Fri. Aug 23rd, 2019

BANGLANEWSUS.COM

-ONLINE PORTAL

নিউইয়র্ক বাংলাদেশ প্রেসক্লাবের সভায় রিয়াজউদ্দিন আহমেদ,বর্তমানে নতুন করে চ্যালেঞ্জের মুখে পড়ছে সাংবাদিকতা।

1 min read

বিশিষ্ট সাংবাদিক, ঢাকাস্থ জাতীয় প্রেসক্লাব ও বাংলাদেশ ফেডালের সাংবাদিক ইউনিয়ন (বিএফইউজে)-এর সাবেক সভাপতি রিয়াজ উদ্দিন আহমেদ বলেছেন, সাংবাদিকতা কখনোই মসৃণ পথে এগুয়নি, এখনো না, ভবিষ্যতেও এগুবে না। নানা বাধা-বিপত্তির মধ্যদিয়েই সাংবাদিকদের দায়িত্ব পালন করতে হবে, এগিয়ে যেতে হবে এবং সাংবাদিকতায় জনগণের আশা-আকাঙ্খার প্রতিফল ঘটাতে হবে।

নিউইয়র্ক বাংলাদেশ প্রেসক্লাব আয়োজিত এক সভায় প্রবাসী বাংলাদেশী সাংবাদিকদের সাথে মতবিনিময়কালে রিয়াজউদ্দিন আহমেদ উপরোক্ত কথা বলেন। গত ১৩ জুলাই শনিবার  সন্ধ্যায় সিটির জ্যাকসন হাইটসের বাংলাদেশ প্লাজা মিলনায়তনে এই সভার আয়োজন করা হয়। সভায় সদ্য প্রয়াত বাংলাদেশের চারজন সাংবাদিক যথাক্রমে প্রিন্ট ও ইলেক্ট্রনিক মিডিয়ার ব্যক্তিত্ব মুহাম্মদ জাহাঙ্গীর, মুক্তিযোদ্ধা ও ক্রীড়া সাংবাদিক অজয় বড়ুয়া, ক্রাইম রিপোর্টাস এসোসিয়েশন (ক্র্যাব)-এর সাবেক সভাপতি সৈয়দ আখতারুজ্জামান সিদ্দিকী লাবলু এবং হাসান আরেফিন-এর প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানানো হয়।

প্রেসক্লাবের সভাপতি ও সাপ্তাহিক বাংলাদেশ সম্পাদক ডা. ওয়াজেদ এ খানের সভাপতিত্বে আয়োজিত অনুষ্ঠানের শুরুতেই পবিত্র কোরআন থেকে তেলাওয়াত এবং প্রায়ত চারজন সাংবাদিকদের বিদেহী আত্মার শান্তি কামনায় বিশেষ মুনাজাত করেন ক্লাবের কার্যকরী সদস্য ও ইয়র্ক বাংলা সম্পাদক  রশীদ আহমদ। অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক শিবলী চৌধুরী কায়েস।

পরবর্তীতে আলোচনায় অংশ নেন প্রবীণ সাংবাদিক সৈয়দ মোহাম্মদ উল্লাহ, প্রেসক্লাবের অন্যতম উপদেষ্টা ও আজকাল সম্পাদক মনজুর আহমদ চৌধুরী, উপদেষ্টা নিনি ওয়াহেদ ও মঈনুদ্দীন নাসের, বিশিষ্ট অভিনেত্রী রেখা আহমদ, ভয়েস অব আমেরিকা’র নিউইয়র্ক প্রতিনিধি আকবর হায়দার কিরণ, ক্লাবের সহ সভাপতি মনোয়ারুল ইসলাম, সাবেক সাধারণ সম্পাদক শেখ সিরাজুল ইসলাম ও সাংগঠনিক সম্পাদক চৌধুরী মোহাম্মদ কাজল, বিএফইউজে’র সাবেক দপ্তর সম্পাদক ইমরান আনসারী, আমেরিকা বাংলাদেশ প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক শাহাব উদ্দীন সাগর, সাপ্তাহিক ঠিকানা’র বার্তা সম্পাদক মিজানুর রহমান, সাংবাদিক মঈন উদ্দিন আহমেদ ও মুজাহিদ আনসারী।

অনুষ্ঠানে রিয়াজ উদ্দিন আহমেদ মরহুম সাংবাদিক মুহাম্মদ জাহাঙ্গীরের স্মৃতিচারণ করে বলেন, তিনি আপাদমস্তক সাংবাদিক ছিলেন। ছিলেন ইলেক্ট্রনিক মিডিয়ার অ্যাঙ্করের পথিকৃত। তিনি অন্যান্য সাংবাদিকদেরও বিদেহী আত্মার  শান্তি কামনা বলেন। তিনি বলেন, বাংলাদেশের ইতিহাসে ৬০-এর দশক ছিলো সাংবাদিকতার স্বর্ণযুগ। ৮০’র দশকের পর সাংবাদিকতা আর সত্যিকারের সাংবাদিকতা নেই। তিনি বলেন, এখন দেশের সাংবাদিকতার অবস্থা সবাই অবগত। আমরা দেশে থেকে যা জানি না, প্রবাসীরা বিদেশে থেকে তা জানেন। আর বিভক্তি কোথায় নেই। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, ডাক্তাররাও তো আজ বিভক্ত। এই বিভক্তির জন্য দেশের রাজনৈতিক দৈন্যতাই দায়ী। দেশের রাজনীতি সহ সমাজে আজ নীতি, নৈতিকতা, মূলবোধ নেই। ফলে যা হবার তাই হচ্ছে। এর মধ্যেও এগিয়ে যেতে হবে। তিনি বলেন, সকল অনৈতিকতার বিরুদ্ধে দেশের মানুষের মনে বিপ্লবের আকাঙ্খা রয়েছে। কিন্তু বিপ্লব হতে নেতা লাগে, সঠিক নেতৃত্ব লাগে। সেই নীতিবান নেতা কোথায়….?

রিয়াজ উদ্দিন আহমেদ বলেন, আইয়্যুব খানের সময় থেকেই ডিজিটাল অ্যাক্ট আইনের মতো আইন বলবৎ ছিলো। ৯০-এ সেই আইনের নিবর্তনমূলক কালাকানুন বাতিল হলেও আবার বর্তমানে নতুন করে চ্যালেঞ্জের মুখে পড়ছে সাংবাদিকতা। সকল মহলের চাপ আর কালাকানুন চ্যালেঞ্জ করেই সাংবাদিকদের সাহসিকতার সাথে এগিয়ে যেতে হবে। তিনি বলেন, দুষ্টু চক্রের রাজনীতির কারণে বাংলাদেশের সাংবাদিকতা সহ সকল ক্ষেত্রেই ধ্বস নেমেছে।

মনজুর আহমদ বলেন, বাংলাদেশে বাকশাল কায়েমের সময়-ই সাংবাদিকদের মধ্যে বিভেদ-বিভক্তির সূত্রপাত হয়। যে বিভেদ-বিভক্তি আজ চরম আকার ধারণ করেছে। আর এই বিভক্তির জন্য সাংবাদিক দম্পতি সাগর-রুনী হত্যার বিচার হচ্ছে না।

নিনি ওয়াহেদ বলেন, আমাদের সময়ে সাংবাদিকদের মধ্যে মত-পার্থক্য ছিলো কিন্তু বিরোধ-বিভক্তি বা অসম্মান ছিলো না। সেই সাথে সাংবাদিকতায় ছিলো সততা আর সৎ সাহস। যা এখন চিন্তাও করা যায় না।

মঈনুদ্দীর নাসের বলেন, সাংবাদিকদের বিভেদ-বিভক্তি আর লেজুরবৃত্তির কারণে সাংবাদিকরা আজ মর্যাদা পাচ্ছে না। দাবী-দাওয়ার জন্য আন্দোলন হয় না, আন্দোলনের প্রয়োজন পড়ে না। সাগর-রুনীর বিচার এখনও হয়নি।

আবু তাহের বলেন, আমাদের কাছে যারা সাংবাদিকতার আইকন তাদের মধ্যে রিয়াজ উদ্দিন আহমেদ একজন। রিয়াজ উদ্দিন, গিয়াস কামালদের অনুস্মরণ করেই আমরা সাংবাদিকতা শিখেছি।

মাহফুজুর রহমান বলেন, দেশের সাংবাদিকতায় আজ সম্মান নেই, সততা নেই। সাংবাদিকদের বিভক্তি পেশার মর্যাদা ক্ষুন্ন করছে।

অনুষ্ঠানে বক্তাদের আলোচনায় বাংলাদেশের প্রথিতযশা সাংবাদিক তোফজ্জল হোসেন মানিক মিয়া, এবিএম মুসা নির্মল সেন, আনোয়ার জাহিদ, আতাউস সামাদ, গিয়াস কামাল চৌধুরী, কামাল লোহানী প্রমুখের পেশাদারিত্বপূর্ণ কর্মকান্ডের কথাও উঠে আসে এবং তাদের আদর্শ অনুস্মরণের উপর গুরুত্বারোপ করা হয়। বক্তারা সদস্য প্রয়াত সাংবাদিকদের স্মৃতি চারণ করে তাদের বিদেহী আত্মার শান্তি কামনা করেন।

সভাপতির বক্তব্যে ডা. ওয়াজেদ এ খান তার বক্তব্যে দেশে স্বাধীন সাংবাকিতার পাশাপাশি ন্যায় বিচার, আইনের শাসন, মানবাধিকার আর গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার দাবী জানান।

অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে বাংলাদেশ সোসাইটির সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক প্রধান নির্বাচন কমিশনার মোহাম্মদ হোসেন খান, কমিউনিটি অ্যক্টিভিষ্ট মুক্তিযোদ্ধা খন্দকার ফরহাদ, সাপ্তাহিক জন্মভূমি সম্পাদক রতন তালুকদার, সাপ্তাহিক প্রবাস সম্পাদক মোহাম্মদ সাঈদ সহ প্রেসক্লাবের সাবেক সাধারণ সম্পাদক এবিএম সালাহউদ্দিন আহমেদ, যুগ্ম সম্পাদক আলমগীর সরকার, বাংলা ভিশন-এর নিউইয়র্ক প্রতিনিধি নিহার সিদ্দিকী, ফটো সাংবাদিক এ হাই স্বপন ও শাহ জে চৌধুরী এবং কমিউনিটি অ্যাক্টিভিষ্ট হুমরান আনসারী ও ফারুক উপস্থিত ছিলেন।

আরো সংবাদ

1 min read

জম্মু-কাশ্মীর সমস্যা নিয়ে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান কাশ্মীর সংক্রান্ত কোর গ্রুপ বৈঠকে সভাপতিত্ব করেছেন। এতে কাশ্মীরের বিষয়টি বিশ্বব্যাপী তুলে ধরতে পাকিস্তানের আরও প্রচেষ্টার আলোচনা হয়েছে। এ বৈঠকে অংশগ্রহণ করেন দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী শাহ মাহমুদ কোরইশি, আইন ও বিচারমন্ত্রী ফারোগ নাসিম, কাশ্মীরের সম্পর্কিত সংসদীয় কমিটির সভাপতি, প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী তথ্য ও সম্প্রচার ড. ফিরদাউস আশিক আওয়ান এবং অ্যাটর্নি জেনারেল অব পাকিস্তান উপস্থিত ছিলেন। বিশ্বজুড়ে কাশ্মীরের পরিস্থিতি তুলে ধরতে পাকিস্তানের রাজনৈতিক, কূটনৈতিক, আইনি এবং মিডিয়া প্রচেষ্টাকে আরও যুক্ত করার পদক্ষেপে একমত হয়েছেন। এর আগে পররাষ্ট্র দফতরের মুখপাত্র ড. মোহাম্মদ ফয়সাল এক বিবৃতিতে বলেন, খাদ্য ও ওষুধের ঘাটতি হওয়ায় এ অঞ্চলটি মানবিক সংকটের অপেক্ষায় রয়েছে, যা জনগণের বিশেষত প্রবীণ, মহিলা ও শিশুদের জীবনকে ঝুঁকিপূর্ণ করছে। ভারতীয় বাহিনী দীর্ঘদিন ধরেই উপত্যকায় নৃশংস উপায়ে বিদ্রোহ দমন করে আসছে। ইতিমধ্যে বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চল মোতায়েনকৃত সেনা হিসেবে অতিরিক্ত সেনা এ অঞ্চলে মোতায়েন করা হয়েছে। এতে কারফিউ আরোপ করা হয়েছে। ৫ আগস্ট ভারত সরকার কাশ্মীরের বিশেষ মর্যাদা বাতিল করার পর থেকেই যোগাযোগের অচলাবস্থা সৃষ্টি করা হয়েছে; শীর্ষস্থানীয় কাশ্মীরি নেতাদের গ্রেফতার করা হয়েছে। জিয়ো টিভির প্রতিবেদনে বলা হয়ছে, জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদ (ইউএনএসসি), মানবাধিকার সংস্থা এবং আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম কাশ্মীরিদের ওপর দেয়া কারফিউ ও কাশ্মীরি জনগণের ভোগান্তি নিরসনের আহ্বান জানিয়েছিল। অধিকৃত কাশ্মীরের অবস্থা বিশ্লেষণ করে আন্তর্জাতিক স্বীকৃতির জন্যও আহ্বান করা হয়েছে। কাশ্মীর কোর গ্রুপও অধিকৃত কাশ্মীরে বসবাসকারী জনগণকে তাদের নিজস্ব অধিকার ফিরিয়ে দেয়া এবং উপত্যকায় আটকেপড়া লোকদের পাকিস্তানের সহায়তার কথা উত্থাপন করা হয়।

আজকের খবর

1 min read

জম্মু-কাশ্মীর সমস্যা নিয়ে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান কাশ্মীর সংক্রান্ত কোর গ্রুপ বৈঠকে সভাপতিত্ব করেছেন। এতে কাশ্মীরের বিষয়টি বিশ্বব্যাপী তুলে ধরতে পাকিস্তানের আরও প্রচেষ্টার আলোচনা হয়েছে। এ বৈঠকে অংশগ্রহণ করেন দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী শাহ মাহমুদ কোরইশি, আইন ও বিচারমন্ত্রী ফারোগ নাসিম, কাশ্মীরের সম্পর্কিত সংসদীয় কমিটির সভাপতি, প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী তথ্য ও সম্প্রচার ড. ফিরদাউস আশিক আওয়ান এবং অ্যাটর্নি জেনারেল অব পাকিস্তান উপস্থিত ছিলেন। বিশ্বজুড়ে কাশ্মীরের পরিস্থিতি তুলে ধরতে পাকিস্তানের রাজনৈতিক, কূটনৈতিক, আইনি এবং মিডিয়া প্রচেষ্টাকে আরও যুক্ত করার পদক্ষেপে একমত হয়েছেন। এর আগে পররাষ্ট্র দফতরের মুখপাত্র ড. মোহাম্মদ ফয়সাল এক বিবৃতিতে বলেন, খাদ্য ও ওষুধের ঘাটতি হওয়ায় এ অঞ্চলটি মানবিক সংকটের অপেক্ষায় রয়েছে, যা জনগণের বিশেষত প্রবীণ, মহিলা ও শিশুদের জীবনকে ঝুঁকিপূর্ণ করছে। ভারতীয় বাহিনী দীর্ঘদিন ধরেই উপত্যকায় নৃশংস উপায়ে বিদ্রোহ দমন করে আসছে। ইতিমধ্যে বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চল মোতায়েনকৃত সেনা হিসেবে অতিরিক্ত সেনা এ অঞ্চলে মোতায়েন করা হয়েছে। এতে কারফিউ আরোপ করা হয়েছে। ৫ আগস্ট ভারত সরকার কাশ্মীরের বিশেষ মর্যাদা বাতিল করার পর থেকেই যোগাযোগের অচলাবস্থা সৃষ্টি করা হয়েছে; শীর্ষস্থানীয় কাশ্মীরি নেতাদের গ্রেফতার করা হয়েছে। জিয়ো টিভির প্রতিবেদনে বলা হয়ছে, জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদ (ইউএনএসসি), মানবাধিকার সংস্থা এবং আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম কাশ্মীরিদের ওপর দেয়া কারফিউ ও কাশ্মীরি জনগণের ভোগান্তি নিরসনের আহ্বান জানিয়েছিল। অধিকৃত কাশ্মীরের অবস্থা বিশ্লেষণ করে আন্তর্জাতিক স্বীকৃতির জন্যও আহ্বান করা হয়েছে। কাশ্মীর কোর গ্রুপও অধিকৃত কাশ্মীরে বসবাসকারী জনগণকে তাদের নিজস্ব অধিকার ফিরিয়ে দেয়া এবং উপত্যকায় আটকেপড়া লোকদের পাকিস্তানের সহায়তার কথা উত্থাপন করা হয়।

Copyright © Banglanewsus.com All rights reserved. | Developed By by Positive it USA.

Developed By Positive itUSA