নদী ভাঙ্গনের স্বীকার জনগোষ্ঠীকে যথাযথ পুনর্বাসন দরকার

প্রকাশিত:মঙ্গলবার, ০৮ ডিসে ২০২০ ১২:১২

নদী ভাঙ্গনের স্বীকার জনগোষ্ঠীকে  যথাযথ পুনর্বাসন দরকার

সম্পাদকীয়: নদীমাতৃক বাংলাদেশে নদীর পাড়ের বাসিন্দাদের কাছে এক আতঙ্কের নাম ভাঙন৷ অনেকের জীবন দুর্বিষহ হয়েছে এই ভাঙনে৷ প্রশ্ন হচ্ছে, নদী ভাঙন রোধের কি কোনো উপায় নেই? নদীর ভাঙনের কারণগুলোর দিকে তাকালে কিন্তু মনে হয়, অনেককিছুই আমাদের হাতে রয়েছে৷ অনেকক্ষেত্রেই আমাদের কারণেই নদী ভাঙন ঘটছে৷ নদীর গতি রোখার চেষ্টার কারণে নদীভাঙন ঘটতে পারে৷ অনেক সময় নদীর মাঝখান দিয়ে আড়াআড়িভাবে বাঁধ দেয়ার চেষ্টা করা হয়, যা ভাঙন সৃষ্টি করতে পারে৷ অবশ্য এই কাজ যদি একান্ত করতেই হয় তাহলে আগে নদীর পাড় যথেষ্ট মজবুত করে নিতে হবে৷ অপরিকল্পিতভাবে নদীর গতিপথ পরিবর্তনের চেষ্টাও নদী ভাঙনের এক বড় কারণ৷শহরাঞ্চলে পানি নিষ্কাশনের জন্য প্রয়োজনীয় খাল বা নালা দখল করে ফেলায় কিংবা অন্য কোনো কারণে সেগুলো বন্ধ করে ফেলায় বর্ষা মৌসুমে নদীর উপর পানির চাপ অনেক বেড়ে যায়৷ পানির অতিরিক্ত প্রভাবের চাপ তখন পড়ে পাড়ে৷

ফলে সৃষ্টি হয় ভাঙন৷  বাংলাদেশের দক্ষিণাঞ্চলে আমি দেখেছি যে, নদীর পাড়ে বেশ খানিকটা জায়গা ছেড়ে দিয়ে ভেতরের দিকে বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ নির্মাণ করা হয়৷ ফলে যে অংশ বাঁধের বাইরে থাকে সেই অংশ অরক্ষিত থাকে এবং অনেক সময় ভেঙে যায়৷ নদীর পাড়ের ঘাস, কাশবনসহ অন্যান্য বন উজাড় করে ফেললে মাটি দুর্বল হয়ে পড়ে এবং পানির তোড়ে ভাঙন সৃষ্টি হয়৷ এছাড়া অপরিকল্পিতভাবে নদী খনন বা ড্রেজিংয়ের কারণে ক্ষতির শিকার হয় নদী৷নদী ভাঙন রোধে নেয়া বিভিন্ন উদ্যোগে দুর্নীতির অভিযোগ রয়েছে৷ দেখা যাচ্ছে, যে প্রক্রিয়ায় এবং যে ধরণের দ্রব্য ব্যবহার করে নদীর পাড় মজবুত করতে বলা হয়, দুর্নীতি করতে গিয়ে তা করা সম্ভব হয় না৷ ফলে সরকারি উদ্যোগ থাকলেও বাস্তবে তা তেমন সহায়ক হয় না৷নদী ভাঙ্গনের স্বীকার জনগোষ্ঠীকে যথাযথ পুনর্বাসন দরকার৷

এই সংবাদটি 1,228 বার পড়া হয়েছে

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন।
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •