নড়াইল গন্ডব সেতু ৯ মাসেও চালু হয়নি

প্রকাশিত:বৃহস্পতিবার, ০৮ অক্টো ২০২০ ১০:১০

নড়াইল গন্ডব সেতু ৯ মাসেও চালু হয়নি

 

রাজিয়া সুলতানা,নড়াইল :
সংযোগ সড়ক নির্মাণ জটিলতায় গত ৯ মাসেও চালু হয়নি তুষখালী দোয়ার ওপর নির্মিত গন্ডব সেতু। নড়াইলের কাশিপুর ইউনিয়নে নির্ধারিত সময়ের আড়াই বছর পর চলতি বছরের প্রথম দিকে সেতুটির নির্মাণ কাজ শেষ হয়। জমির মালিকরা ক্ষতিপূরণের দাবিতে আদালতে মামলা করায় স্থগিত হয়ে যায় সড়ক সড়ক নির্মাণের কাজ। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বলছেন নতুন নকশা প্রণয়নের মাধ্যমে খুব দ্রুত সংযোগ সড়কের নির্মাণ কাজ শুরু হবে। সেতুটি চালু হলে চারটি ইউনিয়নের অর্ধশতাধিক গ্রামের মানুষ উপকৃত হবে।

স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) নড়াইল জেলা কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, কাশিপুর ইউনিয়নের গন্ডবগ্রামে তুষখালী দোয়ার ওপর ২০১৬ সালের এপ্রিল মাসে সেতুটির নির্মাণ কাজ শুরু হয়। ১০ কোটি ১৯ লাখ ৮১ হাজার টাকা ব্যয়ে ১৭৫ মিটার দৈর্ঘ্য ও ২৪ ফুট প্রস্থ বিশিষ্ট পিসি গার্ডার সেতুর নির্মাণকাজ শেষ হওয়ার কথা ছিলো ২০১৭ সালের ২২ অক্টোবর।
নির্ধারিত সময়ের আড়াই বছর পর চলতি বছরের শুরুর দিকে সেতুটির নির্মাণকাজ শেষ হয়। এরপর এরপর সংযোগ সড়ক নির্মাণকালে জমি নিয়ে জটিলতার সৃষ্টি হয়। সংযোগ সড়ক প্রশস্ত হওয়ায় উভয়পাশে ব্যক্তি মালিকানা জমির প্রয়োজন হয়। কিন্তু ক্ষতিপূরণ না দেওয়ায় জমির মালিকরা ক্ষতিপূরণ ছাড়া জমি দিতে অস্বীকৃতি জানায়। এক পর্যায়ে ক্ষতিপূরণের জন্য ভুক্তভোগী পরিবারগুলি আদালতে মামলা করেন।

ক্ষতিগ্রস্থ জমির মালিক কাশিপুর ইউপি সদস্য মোঃ ইব্রাহিম হোসেন বলেন, ‘ আমাদের কয়েকজন শরীকের মোট ৬০ শতাংশ জমি সেতুর সংযোগ সড়ক নির্মাণের জন্য প্রয়োজন। আমরা গরীব মানুষ। তাই এতো জমি বিনামুল্যে ছেড়ে দেওয়া সম্ভব নয়। রাস্তার পাশের এই জমি প্রতি শতকের বর্তমান বাজার মুল্য আছে ৫০ হাজার টাকা করে। আমাদেরকে ক্ষতিপূরণ দিতে হবে। সেতুটি চালু না হওয়ায় কাশিপুর, নোয়াগ্রাম, শালনগর ও লাহুড়িয়া এই চারটি ইউনিয়নের অর্ধশতাধিক মানুষের চরম দুর্ভোগ রয়েই গেছে।

এলজিইডি নড়াইলের নির্বাহী প্রকৌশলী বিধান চন্দ্র সোমদ্দার বলেন, ‘গন্ডবগ্রামে তুষখালী দোয়ার ওপর সেতু নির্মাণের কাজ বেশ আগেই শেষ হয়েছে। সেতুটির স্টিমেট করার সময় জমির মালিকরা কোন আপত্তি করেনি। যার কারনে স্টিমেটে জমি কেনার হিসাবটি বাদ পড়ে যায়। সেতু নির্মাণ শেষ হওয়ার পর জমির মালিকরা ক্ষতিপূরণ দাবি করছেন। যার কারনে সংযোগ সড়ক নির্মাণে জটিলতার সৃষ্টি হয়েছে। তবে জমির জটিলতার কারনে নতুন করে দুপাশের নকশা করা হয়েছে। ইতিমধ্যে অনুমোদন হয়েছে। আশা করি খুব দ্রুত সড়কটির দুপাশে সংযোগ সড়ক নির্মাণ কাজ শুরু করতে পারবো।

এই সংবাদটি 1,226 বার পড়া হয়েছে

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন।
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ