নিউইয়র্ক সিটিকে বাংলাদেশী আমেরিকানরা কিভাবে নেতৃত্ব দিবে

প্রকাশিত:রবিবার, ২৭ সেপ্টে ২০২০ ০২:০৯

নিউইয়র্ক সিটিকে বাংলাদেশী আমেরিকানরা কিভাবে নেতৃত্ব দিবে

নিউইয়র্ক সিটিকে বিশ্বের রাজধানী বলা হয় , কারন জাতিসংঘের সদর দপ্তর এখানে অবস্হিত ৷ বিশ্বের ১৯৫ দেশের প্রতিনিধি এই শহরে বাস করেন ৷নিউইয়র্ক সিটির জনসংখ্যা ৮৪ লক্ষ উপরে, এর মধ্যে সাদা ৪২%, হিস্পানিক ২৬%, কালো ২৪%, এশিয়ান ৮% ৷ নিউইয়র্ক সিটির জন্য আইন প্রনয়ণ করেন ৫১ কাউন্সিলম্যান ৷ নিউইয়র্ক সিটিকে পাঁচটি বরোতে ভাগ করা হয়েছে , প্রতিটি বরোতে একজন করে বরো প্রেসিডেন্ট ও ডিষ্ট্রিক এটর্ণী নির্বাচিত হন ৷ নিউইয়র্ক সিটি থেকে একজন মেয়র, একজন পাবলিক এডভোকেট ও একজন সিটি কন্ট্রোলার নির্বাচিত হন ৷ নিউইয়র্ক সিটিতে গরীর লোকদের জন্য শিক্ষা, স্বাস্হ্য ও বাসস্হানের বিশেষ সুবিধা আছে ৷ নিউইয়র্ক সিটিকে নেতৃত্ব দিতে হলে নাগরিকদের নিরাপত্তা, ধনী গরীবের ব্যবধান ও সরকারী সুযোগ সুবিধাগুলি সাধারন মানুষের কাছে পৌছানোর ব্যবস্হা করতে পারলে সাধারন মানুষের মন জয় করে নির্বাচিত প্রতিনিধি হয়ে এই সিটিকে নেতৃত্ব দেওয়া যাবে ৷

নিরাপত্তা ঃ—-নিউইয়র্ক সিটিতে ডাকাতি, ধর্ষণ ও হেইট ক্রাইমের শিকার হয় অনেক মানুষ ৷ বাংলাদেশীরাও এর শিকার ,এর সমাধান হল নিজ নিজ এলাকার নির্বাচিত প্রতিনিধিদের নিয়ে পুলিশের সহায়তায় সমস্যার সমাধান করা ৷
ধনী ও গরীবের ব্যবধানঃ————- নিউইয়র্ক সিটিতে ধনী গরীবের ব্যবধান প্রকট আকার করেছে ৷ বিভিন্ন পত্র পত্রিকার হিসাব মতে বড় কর্পোরেশনে অনেক কর্ম কর্তা ৭০ মিলিয়ন, ৫০ মিলিয়ন, ৫ ও ১০ মিলিয়ন ডলার বেতন ভাতা বছরে গ্রহন করেন ৷ অন্যদিকে নিন্ম আয়ের লোকেরা বছরে ১৫ হাজার ডলার রুজি করতে পারে না৷ নিউইয়র্ক সিটিতে এক বেডরুমের ঘরভাড়া ১৪-১৫ শত ডলার মাসে ৷ তাই নিউইয়র্ক সিটিতে গরীর লোকদের বসবাস করা কঠিন হয়ে যাচ্ছে ৷ধনী ও গরীবের ব্যবধান কমাতে প্রথম কাজ হবে প্রত্যেক গ্রুপের জনসংখ্যা অনুযায়ী সিটি, স্টেট ও ফেডারেল গভর্ণমেন্টের ব্যবসায়ের কন্ঠাক্ট ও জব পাওয়ার ব্যবস্হা করলে এবং গরীব লোকদের জন্য সিটি স্টেট ও ফেডারেল ফান্ডের মাধ্যমে ছোট ছোট ব্যবসায়ের সুযোগ করে দিলে গরীব লোকদের আয় বেড়ে যাবে, নিউইয়র্ক সিটিতে ডঃ মোহাম্মদ ইউনুসের মাক্রক্রেডিট ও সামাজিক ব্যবসায়ের অফিস আছে, তাহাদের সুবিধা নিতে পারেন ৷ এইসব কাজ করতে পারলে জনগনের মন জয় করে নির্বাচিত প্রতিনিধি হতে পারেন ৷নিউইয়র্ক সিটিকে নেতৃত্ব দেওয়ার জন্য ৫১ টি কাউন্সিল ডিষ্ট্রিক এলাকায় বাংলাদেশী যারা রাজনীতিতে উৎসাহী নিজে সংগঠন করে এলাকার মানুষের উন্নয়নে কাজ আরম্ভ করুন৷ সময়ের সাথে আপনিও এলাকার জনগণের মন জয় করে কাউন্সিলম্যান হতে পারবেন ইনশাল্লাহ ৷রাজনীতিতে উৎসাহী হলে প্রথম কাজ হল রাজনৈতিক দলের পলিটিকেল ক্লাবের মেম্বার হওয়া ৷ নিউইয়র্ক সিটি ডেমোক্রেটদের দখলে ৷ তাই ডেমোক্রেটিক ক্লাবের মেম্বার হওয়া ৷২০-২৫ডলার দিয়ে মেম্বার হওয়া যায় ৷ ক্লাবের মেম্বার হলে প্রতি মাসে ক্লাবের মিটিংয়ে নির্বাচিত মেম্বারদের সাথে দেখা হবে, তখন এলাকার সাধারন লোকের উন্নয়নে কথা বলবেন ও সমস্যা সমাধানে কাজ করবেন ৷এছাড়া নিউইয়র্ক সিটির বিভিন্ন সার্ভিস জনগণের নিকট ঠিকমত পৌছানোর জন্য ৫৯ কমিউনিটি বোর্ড আছে ৷ কমিউনিটি বোর্ডের মেম্বার হতে হলে কাউন্সিলম্যান অথবা বরো প্রেসিডেন্টের সমর্থনে হওয়া যায় ৷ আমি নিজে ২০০৩সালে কমিউনিটি বোর্ডের মেম্বার ছিলাম ৷ ২০০২ সালে ডেমোক্রেটিক ক্লাবের মেম্বার হয়ে ডেমোক্রেটিক পার্টির কাউন্টি কমিটির নির্বাচিত মেম্বার ৷আমেরিকায় ৭-৮ লক্ষ বাংলাদেশী আছেন এর মধ্যে ৫ হাজার ইঞ্জিনিয়ার, ২ হাজার ডাক্তার, ৮ শত ফার্মাসিষ্ট,৩০ হাজার বাড়ীর মালিক ৷ নিউইয়র্কে বাংলাদেশী আমেরিকানদের সংখ্য ৩ লক্ষের উপরে হবে ৷বাংলাদেশী আমেরিকানরা টাক্স দিয়ে তাদের মেধা ও জ্ঞান দিয়ে আমেরিকার উন্নয়নে কাজ করে যাচ্ছেন ৷ আমেরিকার সর্বউচ্চ বিল্ডিং সিয়ার্স টাওয়ার
তৈরী করেন বাংলাদেশী আমেরিকান ডঃ ফজলুর রহমান খান ডঃআতাউল করিম ইলেট্রনিক মেগনেটিক ট্রেনের ফরমুলা আবিষ্কার করেন ৷ নিউইয়র্ক সিটির মেয়রের বেতন ২লক্ষ ৫৮ হাজার ৭শত ৫০ ডলার, বরো প্রেসিডেন্টের বেতন ১লক্ষ ৬০ হাজার ডলার , কাউন্সিলম্যানের বেতন ১লক্ষ ৪৮ হাজার ৫শত ডলার ৷নিউইয়র্কের বাজেট ৯২.২ বিলিয়ন ডলার এবং ৩লক্ষ ২৫ হাজার সিটির কর্মচারী আছেন ৷ আল্লাহ আমাদের সহায় হউন ৷

হাসান আলী, প্রেসিডেন্ট অর্গানাইজেশন অব বাংলাদেশী আমেরিকান্স ও কনভেনার গ্লোবাল ভিলেজ লিডারশিপ কমিটি ইউএসএ ৷

এই সংবাদটি 1,231 বার পড়া হয়েছে

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন।
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •