নাটোরের হালতিবিলের জলাবদ্ধতা নিরসনের উদ্যোগ, কৃষকের স্বস্তি

 

লিমন হোসেন,নাটোর ঃ

দীর্ঘ প্রতিক্ষার পর অবশেষে নাটোরের হালতিবিলে বিশাল এলাকা জুড়ে সৃষ্ট জলাবদ্ধতা নিরসনে খোলাবাড়িয়া গ্রামের জিয়া খালের ভরাট মাটি অপসারনের কাজ শুরু হয়েছে। এতে স্বস্তির নিঃশ^াস ফেলতে শুরু করেছেন ওই এলাকার কয়েক হাজার চাষী।

মঙ্গলবার (১৭ জানুয়ারী) দুপুরে নলডাঙ্গা উপজেলা নির্বাহী অফিসার শারমিন আক্তার জাহান এই মাটি অপসারন কাজের উদ্বোধন করেন। এসময় উপজেলা চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন, মাধনগর ইউপি চেয়ারম্যান আমজাদ হোসেন দেওয়ান, ইউপি সদস্য ডলার, সঞ্জয়সহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যাক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।

নলডাঙ্গা উপজেলা নির্বাহী অফিসার শারমিন আক্তার জাহান বাংলানিউজকে জানান, কৃষকের বোরো চারা রোপনের কথা বিবেচনা করে পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা করতে জিয়া খালের ভরাট করা মাটি অপসারন করা হচ্ছে। এরআগেও গত দুই বছর ধরে সংস্কার করে পানি নিস্কাশনের ব্যবস্থা করা হয়েছিল ।

তিনি বলেন, উপজেলা পরিষদ থেকে টিআর বরাদ্দ থেকে এই কাজ বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। মাটি অপসারনে ভেকু মেশিন ও ৫০ জন শ্রমিক নিয়োগ করা হয়েছে। কাজ সম্পন্ন করতে কয়েকদিন লাগতে পারে।

হালতিবিলের এই জলাবদ্ধতার স্থায়ী সমাধান করতে হলে জিয়া খাল পুনঃ খনন বা সংস্কারসহ বৃহৎ প্রকল্প গ্রহণ করা দরকার। বিষয়টি জেলা প্রশাসনসহ উর্ধতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে।

এদিকে ভুক্তভোগেী কৃষক বাঁশিলা গ্রামের সিদ্দিক মোল্লা, তেঘড়িয়া গ্রামের সামসুল ইসলাম জানান, পানি নিষ্কাষনে স্থায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ না করায় এবারও বিশাল এলাকা জুড়ে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছিল। ফলে সোনাপাতিল, হালতি ও বাঁশিলা এলাকার কয়েক’শ কৃষক বোরো চাষ নিয়ে দুঃশ্চিন্তায় পড়েন। বিষয়টি স্থানীয় প্রশাসনকে জানানোর পর পানি নিষ্কাষনের ব্যবস্থা গ্রহণ করায় তারা খুশি।

তারা আরো বলেন, সময়মত এই উদ্যোগ না নেওয়া হলে অন্তত এক হাজার হেক্টর জমিতে বোরো চাষ প্রায় আরো এক মাস বিলম্বিত হতো। এতে কৃষকদের ভোগান্তিসহ বোরো ধান উৎপাদনে বিপর্যয় ঘটনার আশঙ্কা ছিল। তাই পানি নিষ্কাষণে স্থায়ী সমাধান চান তারা।

এলাকাবাসী জানান, গত দুই দশক আগে হালতিবিলে আমন ধান চাষ হতো। এখন একটি মাত্র ফসল বোরো ধান হলেও আধুনিক কৃষি প্রযুক্তির ছোঁয়ায় ইদানিংকালে রবি শস্যও চাষাবাদ হচ্ছে।

কালের বির্বতনে ফসলের পরিবর্তন হলেও কৃষকের দুর্ভোগ দুর হয়নি। বন্যার কারনে বিলের আকার পরিবর্তন হয়েছে অনেকাংশ। পলি জমে কোথাও কোথাও বিল উচঁ হয়েছে ও ছোট-বড় খালগুলো দখল হয়ে গেছে। অনেকে খাল ভরাট করে সমতল জমিতে পরিনত করে চাষাবাদ করছে।

ফলে এসব খালে পানি প্রবাহ বন্ধ হওয়ায় বিলের নিচু জমি থেকে বন্যার পানি অপসারনে বিপত্তী বাধে। এনিয়ে প্রতি বছরই কৃষকদের ভোগান্তি পোহাতে হয়।

নাটোর পানি উন্নয়ন বোডের নির্বাহী প্রকৌশলী শুধাংসু কুমার সরকার বাংলানিউজকে জানান, হালতিবিলের বন্যার পানি যথাসময়ে অপসারণ এবং চাষ মৌসুমে পানি প্রবাহ বজায় রাখতে আশির দশকে পানা উল্লাহ খাল এবং জিয়া খাল খনন করা হয়। নব্বইয়ের দশকে জিয়া খাল পুনঃ খনন কাজ করা হয়।

কিন্তু এসব খালের উৎস মুখে স্থানীয় দখলদাররা ভরাট করে বসতি কিংবা বাঁধ দিয়ে পুকুর বানিয়ে মাছ চাষ করায় এসব খালে আর পানি প্রবাহ নেই। মাঝে জিয়া খাল কিছুটা সচল থাকলেও শুস্ক মৌসুমের আগেই শুকিয়ে যায়। কার্যত এই খাল কৃষকের তেমন কোন উপকারেই আসে না।

নলডাঙ্গা উপজেলায় কর্মরত কৃষি অফিসার আমিরুল ইসলাম বাংলানিউজকে জানান, জলাবদ্ধতার কারনে বোরো চাষ কিছুটা বিলম্বিত হওয়ার আশঙ্কা ছিল। তাতে কৃষকের কোন ক্ষতি হতো না। কারন এখনও বোরো চাষের অনেক সময় আছে। তিনি বলেন, হালতি বিলে দুই থেকে আড়াইশো হেক্টর জমিতে জলবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *