দিয়েছে।

 

শুক্রবার জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে অনুষ্ঠিত বিক্ষোভ-সমাবেশে এসব কথা বলেন শ্রমিক নেতারা।

 

 

 

হয়রানি বন্ধ করে অবিলম্বে বেসিক বেতনের সমান ঈদ বোনাস ও বকেয়া বেতন পরিশোধ, ন্যুনতম মজুরি ১৮ হাজার টাকা নির্ধারণ এবং জুলাই মাসের মধ্যে মজুরি বোর্ডের সুপারিশ ঘোষণার দাবিতে এ বিক্ষোভ-সমাবেশের আয়োজন করে গার্মেন্টস শ্রমিক-কর্মচারী ঐক্য পরিষদ (জি-স্কপ)।

 

সমাবেশে গার্মেন্টস শ্রমিক কর্মচারী ঐক্য পরিষদের যুগ্ম আহ্বায়ক নাইমুল আহসান জুয়েল বলেন, প্রতিবছর রোজার শুরুতে শ্রম মন্ত্রণালয় মালিকদের সঙ্গে বৈঠক করে সব শ্রমিকের বেতন-ভাতা পরিশোধের আশ্বাস দেয়। কিন্তু মালিকরা ঈদের ছুটির পূর্ব মূহূর্ত পর্যন্ত শ্রমিকদের বেতন-ভাতা পরিশোধ না করে তাদের জিম্মি করে।

 

জাতীয় শ্রমিক জোটের সভাপতি আব্দুল ওয়াহেদ বলেন, ঈদে শ্রমিকদের বেতন-ভাতা না দেয়া প্রতারণা। মালিকপক্ষ বরাবর প্রতারণা করে আসলেও সরকারকে কখনও ব্যবস্থা নিতে দেখা যায়নি।

 

গার্মেন্টস শ্রমিক ফ্রন্টের সভাপতি আহসান হাবিব বুলবুল বলেন, শ্রমিকরা ঈদে বেতন বোনাস না পাবার শঙ্কায় থাকে। কখনও মালিকপক্ষ বোনাসের বদলে বকসিস দেয়। পূর্ণ বেতন-বোনাস না পেয়ে অল্প ভাড়ার ঝুঁকি নিয়ে বাড়ি ফিরতে গিয়ে দুর্ঘটনায় অনেকে মারাও যান।

 

 

 

বিক্ষোভ সমাবেশে বক্তারা বলেন, গত ১৪ জানুয়ারি গার্মেন্ট শ্রমিকদের জন্য ন্যুনতম মজুরি বোর্ড গঠনের ঘোষণা করা হলেও এর বৈঠক বসে দুই মাস পর ১৯ মার্চ। এরপর গত ২৫ এপ্রিল মজুরি বোর্ডের বৈঠক স্থগিত করা হয়। যদিও শ্রম আইনের ১৩৯(২) ধারা অনুসারে মজুরি বোর্ড গঠনের ছয় মাসের মধ্যে নতুন মজুরির সুপারিশ করবে। সে হিসেবে আগামী জুলাই মাসেই নতুন মজুরি ঘোষণা করতে হবে। কিন্তু মালিকপক্ষের প্রতিনিধিরা বলে বেড়াচ্ছে তাদের সময় নাকি ডিসেম্বর পর্যন্ত রয়েছে।

 

নেতৃবৃন্দ অবিলম্বে শ্রমিকদের বেতন-ভাতা পরিশোধের দাবি জানিয়ে বলেন, কালক্ষেপণ ও পরিশোধ না করলে উদ্ভূত পরিস্থিতির দায় মালিকদেরই বহন করতে হবে।

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *