নওগাঁ বন্যায় ২২ হাজার পরিবার পানি বন্দি

প্রকাশিত:রবিবার, ০৪ অক্টো ২০২০ ০৬:১০

নওগাঁ বন্যায় ২২ হাজার পরিবার পানি বন্দি

 

তমাল ভৌমিক, নওগাঁ :
নওগাঁয় চতুর্থ দফায় বন্যা শুক্রবার পর্যন্ত জেলায় ১৫টি ইউনিয়নের সাড়ে ২১ হাজার পরিবার পানি বন্দি হয়ে পরেছেন। দিনদিন বন্যার পানি বিভিন্ন এলাকা বিস্তারের সাথে রাস্তাঘাট তলিয়ে গিয়ে দুর্ভোগ বাড়ছে। এদিকে সরকারি ভাবে বন্যা কবলিত মানুষদের মধ্যে ১শ’ ২০ মেট্রিকটন খাদ্য বিতরণ করা হয়েছে। তবে বন্যা কবলিত এলাকার ক্ষতিগ্রস্থ্যরা অভিযোগ করে বলেন, স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান ও সদস্যরা প্রভাব খাটিয়ে স্বজদের এসব সরকারি ত্রাণ দিচ্ছেন। ফলে তারা সরকারি ত্রাণ পান না।
বন্যায় ঘরবাড়ি, রাস্তা-ঘাট, বোরো ধান ও সবজির ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। কৃষি বিভাগের সূত্রে জেলায় দ্বিতীয় লাগানো ৬ হাজার ৬শ’ ১৬ হেক্টর বোরো আমন ধান ও সবজি ১শ ১১ হেক্টর নষ্ট হয়ে গেছে। এ ছাড়াও জেলায় শতশত পুকুরের মাছ বন্যায় ভেঁসে দিয়ে ক্ষতিগ্রস্থ্য হয়েছেন মাছ ব্যবসায়ীরা।
নওগাঁ পানি উন্নয়ন বোর্ডের সূত্রে জানা গেছে, শনিবার সকাল ৯টায় আত্রাই নদের পানি মহাদেবপুর উপজেলায় মহাদেবপুর পয়েন্টে বিপদসীমার ২৫০ সেন্টিমিটার, ধামইরহাট উপজেলার শিমুলতলী পয়েন্টে বিপদসীমার ২২৬ সেন্টিমিটার, মান্দা উপজেলার জোতবাজার পয়েন্টে বিপদসীমার ৩৮ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এই নদের আত্রাই উপজেলার আহসানগঞ্জ রেলওয়ে ষ্টেশন পয়েন্টে এখনও বিপদসীমার ৩২ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এদিকে নওগাঁয় ছোট যমুনা নদীর পানি গত ২৪ ঘন্টায় ১৫ সেন্টিমিটার কমে গিয়ে বর্তমানে বিদসীমার সমান্তরালে প্রবাহিত হচ্ছে।
নওগাঁর ক্ষতিগ্রস্থ্য ও সচেতন মহল অভিযোগ করে বলেন, গত পরপর দুটি বন্যায় জেলায় পানি উন্নয়ন বাঁধের ১৪টি পয়েন্টে ভেঙ্গে বিস্তৃন্ন এলাকা প্লাবিত। এরপর এক মাস পেরিয়ে গেলেও সেই ভেঙ্গে যাওয়া বাঁধগুলো মেরামত না করায় জেলায় এই ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। এ ছাড়াও বাঁধ মেরামতের সময় ঠিকাদাররা নামমাত্র কাজ করলেও সংশ্লিষ্ট বিভাগের কর্মকর্তাদের সাথে যোগসাজশ থাকায় সঠিক নজরদারি সঠিক ভাবে থাকে না।
অভিযোগ অস্বীকার করে নওগাঁ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী আরিফুজ্জামান খান বলেন, চলতি বন্যায় ৫টি পয়েন্টে বাঁধ মেরামতের জন্যে জরুরী ভাবে ১ কোটি ৩০ লাখ টাকা পাওয়া গিয়েছে। কাজও শুরু হয়েছিল। কিন্তু হঠাৎ করে আবারো বন্যা আসায় বাঁধ মেরামত করা সম্ভব হয়নি।
বন্যা কবলিত এলাকা হাটকালুপাড়া ইউনিয়ন পরিষদ এলাকার বাসিন্দা আব্দুল হাকিম, সুরেশ, রহিমা বিবিসহ অন্যরা জানান, স্থানীয় ইউপি সদস্য ও চেয়ারম্যানগণ ক্ষতিগ্রস্থ্যদের মধ্যে সরকারি ত্রাণ না দিয়ে তাদের পরিবারের লোকজন ও স্বজনদের ত্রাণসহ বিভিন্ন সরকারি সুযোগ সুবিধা দিচ্ছেন। ফলে এলাকার বেশি ভাগই ক্ষতিগ্রস্থ্যরা কোন ত্রাণ পানি। সরকারি ভাবে তালিকা করে সঠিক ক্ষতিগ্রস্থ্যদের ত্রাণ দেওয়ার দাবি জানান।
অভিযোগ অস্বীকার করে হাটকালুপাড়া ইউনিয়ন ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য জমির উদ্দিন ও চেয়ারম্যান আব্দুর শুকুর সরদার জানান, ক্ষতিগ্রস্থ্যদের চাহিদার তুলনায় ত্রাণ কম পাওয়ায় তারা ত্রাণ বিতরণে হিমশিম খাচ্ছেন।
মান্দা উপজেলা নির্বাহী অফিসার আব্দুল হালিম জানান, উপজেলায় সাড়ে ৩ হাজার পরিবারের প্রায় ২০ হাজার মানুষ তাঁদের গৃহপালিত গবাদি পশু এবং হাঁস মুরগী নিয়ে এখনও বন্যা কবলিত হয়ে কষ্টের মধ্যে জীবনযাপন করছেন। বন্যা কবলিত ১ হাজার পরিবারের মধ্যে জেলা প্রশাসকের উদ্যোগে চাল, ডাল, তেল লবন, নুডলস ইত্যাইদ শুকনা খাবার বিতরণ করা হয়েছে। এ ছাড়াও উপজেলা প্রশ্সানের অর্থায়নে প্রায় ২ লাখ টাকার ত্রাণ সামগ্রী বন্যা দূর্গতদের মধ্যে বিতরণ করা হয়েছে।
আত্রাই উপজেলার নির্বাহী অফিসার সানাউল ইসলাম জানিয়েছেন, উপজেলার ৭টি ইউনিয়নে সর্বশেষ হিসেব অনুযায়ী ১৪ হাজার পরিবারের প্রায় ৭০ হাজার মানুষ বন্যা কবলিত হয়েছে। এ পর্যন্ত জেলা প্রশাসকের উদ্যোগে দেড় হাজার পরিবারের মধ্যে শুকনা খাবার হিসেবে চাল, ডাল, তেল, লবন, চিনি, নুডলস ইত্যাািদ শুকনা খাবার বিতরণ করা হয়েছে। এ ছাড়াও বেশ কিছু পরিবারের মধ্যে ১০ কেজি করে চাল এবং উপজেলা পরিষদের তহবিল থেকে আরও ২লক্ষ টাকার ত্রাণ সামগ্রী বিতরণ করা হয়েছে।
জেলা ত্রাণ ও পূর্ণবাসন কর্মকর্তা কামরুল ইসলাম জানান, জেলায় এখনো ৯৫ হাজার মেট্রিকটন খাদ্য, ১২শ’ ৭৭ মেট্রিকটন শুকরা খাবার ও নগদ ৩ লাখ ৪৭ হাজার ৫শ’ টাকা মজুদ রয়েছে।
নওগাঁ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক সাইফুল ওয়াদুদ জানান, জেলার মধ্যে আত্রাইয়ে ২ হাজার ১শ’৮০ হেক্টর, মান্দায় ১ হাজার ৭শ’ ২৫ হেক্টর, রাণীনগরে ৯শ’ ২৭ হেক্টর ও সদরে ৭শ’ ৩২ হেক্টরসহ জেলায় ৬ হাজার ৬শ’ ১৬ হেক্টর দ্বিতীয় দফায় লাগানো আমন ধাণ তলিয়ে গেছে। তবে পানি বিভিন্ন এলাকা বিস্তৃত হচ্ছে। ক্ষতির পরিমাণ আরো বাড়বে।

এই সংবাদটি 1,230 বার পড়া হয়েছে

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন।
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •