নিউইয়র্কে অসুস্থ মিডিয়া কর্মী শিবলীর চিকিৎসা তহবিল গঠনে অনুষ্ঠান

নিউইয়র্ক : উদ্দীপনা জাগানোর আমেরিকান সংগীত ‘ফিলিং গুড’ পরিবেশনের মধ্য দিয়ে শুরু অনুষ্ঠানে আরো কয়েকজন শিশু-কিশোর ‘গেট ওয়েল সুন’ লেখা পোস্টার হাতে মঞ্চে উঠলো এবং এভাবেই গোটা পরিবেশ অন্যরকম এক আবহ পেল। অসুস্থ মিডিয়া কর্মী মীর ই ওয়াজিদ শিবলীর চিকিৎসা তহবিল গঠনের জন্যে গত রোববার রাতের এ অনুষ্ঠানটি সর্বস্তরের প্রবাসীর সহানুভ’তির কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়। প্রায় ৩ দশক যাবত যে মানুষটির সান্নিধ্য পেয়েছেন প্রবাসীরা, স্বল্পভাষী সেই শিবলীর জন্যে সকলের মধ্যেই বিশেষ এক সহমর্মিতা জাগ্রত হয়েছিল।

 

 

নিউইয়র্কস্থ বাংলা টিভির মহাপরিচালক মীর শিবলীর দুটি কিডনিই অচল হয়ে পড়েছে। শীঘ্রই তা প্রতিস্থাপনের বিকল্প নেই। যুক্তরাষ্ট্রের হাসপাতালে কিডনি প্রতিস্থাপনের সিরিয়াল পেতে জটিল থেকে জটিলতর রূপ ধারন করতে পারে আশংকায় বাংলাদেশের স্বজনেরা এগিয়ে এসেছেন। কিডনি ম্যাচও করেছে। তবে ঢাকা হয়ে ভারতে গিয়ে তা প্রতিস্থাপনে বিরাট অংকের টাকা দরকার। এজন্যেই শিবলীর ঘনিষ্ঠজনেরা প্রবাসীদের প্রতি আকুতি রেখেছিলেন। এটি ছিল কঠিন একটি প্রক্রিয়া। কতটা সম্ভব হবে তহবিলের কাছাকাছি পৌঁছানো-সে শংকাতো ছিলই। যদিও বাস্তবে সবকিছু অমূলক বলে প্রতিয়মান হয়েছে। প্রত্যাশার একেবারেই কাছাকাছি অর্থ পাওয়া গেছে বলে উদ্যোক্তারা জানিয়েছেন। যারাই এ আহবানে সাড়া দিয়ে অনুষ্ঠানে এসেছিলেন তারা সকলেই নগদ অথবা চেক প্রদান করেছেন। আর এ অভিযাত্রার সূচনা ঘটেছিল প্রবাসের জনপ্রিয় বাউল শিল্পী, চিত্রশিল্পী এবং মুক্তিযোদ্ধা তাজুল ইমামের ভিন্ন রকমের এক আবেদনে। তিনি একটি চমৎকার ছবি এঁকে তা ফেসবুকে বিক্রির ঘোষণা দেন। ছবি বিক্রির সমুদয় অর্থ প্রদান করবেন শিবলীর চিকিৎসা-তহবিলে।

 

এ আহবানে সাড়া দেন প্রবাসের আরেক সমাজহিতৈষী ইঞ্জিনিয়ার আবু হানিপ। মার্কিন আইটি সেক্টরে চাকরির উপযোগী কোর্স প্রদানের মাধ্যমে আটলান্টিকের উভয় পাড়ে সমধিক জনপ্রিয়তা অর্জনকারি ‘পিপল এন টেক ইন্সটিটিউট’র প্রধান নির্বাহী আবু হানিপ তা ৫০০ ডলারে ক্রয় করেন। অনুষ্ঠানের মঞ্চেই ছিল ছবিটি। সেটি নিতে এসে আবু হানিপ আরো ৩ হাজার ডলার দিয়েছেন চিকিৎসা তহবিলে। শুধু তাই নয়, তার এক ঘনিষ্ঠজন এসেছেন ঢাকা থেকে। ঢাকার আহসান গ্রুপের পরিচালক এ কে এম শফিকুল ইসলামকেও সাথে এনেছিলেন। তিনিও শিবলীর জন্যে ৫০০ ডলার দিয়েছেন। এভাবেই তহবিল বেড়েছে। রাহাত নামে আরেক সমাজকর্মী ৫ হাজার ডলার দিয়েছেন। গভীর রাতে তা ৫২ হাজারে উন্নীত হয়েছে। আর এভাবেই ‘বন্ধুর তরে বন্ধু মোরা’ আয়োজনটি সফলতার কাছাকাছি এসেছে।

 

‘বার্ডস ফ্লাইং হাই-ইউ নো হাউ আই ফীল’ গানটি পরিবেশন করেছে মূলধারায় ইতিমধ্যেই জনপ্রিয়তা অর্জনকারি শিশু শিল্পী রাহমী খান। এরপর এনটিভির সাংবাদিক-ভাষ্যকার আবির আলমগীরের সঞ্চালনায় দেশ ও প্রবাসের সেরা শিল্পীরা গানে গানে আপ্লুত করেন আগত সকলকে। শিবলীর জন্যে এসব শিল্পীর অকৃত্রিম ভালবাসার বহি:প্রকাশ ঘটেছে। এর অন্যতম ছিলেন কন্ঠযোদ্ধা রথীন্দ্রনাথ রায় ও শহীদ হাসান, রিজিয়া পারভিন, এস আই টুটুল, কৃষ্ণা তিথি, শাহ মাহবুব, কামরুজ্জামান, মৌ, রানো নেওয়াজ প্রমুখ।

 

একদিকে গান অপরদিকে বিভিন্ন ব্যক্তি ও সংগঠনের পক্ষ থেকে তহবিলে চেক প্রদানের লাইন। পাশাপাশি মঞ্চে উঠে শিবলীর জন্যে সহানুভূতি প্রদর্শন। ইঞ্জিনিয়ার হানিপ বলেছেন, ফেসবুকে ঐ ছবিটি আমার দৃষ্টি কাড়ে মানবিকতার প্রশ্নে। আমি সেটি আরো বেশী মানুষকে অনুপ্রাণীত করতে কৌশল নেই। অনুষ্ঠানে তার প্রতিচ্ছবি দেখলাম। যে মানুষটি প্রায় ৩০ বছর কম্যুনিটিকে সেবা দিয়েছেন তার মিডিয়ার মাধ্যমে, যে মিডিয়ার কারণে আজ অনেকে নিজ নিজ সেক্টরে প্রতিষ্ঠার উৎসাহ পেয়েছেন, সেই মানুষটির প্রতি সকলেই দরদি-এটি বলার অপেক্ষা রাখে না।

 

বাংলাদেশ সোসাইটি, জালালাবাদ সোসাইটি, চট্টগ্রাম সমিতি, জেবিবিএসহ বিভিন্ন সামাজিক-সাংস্কৃতিক-আঞ্চলিক-পেশাজীবী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ মঞ্চে উঠে তাদের দরদি হৃদয়ের পরিচয় দিয়েছেন। শিবলীর জন্যে নিবেদিত এ কনসার্টে ঝাল-মুড়ি এবং চা-পানির ব্যবস্থা ছিল। এগুলো বিক্রির সমুদয় অর্থ প্রদান করা হয় চিকিৎসা তহবিলে। এভাবেই ‘বন্ধুর তরে বন্ধু মোরা’ আয়োজনটি এক অনন্য উদাহরণে পরিণত হলো। অসুস্থ শিবলীর পাশে দাঁড়ানোর জন্যে প্রবাসীদের প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা জানিয়েছে ‘আমেরিকা-বাংলাদেশ প্রেসক্লাব’। উল্লেখ্য, শিবলী হচ্ছেন পেশাজীবী সাংবাদিকদের এই ক্লাবের ভাইস প্রেসিডেন্ট। তার আরোগ্যে প্রবাসীদের দোয়া চেয়েছে প্রেসক্লাব।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *