নৌপথে ঝুঁকিমুক্ত চলাচল নিশ্চিত করতে হবে

প্রকাশিত:সোমবার, ৩০ নভে ২০২০ ০১:১১

নৌপথে ঝুঁকিমুক্ত চলাচল নিশ্চিত করতে হবে

সম্পাদকীয় বর্তমানে সারা দেশে অন্তত ৪০০ সানকেন ডেক বিশিষ্ট লঞ্চযাত্রী বহন করছে। সর্বশেষ বুড়িগঙ্গায় এমভি ময়ূর-২ লঞ্চের ধাক্কায় ডুবে যাওয়া এমএল মর্নিং বার্ডও ‘সানকেন ডেকবিশিষ্ট’ লঞ্চ ছিল। নৌপরিবহন অধিদফতরের তথ্য অনুযায়ী, সারা দেশে ১২ হাজার ৯৫৯টি বিভিন্ন ধরনের নিবন্ধিত নৌযান রয়েছে। এর মধ্যে ৮৩৯টি যাত্রীবাহী নৌযান। সানকেন ডেকবিশিষ্ট লঞ্চগুলো এতটাই ঝুঁকিপূর্ণ যে, কাত হয়ে অথবা অন্য কোনোভাবে এ লঞ্চের ভেতরে পানি ঢুকে গেলে কয়েক সেকেন্ডের মধ্যেই সেটি ডুবে যায় এবং কাঠামোগত কারণে এ লঞ্চের ভেতরে অবস্থান করা যাত্রীরা সহজে বের হতে পারে না। এর ফলে প্রাণহানির সংখ্যা বাড়ে। ১৯৭৭ থেকে ২০১১ সালের মাঝামাঝি পর্যন্ত অন্তত ৪০৪টি নৌদুর্ঘটনায় কমপক্ষে চার হাজার মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন। নৌপথে দুর্ঘটনার কারণগুলো চিহ্নিত করার লক্ষ্যে পরিচালিত এক গবেষণা প্রতিবেদনে ত্রুটিপূর্ণ নৌযান, মাস্টার-চালক ও ইঞ্জিন অপারেটরের অদক্ষতা, অতিরিক্ত যাত্রী ও মালামাল বহন, পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থার অভাব, বায়ু প্রবাহ ব্যবস্থা না থাকাসহ আবহাওয়া আইন অমান্য করার কথা বলা হয়েছে। সেই সঙ্গে রাত্রিকালীন চলাচলের অনুপযোগী নৌযান রাতে চলাচল করা, নকশা অনুযায়ী নৌযান নির্মাণ না করা এবং যাত্রীসাধারণের অসচেতনতাকে দায়ী করার পাশাপাশি দুর্ঘটনার তদন্ত প্রতিবেদন বাস্তবায়ন সম্পর্কে উদাসীন থাকাকে নৌদুর্ঘটনার অন্যতম কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।সরকার এ খাতে বিদ্যমান সব ধরনের অনিয়ম রোধে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করবে।

এই সংবাদটি 1,232 বার পড়া হয়েছে

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন।
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ