নিউইয়র্কের নর্থ ব্রঙ্কস ইসলামিক সেন্টার অ্যান্ড জামে মসজিদে জশনে ঈদ-ই-মিলাদুন্নবী মাহফিল

প্রকাশিত:রবিবার, ০১ নভে ২০২০ ০৭:১১

নিউইয়র্কের নর্থ ব্রঙ্কস ইসলামিক সেন্টার অ্যান্ড জামে মসজিদে জশনে ঈদ-ই-মিলাদুন্নবী মাহফিল

নিউইয়র্কের নর্থ ব্রঙ্কস ইসলামিক সেন্টার অ্যান্ড জামে মসজিদে গত ২৯ অক্টোবর বৃহস্পতিবার জশনে ঈদ-ই-মিলাদুন্নবী মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাত ইউএসএ এবং নর্থ ব্রঙ্কস ইসলামিক সেন্টার অ্যান্ড জামে মসজিদ ইনকের উদ্যোগে যথাযথ ধর্মীয় মর্যাদায় মাগরিব থেকে রাত ১০ টা পর্যন্ত এ মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়।
আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাত ইউএসএর সভাপতি আল্লমা সৈয়দ জুবায়ের আহমদের সভাপতিত্বে এবং আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাত ইউএসএর প্রচার সম্পাদক মাওলানা শেখ মোস্তফা কামালের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন আন্তর্জাতিক খ্যাতি সম্পন্ন ইসলামিক চিন্তাবিদ আল্লামা মুফতি সৈয়দ আনসারুল করিম আল আজহারী। না’ত খাঁ পরিবেশন করেন শায়ের মুহাম্মদ শাখের আশরাফী কাদেরী।

শুরুতেই পবিত্র কোরআনুল কারীম থেকে তেলাওয়াত করেন মোহাম্মদ হানিফ এবং নাতে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম পরিবেশন করেন সৈয়দ আব্দুল মতিন, মোঃ নুরুল আমিন মুকুল, আতাউর রহমান, রহমান শাহ আলম, মুহাম্মদ শাহ আলম প্রমুখ।
শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাত ইউএসএর মহাসচিব আলহাজ্ব মুহাম্মদ সেলিম উদ্দিন, নর্থ ব্রঙ্কস ইসলামিক সেন্টারের সভাপতি আলহাজ্ব সৈয়দ জামিন আলী, নর্থ ব্রঙ্কস ইসলামিক সেন্টারের সেক্রেটারী আলহাজ্ব মোহাম্মদ ইকবাল হোসাইন। বক্তব্য রাখেন আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাত ইউএসএর সিনিয়র সহ-সভাপতি মাওলানা আতাউর রহমান, সহ-সভাপতি আলহাজ আসলাম হাবিব, সাংগঠনিক সম্পাদক মুরাদুল আলম চৌধুরী, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক মুহাম্মদ ইউসুফ আলী, অর্থ সম্পাদক আরিফ চৌধুরী, শিক্ষা ও সাংস্কৃতিক সম্পাদক মুহাম্মদ মাহাবুবুর রহমান, তথ্য বিষয়ক সম্পাদক মুহাম্মদ শাহ আলম, প্রযুক্তি ও গবেষণা বিষয়ক সম্পাদক মুহাম্মদ উসমান গণি তালুকদার শামীম, নর্থ ব্রঙ্কস ইসলামিক সেন্টারের এসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারি শাহ জাকারিয়া, কোষাধ্যক্ষ মোহাম্মদ মাহবুব হোসাইন, সৈয়দ বশারত আলী, সৈয়দ রাহুল ইসলাম, বদরুল হক প্রমুখ।

জশনে ঈদে মিলাদুন্নবী মাহফিলে আলোচকবৃন্দ বলেন, মহান আল্লাহ তায়ালা প্রিয় নবী মুহাম্মাদুর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে শান্তি, মুক্তি, প্রগতি ও সামগ্রিক কল্যাণে বিশ্ববাসীর জন্যে রহমত হিসেবে প্রেরণ করেন। হযরত মুহম্মদ (স) ছিলেন শান্তি, নিরাপত্তা ও কল্যাণের মূর্ত প্রতীক ‘রাহমাতুল্লিল আলামিন’। বক্তারা বলেন, দল-মত-গোত্র নির্বিশেষে আরবের জাতি-ধর্ম-বর্ণ সবার মধ্যে শান্তি চুক্তি ও সন্ধি স্থাপনের মধ্য দিয়ে ভ্রাতৃত্বের বন্ধনে আবদ্ধ করে মহানবী (সা.) সন্ত্রাসমুক্ত শান্তিপূর্ণ সমাজ প্রতিষ্ঠা করেন। অথচ ফ্রান্স আমাদের প্রিয় নবী হযরত মুহম্মদ (সা.) কে নিয়ে ব্যঙ্গ করার দু:সাহস দেখিয়েছে। বক্তারা ফ্রান্সের এমন ঘৃণ্য কর্মের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে তাদের পণ্য বয়কট করার জন্য মুসলিম উম্মাহর প্রতি উদাত্ত আহ্বান জানান।

সভাপতির বক্তব্যে আল্লামা জুবায়ের আহমদ বলেন, আজ আমরা প্রিয়নবী হযরত মুহম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ভালবাসা এবং আদর্শ থেকে বিচ্যূত হওয়ার কারণে মুসলমানদের বিরুদ্ধে গভীর ষড়যন্ত্র চলছে। তারই অংশ হিসেবে ফ্রান্সে প্রিয়নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে নিয়ে ব্যঙ্গ করা হচ্ছে। আমরা এর তীব্র নিন্দা জানাই। তিনি বলেন, এভাবে বিভিন্ন সময় বিভিন্ন দেশ জাতি প্রিয়নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এবং মুসলমানদের ঈমান আক্বিদার বিরুদ্ধে আরও গভীর ষড়যন্ত্র চালাবে। তাই এ সমস্ত ষড়যন্ত্র মোকাবেলা করতে মুসলিম মিল্লাতকে প্রিয় নবীজির প্রতি অকৃত্রিম ভালবাসা বৃদ্ধি এবং তার প্রতি পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে আনুগত্য করতে হবে। আর মহান আল্লাহ তায়ালা কুরআনুল কারীমে একথাই নির্দেশ করেছেন যে, হে হাবীব আপনি আপনার উম্মতদেরকে বলে দিন তোমরা যদি আল্লাহকে ভালবাসতে চাও তাহলে আমার আনুগত্য কর।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে বিশিষ্ট ইসলামী চিন্তাবিদ আল্লামা মুফতি সৈয়দ আনসারুল করিম আল আজহারী মানব জীবনের চলার পথে ঈমান, আকিদা, দৈনন্দিন জীবনে ইসলামের নির্দেশনা সম্পর্কে সারগর্ভ আলোচনা কওে বলেন, রাছুলে আকরাম (দ:) আমাদের জন্য দু’টি জিনিস রেখে গেছেন। আল কোরআন এবং আল ছুন্নাহ ও তাঁর আহলে বায়াত। তিনি বলেন, হযরত মোহাম্মদ (সাঃ) এর পর আর কোনো নবী আসবে না। কুরআন হাদিসের নির্দেশিত পথে চলার মাধ্যমেই ইহকালীন কল্যাণ ও পরকালীন শান্তি লাভ সম্ভব।
শেষে সকলের সুখ শান্তি এবং সুস্বাস্থ্য কামনা করে আখেরি মোনাজাতের মাধ্যমে পবিত্র জশনে ঈদে মিলাদুন্নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মাহফিলের সমাপ্তি ঘোষণা করা হয়। আল্লমা সৈয়দ জুবায়ের আহমদ মোনাজাত পরিচালনা করেন। মোনাজোতে করোনভাইরাসে শহীদদের আত্মার মাগফিরাত, আক্রান্তদের সুস্থতা এবং বিশ্বকে মারাত্মক এই ভাইরাস থেকে নিরাপদ রাখার জন্য আল্লাহর রহমত কামনা করা হয়। স্বাস্থ্যবিধি মেনে বিপুল সংখ্যক মুসল্লী এ মাহফিলে যোগ দেন। সবশেষে তাবারক বিতরণ করা হয়।

এই সংবাদটি 1,238 বার পড়া হয়েছে

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন।
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ