নিউইয়র্কের পাবলিক স্কুলে হালাল ফুড দেয়ার সিদ্ধান্ত

নিউইয়র্ক : নিউইয়র্ক সিটির পাবলিক স্কুলে হালাল ফুড দেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে কর্তপক্ষ। নিউইয়র্ক সিটি পাবলিক স্কুলের ছাত্র-ছাত্রীদের মধ্যে হালাল এবং কোশার খাবার বিতরণের প্রস্তাব বিবেচনা করার জন্য সিটি কাউন্সিল স্পীকার করী জনসনের নিকট কংগ্রেসউম্যান গ্রেস মেংয়ের অনুরোধের পেক্ষিতে কতৃপক্ষ এ সিদ্ধান্ত নেয়। নিউইয়র্কের কুইন্স থেকে নির্বাচিত কংগ্রেসউম্যান গ্রেস মেং গত ৭ জুন সিটি স্কুল সমূহে হালাল ও কোশার ফুড পরিবেশনের লক্ষ্যে বাড়তি অর্থ বাজেটে বরাদ্দ দেয়ার প্রস্তাব দেন। চিঠিতে তিনি লেখেন, আমার নির্বাচনী এলাকার অনেক স্কুল ডিস্ট্রিক্টের ছাত্রছাত্রীদের এটা একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ দাবি। গ্রেস মেং-এর চিঠি পেয়ে সিটি কাউন্সিল স্পিকার তাৎক্ষনিকভাবে তার প্রস্তাবে রাজি হয়ে পাইলট প্রোগ্রাম হিসেবে হালাল ও কোশার ফুড পরিবেশনের ঘোষনা দেন এবং নিউইয়র্ক সিটি কম্পট্রলার স্কট স্ট্রিংগার স্পিকারের সাথে সহমর্মিতা ঘোষণা করে এই খাতে ১ মিলিয়ন ডলার বরাদ্দ দেন।

৭ জুন লিখিত এ চিঠিতে কংগ্রেসউম্যান গ্রেস মেং বলেন, আমার নির্বাচনী এলাকার বৃহত্তর জনগোষ্ঠী এবং সমগ্র নিউইয়র্ক সিটির বাসিন্দাদের নিকট হালাল খাবার অত্যন্ত অগ্রাধিকার ভিত্তিক ইস্যু। সমগ্র আমেরিকার মধ্যে নিউইয়র্ক সিটি স্কুল ব্যবস্থাপনা সর্ববৃহৎ এবং বিচিত্র জনগোষ্ঠী ভিত্তিক স্কুল সিস্টেম। ছাত্র-ছাত্রীদের বিভিন্ন চাহিদার সাথে মিল রেখে বিদ্যালয়ের লাঞ্চ কর্মসূচিতে সম্ভাব্য সকল ধরনের খাবারের সন্নিবেশ ঘটানো নিশ্চিত করতে আমাদের অবশ্যই যথাসাধ্য কাজ করা উচিত।

তিনি বলেন, নিউইয়র্ক সিটি বিদ্যালয়ের ছাত্র-ছাত্রীদের মধ্যে বিনা পয়সায় খাবার বিতরণ করে। অথচ হালাল বা কোশের সার্টিফাইড না হওয়ায় সিটির উল্লেখযোগ্য শিক্ষার্থী এ সকল খাবার খেতে পারেনা। ফেডারেল পর্যায়ে খাবারে পরিবর্তন আনয়নের জন আমি বেশ কয়েক বছর দরে সংগ্রাম করে আসছি। আমি বিশ্বাস করি বিদ্যালয়ে হালাল খাবার সরবরাহ চালু করে নিউইয়র্ক সিটি স্কুল জাতীয় পর্যায়ে পরিবর্তনের মডেল হতে পারে। পত্রে মেং আরো বলেন, আমি আশাকরি যে, হালাল এবং কোশের অন্তর্ভূক্তির মাধ্যমে আপনি নিউইয়র্ক সিটি স্কুল লাঞ্চ কর্মসূচি হালনাগাদকরণের বিষয়টি বিবেচনা করবেন।

উল্লেখ্য, নিউইয়র্ক সিটির পাবলিক স্কুল সমূহে হালাল ফুড পরিবেশনের দাবিতে আশির দশক থেকে মুসলিম কম্যুনিটি আন্দোলন করে আসছে। এর মধ্যে বাংলাদেশীরা অন্যতম। এর আগে বিভিন্ন সময়ে মেয়রসহ কম্পট্রলার স্পিকার কাউন্সিল সদস্যরা জানিয়েছেন বিষয়টি নিয়ে তারা কাজ করছেন। কিন্তু কংগ্রেসউম্যান গ্রেস মেং এর চিঠি পেয়ে স্পিকার কোরি জনসন এবং কম্পট্রলার স্কট স্ট্রিংগার এই প্রথম পাইলট প্রোগ্রামের সূচনা করলেন।

কম্পট্রলার স্কট স্ট্রিংগার বলেন, মুসলিম এবং জুইশ কম্যুনিটির এই অত্যন্ত জরুরি দাবিটি পূরণের লক্ষ্যে আমি দীর্ঘদিন ধরে কাজ করে যাচ্ছি। গত মাসেই জুইশ এবং মুসলিম নেতৃবৃন্দসহ বিভিন্ন কম্যুনিটির নেতাদের সাথে আমার অফিসে আয়োজিত এক কনফারেন্সে হালাল এবং কোশার লাঞ্চ বাস্তবায়নের বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করি। আমি মনে করি, সঠিক খাদ্য গ্রহণ ছাড়া একজন শিক্ষার্থি কোনোভাবেই ক্লাস রুমে পড়াশোনায় মননিবেশ করতে পারে না। এই পাইলট কর্মসূচিটি অচিরেই স্থায়ী করার জন্য আমার চেষ্টা অব্যাহত থাকবে।

পাইলট প্রোগ্রাম চালু হওয়ায় গ্রেস মেং, স্পিকার এবং কম্পট্রলারকে ধন্যবাদ জানিয়ে বিবৃতি দিয়েছেন বাংলাদেশ কম্যুনিটির দুই একটিভিষ্ট সালেহ আহমেদ ও মাজেদা উদ্দিন। মাজেদা উদ্দিন তার ৩০ বছরের আন্দোলন আলোর মুখ দেখলো বলে নিজ টুইটারে লেখেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published.