নাটোরে নিজেরাই খাল কেটে দুর করলেন জলাবদ্ধতা

প্রকাশিত:বুধবার, ২৬ আগ ২০২০ ০২:০৮

নাটোরে নিজেরাই খাল কেটে দুর করলেন জলাবদ্ধতা

নাটোর প্রতিনিধি
লালপুরের বসন্তপুর বিল পুকুর কেটে খালের মুখ বন্ধ করে দেয়ায় তৈরি হয়েছিল জলবদ্ধতার। দীর্ঘ দিনেও এ সমস্যার সমাধান না হওয়ায় মত শত জনগণ নিজেরাই খাল কেটে দুর করলেন জলাবদ্ধতার। ২৪ আগস্ট সারা দিন লালপুরের দুড়দুড়িয়া ইউনিয়নের বসন্তপুর বিলের সারাদিন কোদাল নিয়ে হাজার-হাজার জনতা প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টিকারী পুকুরের পাড় কেটে পানি নিষ্কাষনের ব্যবস্থা করেছে। এতে সাময়িকভাবে জলাবদ্ধতা নিরসনের সম্ভাবনা থাকলেও, স্থায়ীভাবে জলাবদ্ধতা নিরসনের ক্ষেত্রে রয়েছে সংশয়।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বসন্তপুরের খাল বন্ধ করে পুকুর কাটার ফলে বৃষ্টির পানি জমে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়। ভোগান্তিতে পড়ে দুড়দুড়িয়া ইউনিয়নের কয়েক হাজার মানুষ। অনেকের বাড়ি ঘরে পানি ঢুকে পড়ে। বার বার খাল পুনঃ খননের জন্য কমিটি গঠন করা হলেও বিলম্বিত হয় কতিপয় পুকুর মালিকের কারণে। গত ২৭ জুলাই পানিবন্দী মানুষদের দেখতে সরেজমিন পরিদর্শনে যান নাটোর-১ আসনের সংসদ সদস্য শহিদুল ইসলাম বকুল । তিনি ২ দিনের মধ্যে খাল দখলকারী পুকুর মালিকদের মাছ তুলে নিয়ে পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থার নির্দেশ দেন। সাংসদের নির্দেশনা বাস্তবায়নের জন্য দুড়দুড়িয়া ইউনিয়নের বর্তমান চেয়ারম্যান আব্দুল হান্নান ও সাবেক চেয়ারম্যান আজিজুল আলম মক্কেল কে দায়িত্ব দেন তিনি। কিন্তু সাবেক চেয়ারম্যান আজিজুল আলম মক্কেল নিজের পুকুর রক্ষায় খাল না কেটে বাচাতে খাল সংষ্কার না করে রাস্তা খননে মনোনিবেশ করেন। ফলে ভেস্তে যায় মহতি এ উদ্যোগ। পরবর্তীতে স্থানীয় সাংসদের ২ জন প্রতিনিধি, ৫ জন পুকুর মালিক ও এলাকার ৫ জন গন্যমান্য ব্যক্তি নিয়ে ১২ সদস্য বিশিষ্ট আরেকটি কমিটি করা হয়। সেখানেও সাবেক চেয়ারম্যান ও তার দু ছেলের পুকুর বাচানোর চেষ্টায় পানি নিষ্কাশন প্রক্রিয়া ভন্ডুল হয়ে যায়। এ অবস্থায় গত (১৩ আগস্ট) দুপুরে নিজ বাড়ির আঙ্গিনায় জমে থাকা পানিতে ডুবে মারা যায় মনিহারপুর গ্রামের মুন্নার ৫ বছরেরশিশু কন্যা মুন্নী (৫)।এতে টনক নড়ে প্রশাসনের। ফলে নকশা অনুযায়ী খাল কেটে পানি নিষ্কাশনের জন্য রোববার (২৩ আগস্ট) মাইকিংয়ের ব্যবস্থা করেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার উম্মুল বানীন দ্যুতি। নির্বাহী অফিসারের ডাকে সাড়া দিয়ে হাজারো জনতা তার উপস্থিতিতে পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা করেন। এ সময় উপস্থিত লোকজন জানান, আপাতত পানি নিস্কাশনের ব্যবস্থা হলেও স্থায়ী সমাধানের বিষয়ে সংশয় প্রকাশ করেন। তারা বলেন, সরকারীভাবে খাল খনন এবং দীর্ঘ মেয়াদী তদারকির ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য প্রশাসনের সহায়তা কামনা করেন স্থানীয় লোকজন ।
এ ব্যাপারে লালপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার উম্মুল বানীন দ্যুতি জানান, আগামী শুকনো মৌসুমে খালটি পুনঃ খননের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।

এই সংবাদটি 1,230 বার পড়া হয়েছে

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন।
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •