নতুন বছরে ইতিহাস গড়া নতুন সরকার

হাবিবুল্লাহ ফাহাদ ::: গ্রেগরিয়ান ক্যালেন্ডারের পাতা উল্টে গেছে। শুরু হয়েছে নতুন বছর ২০১৯। শপথ নেবে নতুন সরকার। টানা তৃতীয়বারের মতো সরকার গঠন করতে যাচ্ছে আওয়ামী লীগ। আর বঙ্গবন্ধু-কন্যা শেখ হাসিনা টানা তৃতীয়বার এবং মোট চারবারের মতো প্রধানমন্ত্রী হওয়ার রেকর্ড গড়তে যাচ্ছেন।

২০১৮ সালের শেষ মুহূর্তে ৩০ ডিসেম্বরের ভোটে বিস্ময়কর জয় পেয়েছে আওয়ামী লীগ। নির্বাচনে দলটির হ্যাটট্রিক জয়। ২৬৬টি আসনেই দুর্বার এগিয়ে গেছে নৌকা। ১৯৭৩ সাল থেকে হিসাব কষলে আওয়ামী লীগও দল হিসেবে পাঁচবার ক্ষমতার মসনদে বসার ইতিহাস গড়তে যাচ্ছে এ বছরই। তাই ২০১৯ সাল আমাদের রাজনৈতিক ও গণতান্ত্রিক ইতিহাসে মাইলফলক হয়ে থাকবে।

২০১৮ সাল পুরোটাই ছিল উত্তেজনায় ঠাসা। কেন্দ্রে ছিল একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। এই নির্বাচনে সব দল আসবে কি-আসবে না, নির্বাচন ঠিক সময়ে হবে কি-হবে নাÑএমন প্রশ্নের শেষ ছিল না। ৩০ ডিসেম্বরের ভোট সব প্রশ্নের শেষে দাড়ি টেনেছে।

এখন সময়টা এগিয়ে যাওয়ার। টানা চতুর্থবার ক্ষমতায় আসা আওয়ামী লীগের কাছে মানুষের প্রত্যাশাও বাড়বে। কারণ যারা প্রত্যাশাপূরণ করতে পারেন, তাদের কাছে মানুষের চাওয়াটাও বেশি থাকে। এটাই স্বাভাবিক।

মোটাদাগের উন্নয়ন কাজ এগিয়ে নিতে পাঁচ বা দশ বছর খুব বেশি সময় নয়। তাই এবার আওয়ামী লীগের জয়ের ধারাবাহিকতা উন্নয়নের স্বার্থেই প্রয়োজন ছিল। নতুন সরকারের ওপর এখন অনেক দায়িত্ব। চলমান উন্নয়ন কাজগুলো এগিয়ে নেওয়ার পাশাপাশি এবার নির্বাচনী ইশতেহারে যে প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে, তা পালন করা।

এবারের সরকারের সামনে দুটো বড় উপলক্ষ উদযাপনের অপেক্ষায় আছে। ২০২০ সালে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মের শত বছর পূরণ হবে। তাদের পরের বছর ২০২১ সালে বাংলাদেশ পৌঁছবে অর্ধশত বছরে। দুটি বড় উপলক্ষ উদযাপনে প্রস্তুত হচ্ছে বাংলাদেশ। ২০২১ সালের মধ্যে দেশকে মধ্যম আয়ের দেশে তুলে আনার যে ঘোষণা শেখ হাসিনা দিয়েছেন তা বাস্তবায়নের বিকল্প নেই।

তিনি অবশ্য সেই পথেই হাঁটছেন। জয়ের পর বিজয় মিছিল না করতে দলের নেতাকর্মী-সমর্থকদের নির্দেশ দিয়েছেন। বলেছেন, এখন সময় দেশ গঠনের। সবাইকে সেই লক্ষ্যেই কাজ করতে বলেছেন। সোমবার গণভবনে অভিনন্দন জানাতে আসা অতিথিদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘এই বিজয় আমার ব্যক্তিগত কোনো লাভের জন্য নয়। বরং এই বিজয় দেশ ও জনগণের প্রতি আরও বড় ধরনের দায়িত্ব বাড়িয়ে দেয়।’ এই বক্তব্য আগামীতে শুভদিনের ইঙ্গিত দিচ্ছে।

গতকাল রাত ১২টার পরপরই বিশে^র বিভিন্ন দেশ নানা আয়োজনে নতুন বছরকে স্বাগত জানিয়েছে। বাংলাদেশও ব্যতিক্রম নয়। কমবেশি আনুষ্ঠানিকতার মধ্য দিয়ে ইংরেজি নতুন বছরের শুরুটা উদযাপন করেছে আমোদপ্রিয় মানুষ।

গ্রেগরিয়ান ক্যালেন্ডারেই সারা বিশে^র বছর ঘোরে। এর যাত্রা শুরু হয়েছিল ১৫৮২ খ্রিস্টাব্দে। পোপ ত্রয়োদশ গ্রেগরি নতুন এক বর্ষপঞ্জির চালু করেন। এটাই গ্রেগরিয়ান ক্যালেন্ডার।
তবে ক্যালেন্ডার বা বর্ষপঞ্জির প্রচলন হয়েছিল খ্রিস্টপূর্ব ৭৫৩ সালে প্রচীন রোমে। রোম শহরের শুরুর দিনের ওপর ভিত্তি ধরে হিসাব করা হতো রোমান ক্যালেন্ডার।

এর আগে খ্রিস্টপূর্ব ৭০৩ সালে দ্বিতীয় রোমান স¤্রাট নুমা পম্পিলিউস এক বছরে ৩৫৫ দিন ঠিক করেন। আর মাসের হিসাবে ঠিক করেন ১২ মাস। খ্রিস্টপূর্ব ৪৫ রোমান সম্রাট জুলিয়াস সিজারের নাম অনুসারে খ্রিস্টপূর্ব ৪৫ সালে চালু হয় জুলিয়ান ক্যালেন্ডার। এর ভিত্তি ছিল সূর্যের প্রদক্ষিণকাল। জুলিয়ান ক্যালেন্ডারের হাত ধরেই লিপ ইয়ার বা অধিবর্ষের উৎপত্তি।

পুরনো বছরের অপ্রাপ্তি, ব্যর্থতা ভুলে নতুন বছর শুরু হোক ঘুরে দাঁড়ানোর শপথে। অতীতের ব্যথর্তায় ভেঙে পড়া নয়, হতাশা নয়, হোক এগিয়ে যাওয়ার শক্তি। কল্যাণ বয়ে আনুক ২০১৯ সাল।