‘নাটকে ভালো গল্পেরও অভাব’

দেশে -বিদেশে টিভি নাটকের শুটিং নিয়ে ব্যস্ত সময় পার করছেন দর্শকপ্রিয় অভিনেত্রী অপর্ণা ঘোষ। প্রায় এক মাস বাংককে থাকার পর সম্প্রতি তিনি দেশে ফিরেছেন। বাংককে অঞ্জন আইচ ও দীপু হাজরার  ‘অপলা এবং’, ‘সিটি অব লাভ’ ও ‘এ কম্পিলিকেট রিলেশনশিপ’সহ পাঁচটি নাটকে অভিনয় করেছেন বলে জানান তিনি। দেশের বাইরে নাটকের শুটিং করা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই নানা রকম কথা শোনা যায়। অনেকেরই প্রশ্ন, শুধু কি গল্পের প্রয়োজনেই দেশের বাইরে নাটকের শুটিং হচ্ছে? নাকি এর পেছনে অন্য কোনো কারণ রয়েছে? এই প্রসঙ্গে অপর্ণা বলেন, আমি যে নাটকগুলোতে অভিনয় করেছি সেগুলো দেশের বাইরের লোকেশন ডিমান্ড করে। এছাড়া ঈদে টানা কাজ করে অনেকেই বোরিং ফিল করছে। কিছুটা রিফ্রেস হওয়ার জন্যও দেশের বাইরে শুটিংয়ের প্রয়োজন ছিল। দেশের বাইরে শুটিং নিয়ে আমাকে কোনো প্রবলেম ফেস করতে হয়নি।

দেশেও এখন পর্যন্ত আমি এই ধরনের কোনো প্রবলেমে পড়িনি। দেশের বাইরে শুটিংয়ে বিশেষ কোন সুবিধাগুলো পাওয়া যায় জানতে চাইলে তিনি বলেন, দেশের বাইরে সব আর্টিস্ট একইসঙ্গে থাকেন। সঠিক সময়ে কাজ শুরু করা যায় এবং শেষ করা যায়। কিন্তু দেশে এটি সম্ভব হয় না প্রায়শই। একটি নাটকের শুটিং প্রথম দিন করার পর পরের দিন সঠিক কল টাইমে শিল্পী স্পটে পৌঁছুতে পারেন না। কিন্তু দেশের বাইরে নির্মাতাকে এই সমস্যার মুখোমুখি হতে হচ্ছে না। দেশে ফিরেই অপর্ণা অভিনেতা রওনক হাসানের ‘বিবাহ হবে’ শিরোনামের একটি ধারাবাহিকের শুটিং শুরু করেছেন। এই ধারাবাহিকে তিনি অভিনয় করছেন জনপ্রিয় অভিনেতা মোশাররফ করিমের সঙ্গে। এটিতে অপর্ণার চরিত্রের নাম দীপালি। এদিকে সম্প্রতি তিনি শুরু করেছেন আবু হায়াত মাহমুদের ‘গোল্ডেন ভাই’ শিরোনামের আরো একটি ধারাবাহিকের শুটিং। এছাড়া তার হাতে আরো রয়েছে আরবি প্রিতমের ‘সেমিকর্পোরেট’ ও রাশেদ রাহার ‘মেঘে ঢাকা আকাশ’ শিরোনামের দুটি ধারাবাহিক। এই সময়ের অনেক অভিনেত্রী নাটকে শুধু গ্ল্যামারাস চরিত্রে অভিনয় করতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন। ফলে নাটকে বৈচিত্র্য দেখা যায় না। এই প্রসঙ্গে অপর্ণা বলেন, একজন অভিনেত্রীকে দেখতে হবে গল্পে তার চরিত্রটি কেমন। শুধু গ্ল্যমার খুঁজলে তো হবে না। চরিত্রের প্রয়োজনে নানা রকম ভাবে পর্দায় আসতে হবে। কখনো গ্ল্যামাস আবার কখনো গ্ল্যামার ছাড়া। বিভিন্ন ভাবে ভেঙ্গে নিজেকে গড়াই একজন শিল্পীর লক্ষ থাকা উচিৎ। আমি চাই নির্মাতারা আমাকে বিভিন্ন ভাবে উপস্থাপন করুক। এই  সময়ে টিভি মিডিয়ায় কোন বিষয়গুলোর পরিবর্তন প্রয়োজন মনে করেন এই অভিনেত্রী? এই প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, টিভি নাটকের বাজেটের বিষয়টি নিয়ে সবার ভাবা উচিৎ। যদি বাজেট ভালো না থাকে তাহলে স্বাচ্ছ্যন্দে কাজ করা যায় না। পর্যাপ্ত বাজেট না থাকার কারণে নির্মাতারা অনেক সময় দায়সারা ভাবে শুটিং শেষ করেন। এছাড়া ভালো স্ক্রীপ্ট রাইটারদের অগ্রাধিকার দেওয়া প্রয়োজন। নাটকে ভালো গল্পেরও অভাব। এ কারণে দর্শক ভালো নাটক দেখা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। প্রসঙ্গত, ছোট পর্দার বাইরে এই অভিনেত্রী চলচ্চিত্রের দর্শকের মনেও জায়গা করে নিয়েছেন। গাজী রাকায়েত পরিচালিত ‘মৃত্তিকা মায়া’ চলচ্চিত্রে অভিনয়ের জন্য অর্জন করেছেন জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার। অপর্ণাকে সর্বশেষ দেখা গেছে ‘ভুবন মাঝি’ শিরোনামের একটি চলচ্চিত্রে। এটিতে তিনি জুটি বাঁধেন ওপার বাংলার পরমব্রত ও দেশের মাজুনন মিজানের সঙ্গে। এটি নির্মাণ করেন ফাখরুল আরেফিন খান। চলতি বছরে নতুন একটি চলচ্চিত্রে অভিনয় করার কথা ছিল এই অভিনেত্রীর। কিন্তু সেটি হচ্ছে না বলে জানান। তবে নতুন চলচ্চিত্রের বিষয়ে আলোচনা চলছে।