নিউইয়র্কে জাতিসংঘে বিদায়ী স্থায়ী প্রতিনিধি ও রাষ্ট্রদূত মাসুদ বিন মোমেনকে গণসংবর্ধনা

প্রকাশিত:রবিবার, ২৪ নভে ২০১৯ ১০:১১

নিউইয়র্কে জাতিসংঘে বিদায়ী স্থায়ী প্রতিনিধি ও রাষ্ট্রদূত মাসুদ বিন মোমেনকে গণসংবর্ধনা

নিউইয়র্ক : বাংলাদেশের পররাষ্ট্র সচিব হিসেবে পদোন্নতি পেয়ে শুক্রবার ঢাকার উদ্দেশ্যে জেএফকে ত্যাগ করেছেন জাতিসংঘে স্থায়ী প্রতিনিধি ও রাষ্ট্রদূত মাসুদ বিন মোমেন।

তবে তার আগে ২১ নভেম্বর বৃহস্পতিবার রাতে বিদায়ী রাষ্ট্রদূত মাসুদ বিন মোমেনকে গণসংবর্ধনা দেওয়া হয়। কুইন্সে ‘আলী বাবা’ রেস্টুরেন্টের মিলনায়তনে ‘বাংলাদেশী আমেরিকান কমিউনিটি’র ব্যানারে এক সমাবেশে রাষ্ট্রদূত মাসুদকে ফুলেল শুভেচ্ছার পাশাপাশি তার প্রিয় ব্যাডমিন্টনের সবচেয়ে দামী একটি র‌্যাকেট উপহার দেন পিপল এন টেকের সিইও ইঞ্জিনিয়ার আবু হানিপ। আয়োজকদের পক্ষ থেকে রাষ্ট্রদূত মাসুদের স্ত্রী সোমা ফাহমিদাকে উত্তরীয় পড়িয়ে দেয়া হয়। প্রবাসীরা শ্রদ্ধাঞ্জলি আর ভালোবাসার প্রকাশ হিসেবে এই কূটনীতিক দম্পতির উত্তরোত্তর সমৃদ্ধি কামনাও করেন।

সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন হোস্ট সংগঠনের প্রধান ফখরুল ইসলাম দেলোয়ার এবং সদস্য-সচিব ইফজাল চৌধুরীর সমন্বয়ে সঞ্চালনা করেন মিসবাউজ্জামান। মঞ্চে উপবেশন ও শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন নিউইয়র্কে বাংলাদেশের কন্সাল জেনারেল সাদিয়া ফয়জুননেসা, প্রবাসের খ্যাতনামা সমাজকর্মী-শিল্পপতি জহিরুল ইসলাম, কমিউনিটি লিডার শেলী এ মুবদি, মার্কিন আইটি সেক্টরে উদ্যমী প্রবাসীদের চাকরির ক্ষেত্রে

সহায়তাকারি ‘পিপল এন টেক’র প্রতিষ্ঠাতা-সিইও প্রকৌশলী আবু হানিপ, খান্স টিউটোরিয়ালের চেয়ারপার্সন নাঈমা খান, নিউইয়র্ক মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি জাকারিয়া চৌধুরী, যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাতা সাধারণ সম্পাদক এম এ সালাম, আবাসন ব্যবসায়ী হিসেবে বেশ ক’দফা পুরস্কার পাওয়া সমাজকর্মী মোর্শেদা জামান, বাংলাদেশ সোসাইটির নির্বাচনে সভাপতি প্রার্থী কাজী নয়ন, ফোবানার সাবেক সভাপতি বেদারুল ইসলাম বাবলা প্রমুখ। রাষ্ট্রদূতের বিদায় উপলক্ষে স্বরচিত কবিতা পাঠ করেন রেজাউল করিম চৌধুরী।

বিশিষ্টজনদের মধ্যে আরো ছিলেন আব্দুল হাই জিয়া, শামসুল আলম চৌধুরী, আব্দুর রহিম বাদশা, মিসবাহ আহমেদ, কৃষিবিদ আশরাফুজ্জামান, জাহাঙ্গীর হোসেন, মোজাহিদুল ইসলাম, এম এ মুহিত, শাহীন আজমল, কমিউনিটি বোর্ড মেম্বার নূরল হক, আহসান হাবিব, যুবলীগের জামাল হোসেন প্রমুখ।

এ সময় ৪ বছর দায়িত্ব পালনকালে সকলের সহায়তার কথা স্মরণ করেন বিদায়ী রাষ্ট্রদূত মাসুদ এবং অনুরোধ জানান, একাত্তরের ২৫ মার্চকে আন্তর্জাতিক গণহত্যা দিবস হিসেবে স্বীকৃতির যে চেষ্টা জাতিসংঘে বিদ্যমান রয়েছে, তা আদায়ের জন্যে প্রবাসীদেরকেও সোচ্চার থাকতে হবে। রোহিঙ্গা ইস্যুতে মিয়ানমারের আচরণের বিরুদ্ধেও আন্তর্জাতিক বন্ধুদের সরব রাখতে হবে। এজন্যে মাঝেমধ্যেই সভা-সেমিনার-সিম্পোজিয়াম-কনসার্টের ব্যবস্থা করতে হবে। মিয়ানমারের অপকর্মে লিপ্তরা যাতে কোন পর্যায়েই মাথা উঁচু করে কথা বলার সাহস না দেখাতে পারে সেজন্যে আন্তর্জাতিক জনমত জোরদার করতে হবে।

শুরুতে রাষ্ট্রদূত মাসুদের সুন্দর ভবিষ্যত এবং সুস্বাস্থ্য কামনায় বিশেষ মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয় মাওলানা সাইফুল আলম সিদ্দিকীর নেতৃত্বে। এ ছাড়াও ত্রিপিটক ও বাইবেল পাঠ করেন স্বীকৃতি বড়ুয়া এবং টমাস দুলু রায়। রাষ্ট্রদূত মাসুদের বদলিসহ পদোন্নতির সংবাদে সর্বপ্রথম নিউইয়র্কে নাগরিক সংবর্ধনা সমাবেশের আয়োজন করেছিল ‘যুক্তরাষ্ট্র সেক্টর কমান্ডারস ফোরাম’ এবং ‘যুক্তরাষ্ট্র বঙ্গবন্ধু ফাউন্ডেশন’। এরপর বেশ কটি সংবর্ধনা সমাবেশ হয়েছে নিউইয়র্কে।

উল্লেখ্য, রাষ্ট্রদূত মাসুদ বিন মোমেন ৪ বছর আগে টোকিও থেকে বদলি হয়ে নিউইয়র্কে এই দায়িত্বে এসেছিলেন। তার আগে দায়িত্ব পালনকারী স্থায়ী প্রতিনিধি ও রাষ্ট্রদূত ড. এ কে এ মোমেনকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সিলেটের এমপি এবং বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বানিয়েছেন। এদিকে রাষ্ট্রদূত মাসুদের স্থলে যোগদানের জন্যে টোকিও থেকে আসছেন রাষ্ট্রদূত রাবাব ফাতিমা। এনআরবি নিউজ

 

মিডিয়ার প্রতি কৃতজ্ঞতা

 

সউদি আরবে ওমরাহ হজ্ব পালন শেষে ২৯ নভেম্বর ঢাকায় অবতরণের প্রত্যাশায় ২২ নভেম্বর শুক্রবার রাতে জেএফকে ত্যাগের প্রাক্কালে নিউইয়র্কে গণমাধ্যমকর্মীগণকে কৃতজ্ঞতা-জ্ঞাপনের এক বিবৃতিতে রাষ্ট্রদূত মাসুদ বলেছেন, সুদীর্ঘ এই সময়ে জাতিসংঘের মতো বহুপাক্ষিক কূটনৈতিক প্লাটফর্ম ও আন্তর্জাতিক পরিমন্ডলে বাংলাদেশকে উচ্চকিত করার প্রতিটি প্রয়াসে আপনাদেরকে পেয়েছি নিরলস কর্মী হিসেবে। এ সময়ের সকল সঙ্কট, সম্ভাবনা ও সাফল্যে আপনারা সারাক্ষণই বাংলাদেশ স্থায়ী মিশনের পাশে ছিলেন অকৃত্রিম বন্ধুর মত। আজ আমি যদি পিছন ফিরে দেখতে চাই, তাহলে দেখতে পাবো রোহিঙ্গা সঙ্কটে আপনাদের কলম সবসময়ই শানিত থেকেছে। জাতিসংঘে বাংলাদেশের প্রতিটি সম্ভাবনা ও সাফল্যে আপনারাও সমানভাবে আনন্দিত হয়েছেন যার উচ্ছ¡সিত প্রকাশ ঘটেছে আপনাদের পত্রিকার পাতায়, টেলিভিশনের স্ক্রীনে, অনলাইন পোর্টালে এবং ফেসবুক, ইউটিউবসহ সকল স্যোসাল মিডিয়ায়।

 

লিখিত এ বিবৃতিতে মাসুদ উল্লেখ করেছেন, স্বল্পোন্নত দেশের কাতার হতে উন্নয়নশীল দেশের কাতারে বাংলাদেশের উত্তরণ; এসডিজি বাস্তবায়ন ও এইচএলপিএফ; জাতিসংঘে বাংলাদেশের শান্তিরক্ষা কার্যক্রমের অব্যাহত অগ্রযাত্রা ও এর ৩০ বছর পূর্তি; হিউম্যান রাইটস্ কাউন্সিল, সিএসডবিøউ, ইউনিসেফ, ইউএন উইমেন, ইকোসকসহ জাতিসংঘের নির্বাচনসমূহে বাংলাদেশের জয়লাভ; শান্তির সংস্কৃতি রেজুলেশনের ২০ বছর পূর্তি; শান্তি বিনির্মাণ, সহিংসতা প্রতিরোধ, সন্ত্রাস ও সহিংস উগ্রবাদ দমন ও বৈশ্বিক নিরাপত্তা; অভিবাসন ও গেøাবাল মাইগ্রেশন কম্প্যাক্ট; জনস্বাস্থ্য; বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি; জলবায়ু পরিবর্তন ও এর প্রভাব মোকাবিলা; সুনীল অর্থনীতি ও সমুদ্র সম্পদ; একাত্তুরের মানবতাবিরোধী গণহত্যার আন্তর্জাতিকীকরণসহ সাধারণ পরিষদ, অর্থনৈতিক ও সামাজিক পরিষদ এবং নিরাপত্তা পরিষদের প্রতিটি কার্যক্রমে বাংলাদেশের অংশগ্রহণ ও সাফল্য স্ব স্ব মিডিয়ার মাধ্যমে দেশবাসীকে জানাতে আপনারা প্রশংসনীয় ভূমিকা রেখেছেন। বিশেষ করে জাতিসংঘে বাংলাদেশ সংশ্লিষ্ট গুরুত্বপূর্ণ ইভেন্টসমূহের তথ্য সংগ্রহের জন্য এসকল অনুষ্ঠানে যোগদান এবং সংবাদের পরিপূর্ণতার স্বার্থে কখনও তীব্র শীত উপেক্ষা করে জাতিসংঘ ভবনের সামনে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধির সরাসরি মন্তব্য গ্রহণের জন্য অপেক্ষা আপনাদের পেশাদারিত্ব ও দেশপ্রেমেরই বহি:প্রকাশ।

এই সংবাদটি 1,225 বার পড়া হয়েছে

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন।
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •