নাজিবের মালয়েশিয়া ত্যাগে নিষেধাজ্ঞা

কয়েকদিন আগের সাধারণ নির্বাচনে পরাজিত সাবেক প্রধানমন্ত্রী নাজিব রাজাক ও তার স্ত্রীর মালয়েশিয়া ত্যাগে নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে বলে দেশটির অভিবাসন বিষয়ক কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।

 

পরিবারের সদস্যদের নিয়ে ছুটি কাটাতে শনিবার দেশের বাইরে যাওয়ার পরিকল্পনা করছেন, নাজিবের এমন মন্তব্যের কিছুক্ষণ পরই তার দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞার খবর আসে বলে জানিয়েছে বিবিসি।

 

টুইটারে পরে সদ্য সাবেক প্রধানমন্ত্রীও তার দেশ ছাড়ে নিষেধাজ্ঞার খবর নিশ্চিত করেন। কি কারণে এ সিদ্ধান্ত হয়েছে কর্তৃপক্ষ তা না জানালেও নাজিব বলেছেন, তিনি এ নির্দেশ মেনে চলবেন।

 

নাজিবের বিরুদ্ধে প্রধানমন্ত্রী থাকাকালে মালয়েশিয়ার রাষ্ট্রীয় বিনিয়োগ তহবিল ওয়ানএমডিবি থেকে ৭০ কোটি মার্কিন ডলার আত্মসাতের অভিযোগ আছে।

 

রাজধানী কুয়ালালামপুরকে বিশ্ব অর্থনীতির কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত করার পাশাপাশি কৌশলগত বিনিয়োগের মাধ্যমে দেশের অর্থনীতি গতিশীল করার পরিকল্পনায় ২০০৯ সালে এই ওয়ানএমডিবি তহবিল গঠন করা হয়েছিল। তহবিলে তিনশ কোটি ডলারের বেশি অর্থ ছিল।

 

ওই তহবিলের অর্থ আত্মসাতের মাধ্যমে মালয়েশীয়দের প্রতারিত করা হচ্ছে, ২০১৬ সালে যুক্তরাষ্ট্র কর্তৃপক্ষ তাদের কাছে এ সংক্রান্ত তথ্য প্রমাণ থাকার কথা জানিয়ে অন্তত একশ কোটি ডলারের সম্পদ জব্দ করার উদ্যোগ নেয়।

 

যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল কোর্টে এ সংক্রান্ত একটি মামলাও হয়। মার্কিন বিচার বিভাগের দায়ের করা ওই মামলার কাগজপত্রে মালয়েশিয়ার সদ্য সাবেক প্রধানমন্ত্রী নাজিব রাজাকের নাম উল্লেখ না করে ‘মালয়েশিয়া অফিসিয়াল ওয়ান’ বলা হয়।

 

নাজিব শুরু থেকেই তার বিরুদ্ধে আনা এ অভিযোগ অস্বীকার করছেন। ক্ষমতায় থাকাকালে প্রধানমন্ত্রীকে এ অভিযোগ থেকে অব্যাহতি দিয়েছিল মালয়েশিয়ার বিচার বিভাগও।

 

বিরোধীদের অভিযোগ, ক্ষমতার অপব্যবহার করে মালয়েশিয়ার তদন্ত থেকে অব্যাহতি নিয়েছিলেন নাজিব। ওয়ানএমডিবি তহবিল থেকে নাজিবের অর্থ আত্মসাতের নতুন তদন্তও চেয়েছে তারা।

 

দুর্নীতির এ অভিযোগকে ঘিরেই মাহাথির মোহাম্মদের সঙ্গেও দূরত্ব তৈরি হয় নাজিবের।

 

ওয়ানএমডিবি কেলেঙ্কারি প্রকাশের পর মাহাথির তার এক সময়ের পছন্দের প্রার্থী নাজিবকে ক্ষমতা ছেড়ে দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছিলেন।

 

কিন্তু নাজিব ক্ষমতা ছাড়তে রাজি না হওয়ায় নিজের সাবেক দলের বিপক্ষে গিয়ে বিরোধীদের সঙ্গে জোট বেধে নির্বাচন করার সিদ্ধান্ত নেন বয়সের কারণে রাজনীতিকে বিদায় জানানো মাহাথির।

 

মাহাথিরের জনপ্রিয়তার জোরেই বুধবারের জাতীয় নির্বাচনে পাকাতান হারাপানের (অ্যালায়েন্স অব হোপ) বড় জয় পায়।

 

১৯৫৭ সালে ব্রিটিশ শাসন থেকে স্বাধীন হওয়ার পর গত ৬১ বছর ধরে একটানা ক্ষমতায় থাকা মালয়েশিয়ায় বারিসান ন্যাসিওনালের (বিএন) ভরাডুবি হয়। বিএন’র হয়ে ২২ বছর মাহাথিরই দেশ শাসন করেছেন।

 

বৃহস্পতিবার ৯২ বছর বয়সে বিশ্বের সবচেয়ে বয়সী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন মাহাথির।

 

এসময় তিনি বলেন, “ওয়ানএমডিবি তহবিলের বেশিরভাগ অর্থ আমরা ফেরত আনতে সক্ষম হব বলেই আমার বিশ্বাস।”

 

নাজিবের হয়ে কাজ করা সরকারি সংস্থাগুলোয় পরিবর্তন আসবে কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে মাহাথির বলেন, “নির্দিষ্ট কয়েকজনের অবশ্যই পতন হবে। আমাদেরকে প্রশাসনে বিনিয়োগকারীদের আস্থা বাড়াতেই হবে।”

Leave a Reply

Your email address will not be published.